ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

আট বছরের অপেক্ষার অবসান, দুই মাসের মধ্যেই চালু হচ্ছে কালিয়া সেতু

দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা, নকশা পরিবর্তন, কারিগরি জটিলতা ও একাধিক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পর শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে নড়াইলের কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ ধাপের ঢালাই, সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সওজ সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রায় ৬৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নকশাগত পরিবর্তন, নদীপথে নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে স্টিল আর্চ স্প্যান সংযোজন, নির্মাণাধীন পিলারে বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কা এবং অন্যান্য কারিগরি জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ সাত দফা বাড়াতে হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণাধীন ৯ নম্বর পিলারে একাধিকবার বাল্কহেডের ধাক্কা লাগার পর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। পরে স্টিল আর্চ স্প্যান যুক্ত করে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেতুর মূল কাঠামো ও স্টিল স্প্যানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নড়াইল-কালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ২১তম কিলোমিটারে বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত এ সেতু চালু হলে নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের প্রায় তিন লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা স্থানীয়দের। বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, একটি সেতুর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি। খেয়া পার হয়ে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও বাজারে যেতে হয়েছে। এখন কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় মনে হচ্ছে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং যাতায়াত ব্যয় কমবে। এতে কালিয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কালিয়ার ব্যবসায়ী হাজী আলমগীর কবির বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর অভাবে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সেতু চালু হলে নড়াইল, কালিয়া, গোপালগঞ্জ ও খুলনার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। উপজেলা সদরে যেতে যে সময় লাগে, তা অনেক কমে আসবে। মাছ ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খেয়াঘাটের কারণে প্রতিদিন সময় নষ্ট হয়। দ্রুত মাছ বাজারে পৌঁছাতে না পারায় লোকসান গুনতে হয়। সেতু চালু হলে ব্যবসা অনেক সহজ হবে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, ‘সেতুর মূল স্ট্রাকচারাল কাজ শেষ হয়েছে। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে সেতু হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। নড়াইল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মূল স্ট্রাকচার ও স্টিল স্প্যানের কাজ শেষ হয়েছে।
সামান্য কিছু ঢালাইয়ের কাজ বাকি। বর্তমানে প্রকল্পে কোনো জটিলতা নেই। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে এবং এরপর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

আট বছরের অপেক্ষার অবসান, দুই মাসের মধ্যেই চালু হচ্ছে কালিয়া সেতু

আপডেট সময় ০৮:১৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা, নকশা পরিবর্তন, কারিগরি জটিলতা ও একাধিক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পর শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে নড়াইলের কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ ধাপের ঢালাই, সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সওজ সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রায় ৬৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নকশাগত পরিবর্তন, নদীপথে নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে স্টিল আর্চ স্প্যান সংযোজন, নির্মাণাধীন পিলারে বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কা এবং অন্যান্য কারিগরি জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ সাত দফা বাড়াতে হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণাধীন ৯ নম্বর পিলারে একাধিকবার বাল্কহেডের ধাক্কা লাগার পর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। পরে স্টিল আর্চ স্প্যান যুক্ত করে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেতুর মূল কাঠামো ও স্টিল স্প্যানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নড়াইল-কালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ২১তম কিলোমিটারে বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত এ সেতু চালু হলে নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের প্রায় তিন লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা স্থানীয়দের। বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, একটি সেতুর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি। খেয়া পার হয়ে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও বাজারে যেতে হয়েছে। এখন কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় মনে হচ্ছে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং যাতায়াত ব্যয় কমবে। এতে কালিয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কালিয়ার ব্যবসায়ী হাজী আলমগীর কবির বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর অভাবে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সেতু চালু হলে নড়াইল, কালিয়া, গোপালগঞ্জ ও খুলনার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। উপজেলা সদরে যেতে যে সময় লাগে, তা অনেক কমে আসবে। মাছ ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খেয়াঘাটের কারণে প্রতিদিন সময় নষ্ট হয়। দ্রুত মাছ বাজারে পৌঁছাতে না পারায় লোকসান গুনতে হয়। সেতু চালু হলে ব্যবসা অনেক সহজ হবে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, ‘সেতুর মূল স্ট্রাকচারাল কাজ শেষ হয়েছে। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে সেতু হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। নড়াইল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মূল স্ট্রাকচার ও স্টিল স্প্যানের কাজ শেষ হয়েছে।
সামান্য কিছু ঢালাইয়ের কাজ বাকি। বর্তমানে প্রকল্পে কোনো জটিলতা নেই। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে এবং এরপর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।