ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

গঙ্গাচড়ায় একটি বাঁধেই বদলাবে লক্ষাধিক মানুষের জীবনমান

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার বিপরীত দুই রূপে। শুষ্ক মৌসুমে এই নদী যেখানে পরিণত হয় ধূ ধূ বালুচরে, সেখানে বর্ষা মৌসুম এলেই দেখা যায় ভয়াবহ বন্যা ও কড়ালগ্রাসী ভাঙন । এই দুই চরম অবস্থার মাঝখানে আটকে পড়ে সারা বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, ভাঙনে বসতভিটা হারানো এবং জীবিকার অনিশ্চয়তায় এই জনপদের মানুষ এখন চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার থেকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো আনন্দবাজার, বাগডহরা, মটুকপুর, বিনবিনা, ইচলি, শংকরদহ ও কাশিয়াবাড়ি, চরছালাপাক চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুম এলেই তিস্তার পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। অনেক স্থানে নদী শুকিয়ে গিয়ে বালুচরে পরিণত হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদীতে পানি না থাকায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, মাছের উৎপাদন কমে যায় এবং জেলে সম্প্রদায়ের মানুষজন কাজ হারিয়ে ফেলেন। কৃষকরাও সেচের পানির সংকটে পড়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন,শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না, জমিতে সেচ দেওয়া যায় না। এতে ফসল উৎপাদন কমে যায়। অন্যদিকে বর্ষা এলেই দেখা দেয় তিস্তা নদীর ভয়াল রূপ। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীর ভাঙে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রতিবছর শত শত পরিবার বাস্তুহারা হচ্ছে। কেউ হারাচ্ছেন বসতভিটা, কেউ বা হারাচ্ছেন জীবিকার শেষ সম্বল। ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ আলতাফ হোসেন বলেন, আমার জীবনের সত্তর বছর তিস্তার ভাঙন আর বন্যা দেখে কেটে গেছে। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত একই চিত্র শুকনো মৌসুমে পানি নেই, আর বর্ষায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বহু সরকার এসেছে, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো স্থায়ী কাজ হয়নি। এখন বয়স হয়ে গেছে, আর বেশি কিছু চাই না। শুধু চাই,একটা বাঁধ নির্মাণ হোক, যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অন্তত শান্তিতে থাকতে পারে। আউলীয়ার হাট এলাকার শফিকুল(৪৫) বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি তিস্তার ভাঙন। আমার বাবাকে নিজের হাতে নয়বার বাড়ি সরাতে হয়েছে। প্রতিবার নতুন করে ঘর বানিয়েছি, আবার নদী এসে তা নিয়ে গেছে। আমাদের জীবনে কোনো স্থায়ী বসতি নেই। কখন যে ঘর ভেঙে যাবে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেক প্রতিবেশী এলাকা ছেড়ে চলে গেছে, কেউ শহরে, কেউ অন্য জেলায়। আমরা এখনো এখানে টিকে আছি কষ্ট করে। একটা বাঁধ হলে আমরা অন্তত নিরাপদে থাকতে পারতাম। নোহালী চর আনন্দবাজার এলাকার স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, শুকনো মৌসুমে নদী হেঁটে পার হওয়া যায়, কিন্তু বর্ষায় নৌকা ছাড়া চলাচল সম্ভব নয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে যায়। ইচলি গ্রামের স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার জানায়, আমাদের স্কুল নদীতে ভেঙে গেছে। এখন অনেক দূরে গিয়ে পড়তে হয়। বর্ষায় রাস্তা ভেঙে গেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী উন্নয়ন গড়ে ওঠেনি। প্রতিবছর বরাদ্দ এলেও তা টেকসই সমাধান দিতে পারছে না। বর্ষার পানিতে অনেক উন্নয়ন কাজই ভেসে যায়।মিনার বাজার থেকে মহিপুর পর্যন্ত একটি স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণই হতে পারে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একমাত্র সমাধান। কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই একটি বাঁধ। এতে আমরা নিজেরাই চলতে পারব। গঙ্গাচড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছি। সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন,আমি গঙ্গাচড়ার মানুষের সেবক হিসেবে তাদের সর্বোচ্চ চাওয়া তিস্তা নদী শাসনের বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে এ অঞ্চলের মানেষের ভাগ্যন্নোয়ন ঘটবে। এই দাবী আদায়ে আমাদের সকলের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সচেতন মহল মনে করছেন, এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে নদীতীর রক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিস্তার শুকনো মৌসুমের পানি শূন্যতা এবং বর্ষার ভয়াবহ বন্যায় এই দুই বিপরীত চিত্রে দিশেহারা গঙ্গাচড়ার মানুষ এখন একটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায়। তাদের বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হলে বদলে যাবে এই জনপদের চিত্র, ফিরবে স্বস্তি ও নিরাপদ জীবন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

