ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

ধনবাড়ী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার পরিচিত টক মিষ্টি দেশীয় ডেউয়া ফল

এক সময় গ্রামবাংলার মেঠোপথ, বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা বনজঙ্গলে চোখে পড়ত ডেউয়া গাছ। গ্রীষ্মের শুরুতে গাছভর্তি হলুদ রঙের ডেউয়া ফলের টক-মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। শিশু-কিশোরদের কাছে এটি ছিল এক বিশেষ আকর্ষণের দেশীয় ফল। অঞ্চলভেদে ডেউয়া, ঢেউয়া, মাদার কিংবা বনকাঁঠাল নামে পরিচিত এই ফল আজ সময়ের বিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ২৮(জুলাই) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা যদুনাথ পুর ইউনিয়নের মমিনপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি পুরোনো টিনের চালাঘরের ওপর গাছটি ডালপালা মেলে আছে। বড় বড় পাতার আড়ালে ডালগুলোয় থোকায় থোকায় ডেউয়া ধরেছে। কচি কাঁঠালের মতো ছোট ছোট গুচ্ছবদ্ধ ফল ঝুলে আছে। কোথাও চার-পাঁচটা, কোথাও দু–একটা। হলুদ হয়ে আসা কিছু ফল মাটিতে ঝরে পড়েছে। ডেউয়া দেখতে অনেকটা ছোট কাঁঠালের মতো। একসময় গ্রামীণ জনপদে অন্য সব গাছের ভিড়ে ডেউয়া ফল আলাদা করে চোখে পড়ত। থোকায় থোকায় কাঁচা-পাকা ফলে ভরে উঠত গাছ। ফলটির উপকারিতা সম্পর্কে মানুষের কম জানাসহ নানা কারণে ফলটি এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। শহরে এই ফলের দেখা পাওয়া দুর্লভ, অনেক গ্রামেই এখন ফলটির দেখা পাওয়া যায় না। ধনবাড়ীতে‘ডেউয়া’ নামে বেশি পরিচিত হলেও ঢেউয়া, মাদার, ডেউফল, ঢেউফল, বনকাঁঠাল, বত্তাসহ স্থানভেদে বিভিন্ন নামে পরিচিত। দেখতে এবড়োখেবড়ো। ফল গোলাকৃতির, ২ থেকে ৫ ইঞ্চি চওড়া। প্রতিটি ফল ২০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা। স্ত্রী ফুল থেকে ফল হয়। ফল কাঁঠালের মতো যৌগিক বা গুচ্ছ। পাকলে ভেতরে কাঁঠালের মতো কোয়া (কোষ) হয়। প্রতিটি ফলে ২০ থেকে ৩০টি কোয়া ও বীজ থাকে। বীজের গায়ের মাংসল অংশ খাওয়া হয়। কোষগুলো হলুদ রঙের। পাকা কোষ নরম, মোলায়েম। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ হয়। ডেউয়ার ভেতরের শাঁস লালচে হলুদ। কাঁচা থাকতে ফলের স্বাদ টক। পাকলে টক–মিষ্টি স্বাদের। রান্না করেও ডেউয়া খাওয়া যায়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জন্মে। একসময় গ্রামবাংলার অতি পরিচিত এই ফল আজ স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা, দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে এখনই ডেউয়াসহ সব দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

ধনবাড়ী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার পরিচিত টক মিষ্টি দেশীয় ডেউয়া ফল

আপডেট সময় ০৯:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

এক সময় গ্রামবাংলার মেঠোপথ, বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা বনজঙ্গলে চোখে পড়ত ডেউয়া গাছ। গ্রীষ্মের শুরুতে গাছভর্তি হলুদ রঙের ডেউয়া ফলের টক-মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। শিশু-কিশোরদের কাছে এটি ছিল এক বিশেষ আকর্ষণের দেশীয় ফল। অঞ্চলভেদে ডেউয়া, ঢেউয়া, মাদার কিংবা বনকাঁঠাল নামে পরিচিত এই ফল আজ সময়ের বিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ২৮(জুলাই) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা যদুনাথ পুর ইউনিয়নের মমিনপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি পুরোনো টিনের চালাঘরের ওপর গাছটি ডালপালা মেলে আছে। বড় বড় পাতার আড়ালে ডালগুলোয় থোকায় থোকায় ডেউয়া ধরেছে। কচি কাঁঠালের মতো ছোট ছোট গুচ্ছবদ্ধ ফল ঝুলে আছে। কোথাও চার-পাঁচটা, কোথাও দু–একটা। হলুদ হয়ে আসা কিছু ফল মাটিতে ঝরে পড়েছে। ডেউয়া দেখতে অনেকটা ছোট কাঁঠালের মতো। একসময় গ্রামীণ জনপদে অন্য সব গাছের ভিড়ে ডেউয়া ফল আলাদা করে চোখে পড়ত। থোকায় থোকায় কাঁচা-পাকা ফলে ভরে উঠত গাছ। ফলটির উপকারিতা সম্পর্কে মানুষের কম জানাসহ নানা কারণে ফলটি এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। শহরে এই ফলের দেখা পাওয়া দুর্লভ, অনেক গ্রামেই এখন ফলটির দেখা পাওয়া যায় না। ধনবাড়ীতে‘ডেউয়া’ নামে বেশি পরিচিত হলেও ঢেউয়া, মাদার, ডেউফল, ঢেউফল, বনকাঁঠাল, বত্তাসহ স্থানভেদে বিভিন্ন নামে পরিচিত। দেখতে এবড়োখেবড়ো। ফল গোলাকৃতির, ২ থেকে ৫ ইঞ্চি চওড়া। প্রতিটি ফল ২০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা। স্ত্রী ফুল থেকে ফল হয়। ফল কাঁঠালের মতো যৌগিক বা গুচ্ছ। পাকলে ভেতরে কাঁঠালের মতো কোয়া (কোষ) হয়। প্রতিটি ফলে ২০ থেকে ৩০টি কোয়া ও বীজ থাকে। বীজের গায়ের মাংসল অংশ খাওয়া হয়। কোষগুলো হলুদ রঙের। পাকা কোষ নরম, মোলায়েম। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ হয়। ডেউয়ার ভেতরের শাঁস লালচে হলুদ। কাঁচা থাকতে ফলের স্বাদ টক। পাকলে টক–মিষ্টি স্বাদের। রান্না করেও ডেউয়া খাওয়া যায়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জন্মে। একসময় গ্রামবাংলার অতি পরিচিত এই ফল আজ স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা, দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে এখনই ডেউয়াসহ সব দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।