ঢাকা ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

ঐতিহাসিক বৈরান নদী আজও কালের সাক্ষী হয়ে তার তেজস্বিনী

বৈরান নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি মূলত এই অঞ্চলের কৃষি, বাণিজ্য এবং প্রাচীন জনপদ গড়ে ওঠার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। দৈর্ঘ্য ও বিস্তৃতি: গড় প্রস্থ ৪৭ মিটার। এটি একটি সর্পিলাকার বা আঁকাবাঁকা প্রকৃতির নদী, যার অববাহিকার আয়তন প্রায় ১৫০ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক নদীটিকে উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের “নদী নং ৪৮” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, নামকরণের ইতিহাস , লোকমুখে প্রচলিত আছে, ‘বিরান’ শব্দ থেকে ‘বৈরান’ নামের উৎপত্তি। অতীতে বর্ষাকালে এই নদী এতটাই খরস্রোতা ও প্রমত্তা রূপ ধারণ করত যে, এর ভাঙনে দুপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ‘বিরান’ বা জনশূন্য হয়ে যেত। সেই ধ্বংসাত্মক রূপ থেকেই কালক্রমে নদীটির নাম হয় বৈরান। ধনবাড়ী জমিদার বাড়ির স্মৃতি: টাঙ্গাইলের বিখ্যাত ধনবাড়ী জমিদার বাড়ী এবং নওয়াব আলী চৌধুরীর ইতিহাস এই বৈরান নদীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় এই নদীকে কেন্দ্র করেই জমিদারির ব্যবসা-বাণিজ্য ও নৌযোগাযোগ পরিচালিত হতো। টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ধনবাড়ী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি সেচ ও মৎস্য আহরণের প্রধান উৎস ছিল এই বৈরান নদী। নদী তীরবর্তী পলল ভূমি এই অঞ্চলের মাটিকে অত্যন্ত উর্বর করে তুলেছে। কালের বিবর্তনে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পলি জমার কারণে নদীটি তার পূর্বের নাব্যতা ও প্রমত্তা রূপ হারালে , গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নদীটি পূর্ণ সংস্কার করে দেওয়া হয়। যার ফলে কিছুটা হলেও নব্যতা কমেছে। বর্তমানে এটি মূলত একটি মৃতপ্রায় বা সংকুচিত নদীতে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা কেবল বর্ষাকালে পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

ঐতিহাসিক বৈরান নদী আজও কালের সাক্ষী হয়ে তার তেজস্বিনী

আপডেট সময় ০৮:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বৈরান নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি মূলত এই অঞ্চলের কৃষি, বাণিজ্য এবং প্রাচীন জনপদ গড়ে ওঠার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। দৈর্ঘ্য ও বিস্তৃতি: গড় প্রস্থ ৪৭ মিটার। এটি একটি সর্পিলাকার বা আঁকাবাঁকা প্রকৃতির নদী, যার অববাহিকার আয়তন প্রায় ১৫০ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক নদীটিকে উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের “নদী নং ৪৮” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, নামকরণের ইতিহাস , লোকমুখে প্রচলিত আছে, ‘বিরান’ শব্দ থেকে ‘বৈরান’ নামের উৎপত্তি। অতীতে বর্ষাকালে এই নদী এতটাই খরস্রোতা ও প্রমত্তা রূপ ধারণ করত যে, এর ভাঙনে দুপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ‘বিরান’ বা জনশূন্য হয়ে যেত। সেই ধ্বংসাত্মক রূপ থেকেই কালক্রমে নদীটির নাম হয় বৈরান। ধনবাড়ী জমিদার বাড়ির স্মৃতি: টাঙ্গাইলের বিখ্যাত ধনবাড়ী জমিদার বাড়ী এবং নওয়াব আলী চৌধুরীর ইতিহাস এই বৈরান নদীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় এই নদীকে কেন্দ্র করেই জমিদারির ব্যবসা-বাণিজ্য ও নৌযোগাযোগ পরিচালিত হতো। টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ধনবাড়ী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি সেচ ও মৎস্য আহরণের প্রধান উৎস ছিল এই বৈরান নদী। নদী তীরবর্তী পলল ভূমি এই অঞ্চলের মাটিকে অত্যন্ত উর্বর করে তুলেছে। কালের বিবর্তনে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পলি জমার কারণে নদীটি তার পূর্বের নাব্যতা ও প্রমত্তা রূপ হারালে , গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নদীটি পূর্ণ সংস্কার করে দেওয়া হয়। যার ফলে কিছুটা হলেও নব্যতা কমেছে। বর্তমানে এটি মূলত একটি মৃতপ্রায় বা সংকুচিত নদীতে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা কেবল বর্ষাকালে পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়।