গঙ্গাচড়ায় একটি বাঁধেই বদলাবে লক্ষাধিক মানুষের জীবনমান

আপডেট সময় ০৪:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার বিপরীত দুই রূপে। শুষ্ক মৌসুমে এই নদী যেখানে পরিণত হয় ধূ ধূ বালুচরে, সেখানে বর্ষা মৌসুম এলেই দেখা যায় ভয়াবহ বন্যা ও কড়ালগ্রাসী ভাঙন । এই দুই চরম অবস্থার মাঝখানে আটকে পড়ে সারা বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, ভাঙনে বসতভিটা হারানো এবং জীবিকার অনিশ্চয়তায় এই জনপদের মানুষ এখন চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার থেকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো আনন্দবাজার, বাগডহরা, মটুকপুর, বিনবিনা, ইচলি, শংকরদহ ও কাশিয়াবাড়ি, চরছালাপাক চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুম এলেই তিস্তার পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। অনেক স্থানে নদী শুকিয়ে গিয়ে বালুচরে পরিণত হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদীতে পানি না থাকায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, মাছের উৎপাদন কমে যায় এবং জেলে সম্প্রদায়ের মানুষজন কাজ হারিয়ে ফেলেন। কৃষকরাও সেচের পানির সংকটে পড়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন,শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না, জমিতে সেচ দেওয়া যায় না। এতে ফসল উৎপাদন কমে যায়। অন্যদিকে বর্ষা এলেই দেখা দেয় তিস্তা নদীর ভয়াল রূপ। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীর ভাঙে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রতিবছর শত শত পরিবার বাস্তুহারা হচ্ছে। কেউ হারাচ্ছেন বসতভিটা, কেউ বা হারাচ্ছেন জীবিকার শেষ সম্বল। ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ আলতাফ হোসেন বলেন, আমার জীবনের সত্তর বছর তিস্তার ভাঙন আর বন্যা দেখে কেটে গেছে। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত একই চিত্র শুকনো মৌসুমে পানি নেই, আর বর্ষায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বহু সরকার এসেছে, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো স্থায়ী কাজ হয়নি। এখন বয়স হয়ে গেছে, আর বেশি কিছু চাই না। শুধু চাই,একটা বাঁধ নির্মাণ হোক, যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অন্তত শান্তিতে থাকতে পারে। আউলীয়ার হাট এলাকার শফিকুল(৪৫) বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি তিস্তার ভাঙন। আমার বাবাকে নিজের হাতে নয়বার বাড়ি সরাতে হয়েছে। প্রতিবার নতুন করে ঘর বানিয়েছি, আবার নদী এসে তা নিয়ে গেছে। আমাদের জীবনে কোনো স্থায়ী বসতি নেই। কখন যে ঘর ভেঙে যাবে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেক প্রতিবেশী এলাকা ছেড়ে চলে গেছে, কেউ শহরে, কেউ অন্য জেলায়। আমরা এখনো এখানে টিকে আছি কষ্ট করে। একটা বাঁধ হলে আমরা অন্তত নিরাপদে থাকতে পারতাম। নোহালী চর আনন্দবাজার এলাকার স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, শুকনো মৌসুমে নদী হেঁটে পার হওয়া যায়, কিন্তু বর্ষায় নৌকা ছাড়া চলাচল সম্ভব নয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে যায়। ইচলি গ্রামের স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার জানায়, আমাদের স্কুল নদীতে ভেঙে গেছে। এখন অনেক দূরে গিয়ে পড়তে হয়। বর্ষায় রাস্তা ভেঙে গেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী উন্নয়ন গড়ে ওঠেনি। প্রতিবছর বরাদ্দ এলেও তা টেকসই সমাধান দিতে পারছে না। বর্ষার পানিতে অনেক উন্নয়ন কাজই ভেসে যায়।মিনার বাজার থেকে মহিপুর পর্যন্ত একটি স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণই হতে পারে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একমাত্র সমাধান। কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই একটি বাঁধ। এতে আমরা নিজেরাই চলতে পারব। গঙ্গাচড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছি। সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন,আমি গঙ্গাচড়ার মানুষের সেবক হিসেবে তাদের সর্বোচ্চ চাওয়া তিস্তা নদী শাসনের বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে এ অঞ্চলের মানেষের ভাগ্যন্নোয়ন ঘটবে। এই দাবী আদায়ে আমাদের সকলের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সচেতন মহল মনে করছেন, এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে নদীতীর রক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিস্তার শুকনো মৌসুমের পানি শূন্যতা এবং বর্ষার ভয়াবহ বন্যায় এই দুই বিপরীত চিত্রে দিশেহারা গঙ্গাচড়ার মানুষ এখন একটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায়। তাদের বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হলে বদলে যাবে এই জনপদের চিত্র, ফিরবে স্বস্তি ও নিরাপদ জীবন।