ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সড়কের মেরামত কাজ শেষ না হতেই ধসে পড়ছে। বিশেষ করে সড়কের দুই পাশে সোল্ডার ও স্লোপ না করায় নির্মাণাধীন সড়টি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এদিকে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব চৌধুরীর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তাড়াশ উপজেলার হেডকোয়ার্টার থেকে কাটাগাড়ি জিসি পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণসহ শক্তিশালীকরণের কাজ করা হচ্ছে। সাব-ঠিকাদার হিসাবে তারাই কাজটি করছেন। তবে নির্মাণ সামগ্রীর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়া কারণ হিসাবে দেখছেন তিনি। অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নীতিমালা মেনে কাজ করার জন্য ১৮ বার নোটিশ করা হয়েছে ঠিকাদারকে। তারা কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না। উল্টো আমাকেই হুমকি দেয় সাব-ঠিকাদার। সমস্ত বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান অবগত। তবুও প্রতিকার মিলছে না। অপরদিকে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। ১১০ জনের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। একই সাথে নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে লিখত অভিযোগ ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক মেরামত কাজ চলছে ঠিকাদারের ইচ্ছেমত। সড়কের দুই পাশে সাব-বেজ তৈরি করা হয়েছে অতি নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে। স্থানীয়রা বাধা দিলেও বার বার উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে, সিডিউল মোতাবেক সড়কের দুই পাশে মাটি ফেলে তিন ফিট করে প্রশস্ত সোল্ডার তৈরি ও স্লোপ না করায় এজিংয়ের ইট ও সড়কের মাটি ধসে খালের মধ্যে পড়ছে। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে কাটাগাড়ী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজের ট্রেন্ডার আহ্বান করা হয়। ইজিপি টেন্ডারে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৫ টাকার চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ পান চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের উপর অতি নি¤œমানের খোয়া ফেলে রোড রোলার দিয়ে পিষে দেওয়া হচ্ছে। এজিংয়ের ইট ধসে পড়েছে। সড়কের দুই পাশে সোল্ডার ও স্লোপ করা নেই। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাবনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোমিন মুজিবুল হক সমাজি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়কের মেরামত কাজের নিম্নমান নিয়ে ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলামকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তিনি। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোমিন মুজিবুল হক সমাজির ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তদারকি মর্ককর্তা উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহাব মনির বলেন, মির্জা সাইফুল ও মাহবুব চৌধুরী নামের দুই জন সাব-ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ি সিডিউল মোতাবেক কোনো কাজ করছেন না। স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ও ল্যাব টেস্ট ব্যতীত নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে সড়ক মেরামত করছেন। তারা বাধার তোয়াক্কা করে না। তদারকি করে কী হবে! সাব-ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলামের মোবাইলে বার বার চেষ্টা করা হয় তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য। তিনি কল রিসিভি না করে জনৈক এক নেতার মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ না করার সুপারিশ করেন।
পরে আরও কয়েকবার তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে কল রিসিভ করেননি, কখনও মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। সাব-ঠিকাদার মাহবুব চৌধুরী বলেন, কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক মেরামত কাজের কোন ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভুল ধরিয়ে দিলে সংশোধন করে নেব। সিরাজগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, সড়কের দুই পাশের সোল্ডার ও স্লোপ মূলত সড়কের স্থায়ীত্ব রক্ষা করে। সোল্ডার ও স্লোপ না করে সড়ক মেরামত করা হলে ধসে পড়বে এটাই খুব স্বাভাবিক। ঠিকাদার ও দুইজন সাব-ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম দৈনিক খবরপত্রকে বলেন, ‘আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
সংবাদ শিরোনাম
তাড়াশে ১৯ কোটি টাকার রাস্তার মেরামত কাজ শেষ না হতেই ধসে পড়ছে
-
গোলাম মোস্তফা বিশেষ প্রতিনিধি (সিরাজগঞ্জ) - আপডেট সময় ০৮:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- 63
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























