ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-সহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বয় করে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সর্বদা সজাগ ও সতর্ক রয়েছে।
সম্প্রতি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এসব চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সচেষ্ট রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বাসস’কে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী সচেতন ও সতর্ক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এখানে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। উপজাতিদের মধ্যে কিছু উগ্রপন্থী সংগঠন প্রায়ই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। এসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ফলে মাঝে মধ্যে জাতিগত সংঘাত তৈরির আশঙ্কা দেখা যায়। তবে তাদের সব অপচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জোরালো পদক্ষেপে ব্যর্থ হয়ে যায়।’
আগামী ৯ আগস্ট পালিত হবে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলা- বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় যাতে কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানান।
তবে পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে মাঝে মধ্যে সেখানে বিদ্যমান গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়ায়। কিন্তু সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও নজরদারির কারণে তাদের অপতৎপরতা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত হয়। সে কারণে পাহাড়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষে লিপ্ত দলের সদস্যদের পাশাপাশি পাহাড়ের সাধারণ মানুষও হতাহত হয়। এসব ঘটনায় বিপাকে পড়তে হয় নিরীহ মানুষদের।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বাসস’কে বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।
তিনি বলেন, এখানে একটা পর্যটন শিল্প আছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং করা হয়।
খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। পাহাড়ে নিরাপত্তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি জোরদার করেছে। কোনো উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা এবং উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বাসস’কে বলেন, এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। কোনো গোষ্ঠী পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্য সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা নিরসনে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করছে।
তিনি বলেন, আমরা এখানে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই। পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে বিদ্বেষ ও কোনো ধরনের সংঘাত এবং অশান্তি চাই না। সবাই এক সঙ্গে এবং শান্তিতে বাস করতে চাই। কেউ আমাদের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী

আপডেট সময় ০৯:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-সহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বয় করে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সর্বদা সজাগ ও সতর্ক রয়েছে।
সম্প্রতি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এসব চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সচেষ্ট রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বাসস’কে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী সচেতন ও সতর্ক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এখানে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। উপজাতিদের মধ্যে কিছু উগ্রপন্থী সংগঠন প্রায়ই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। এসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ফলে মাঝে মধ্যে জাতিগত সংঘাত তৈরির আশঙ্কা দেখা যায়। তবে তাদের সব অপচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জোরালো পদক্ষেপে ব্যর্থ হয়ে যায়।’
আগামী ৯ আগস্ট পালিত হবে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলা- বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় যাতে কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানান।
তবে পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে মাঝে মধ্যে সেখানে বিদ্যমান গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়ায়। কিন্তু সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও নজরদারির কারণে তাদের অপতৎপরতা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত হয়। সে কারণে পাহাড়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষে লিপ্ত দলের সদস্যদের পাশাপাশি পাহাড়ের সাধারণ মানুষও হতাহত হয়। এসব ঘটনায় বিপাকে পড়তে হয় নিরীহ মানুষদের।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বাসস’কে বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।
তিনি বলেন, এখানে একটা পর্যটন শিল্প আছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং করা হয়।
খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। পাহাড়ে নিরাপত্তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি জোরদার করেছে। কোনো উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা এবং উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বাসস’কে বলেন, এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। কোনো গোষ্ঠী পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্য সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা নিরসনে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করছে।
তিনি বলেন, আমরা এখানে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই। পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে বিদ্বেষ ও কোনো ধরনের সংঘাত এবং অশান্তি চাই না। সবাই এক সঙ্গে এবং শান্তিতে বাস করতে চাই। কেউ আমাদের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।