ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিরাবাদ মল্লিক ছোবহান স: প্রা: বিদ্যালয় সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ও জরাজীর্ণ: ভোগান্তিতে জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের (৫নং ওয়ার্ড) মল্লিক ছোবহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই। তজু মুন্সির গ্যারেজ থেকে পূর্বদিকে হাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হয়ে টঙ্কাবতী সড়কের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে এই সড়কের গুরুত্বও কম নয়। ১৯৬৬-৬৭ এবং ১৯৬৭-৬৮ অর্থবছরের আমিরাবাদ ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমের বুকলেট অনুযায়ী, ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ৫০টি সড়কের মধ্যে এটি ছিল ৪ নম্বরে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করে। তবে বর্ষা মৌসুমে সড়কের করুণ অবস্থা চরম আকার ধারণ করে। কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পথচারী ও শিক্ষার্থী মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কারসহ টেকসই উন্নয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল কাইয়ুম বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই সড়কটি সংস্কার হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। হাজীপাড়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব সেলিম উল্লাহ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে হলেও সড়কটির উন্নয়ন জরুরি। বর্ষাকালে তাদের যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও হাজিরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো: নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন,এই সড়কটি আমাদের এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এবং ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি, যাতে অচিরেই সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হয়। অত্র এলাকার বাসিন্দা ও লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: সাইফুল্লাহ চৌধুরী বলেন- বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকার সড়ক এমন বেহাল অবস্থায় থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও এলাকার সাধারণ জনগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে শিক্ষার্থী ও এলাকার জনসাধারণ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারে। মল্লিক সোবাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিশকাতুল জান্নাত জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এর ফলে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়, যা তাদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। আমি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি-অতিদ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘেœ চলতে পারে। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বহুদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায় মল্লিক ছোবহানসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আমিরাবাদ মল্লিক ছোবহান স: প্রা: বিদ্যালয় সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ও জরাজীর্ণ: ভোগান্তিতে জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৪:৩৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের (৫নং ওয়ার্ড) মল্লিক ছোবহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই। তজু মুন্সির গ্যারেজ থেকে পূর্বদিকে হাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হয়ে টঙ্কাবতী সড়কের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে এই সড়কের গুরুত্বও কম নয়। ১৯৬৬-৬৭ এবং ১৯৬৭-৬৮ অর্থবছরের আমিরাবাদ ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমের বুকলেট অনুযায়ী, ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ৫০টি সড়কের মধ্যে এটি ছিল ৪ নম্বরে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করে। তবে বর্ষা মৌসুমে সড়কের করুণ অবস্থা চরম আকার ধারণ করে। কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পথচারী ও শিক্ষার্থী মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কারসহ টেকসই উন্নয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল কাইয়ুম বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই সড়কটি সংস্কার হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। হাজীপাড়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব সেলিম উল্লাহ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে হলেও সড়কটির উন্নয়ন জরুরি। বর্ষাকালে তাদের যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও হাজিরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো: নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন,এই সড়কটি আমাদের এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এবং ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি, যাতে অচিরেই সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হয়। অত্র এলাকার বাসিন্দা ও লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: সাইফুল্লাহ চৌধুরী বলেন- বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকার সড়ক এমন বেহাল অবস্থায় থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও এলাকার সাধারণ জনগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে শিক্ষার্থী ও এলাকার জনসাধারণ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারে। মল্লিক সোবাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিশকাতুল জান্নাত জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এর ফলে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়, যা তাদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। আমি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি-অতিদ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘেœ চলতে পারে। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বহুদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায় মল্লিক ছোবহানসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ।