সরকার রেল বিভাগকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে-প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী
বিএনপি সরকার রেল বিভাগকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মন্তব্য করে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ঢাকা-সিলেট রেললাইনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। জনগণের স্বার্থে এই রেলপথে কী কী উন্নয়ন করা যায়, তা আমরা পর্যালোচনা করছি। সাধারণ মানুষ যেন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন এবং রেলের সেবার গুণগত মান কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়, মূলত সেটিই আমি দেখতে এসেছি। গতকাল সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে তিনি এসব বলেন। এসময় তিনি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার, টয়লেটের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্টেশনের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহমদ ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন। পর্যটকদের জন্য সিলেট বিভাগে আরও একটি ট্রেন চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন,আমাদের সরকারের বয়স অল্পদিন। আমাদের কিছুটা সময় দিন। আমাদের বলতে হবে না, জনগণের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আমরা নিজ দায়িত্বেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব। পরিদর্শনের সময় তিনি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা, টয়লেটের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, সিলেট অঞ্চলের রেলওয়েকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মান যাচাই করতেই মূলত আজকের এই পরিদর্শন। জানা গেছে, সিলেট-জাফলং রেলপথ নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সিলেট সফরে বের হন মন্ত্রী। এসফরের অংশ হিসেবেই তিনি শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন ও রেলপথের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলস্টেশনে ট্র্রেনের যাত্রা বিরতিকালে যাত্রীসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ ও মতামত শুনে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাসও দেন। এসময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সিলেট বিভাগে সিলেটের পর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হচ্ছে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন। এখানে প্রতিদিন সহ¯্রাধিক পর্যটকের সমাগম হয়। কিন্তু আসন সংখ্যা একেবারে সীমিত। টিকিট সঙ্কট, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেনের স্বল্পতা, রেললাইনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং যাত্রীসেবার বিভিন্ন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়রা এ লাইনে নতুন ট্রেন চালু, যাত্রী বিশ্রামাগার এবং স্টেশনে যাত্রী বসার আসন (বেঞ্চ-চেয়ার) বৃদ্ধিও দাবি জানান। শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেট পর্যন্ত বিভিন্ন রেলস্টেশন ও রেললাইনের অবকাঠামোগত সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শনের অংশ হিসেবেই তিনি শ্রীমঙ্গল স্টেশনে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এর আগে মন্ত্রী সায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনও পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরও জানান, মন্ত্রী মূলত সিলেটের জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সফরে এসেছেন। সেখানে যাওয়ার পথে তিনি বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করছেন।
এহসান বিন মুজাহির (শ্রীমঙ্গল) মৌলভীবাজার 


















