ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক Logo আবুল কালাম এম.পির আন্তরিক প্রচেষ্টায় লাকসামে উন্নয়নের বিপ্লব: ৭ মাসে সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় ৪৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন Logo বদলগাছীতে সহোদর দুই বোনকে বিয়ে করলেন টিকটকার মাসুদ Logo চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে একটি করে পাঠাগার-জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান Logo গ্রাম্য আদালতকে উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ Logo কলমাকান্দায় কাঠের সেতু সংস্কার, উদ্বোধন করল শিক্ষার্থীরা Logo রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন না হলে তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথে হাঁটবেন-আহবায়ক নাহিদ ইসলাম Logo গণ-অধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য রেলি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে স্পিকারের অনুদানের চেক পেলেন ১৯০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবার Logo মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

মানুষের আইকিউ কি সত্যিই কমছে?

আগের প্রজন্মের তুলনায় কি এখন মানুষের আইকিউ কমছে? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন প্রশ্নই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মানুষের জন্মগত বুদ্ধিমত্তা কমে যাচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। বরং শিক্ষা, জীবনযাপন এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে কিছু দেশে আইকিউ পরীক্ষার ফল আগের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্টেলিজেন্স সাময়িকীতে। এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়েছে, গত শতাব্দীর দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের অনেক দেশে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে আইকিউ স্কোর বেড়েছে। এই প্রবণতাকে বলা হয় ফ্লিন প্রভা। উন্নত পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে এই ধারা ধীর হয়ে গেছে।
কোথাও কোথাও আইকিউ পরীক্ষার স্কোর কমতেও দেখা গেছে। গবেষকেরা এই পরিবর্তনকে ‘রিভার্স ফ্লিন প্রভাব’নামে অভিহিত করছেন।
গবেষকদের মতে, এর পেছনে একটি নয়, একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া, অনলাইনে দীর্ঘ সময় কাটানো, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং কিছু ক্ষেত্রে দূষণ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তবে এসব কারণ নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আইকিউ পরীক্ষা মানুষের সব ধরনের মেধা পরিমাপ করে না। এটি মূলত যুক্তি বিশ্লেষণ, স্মৃতিশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের মতো নির্দিষ্ট মানসিক দক্ষতা মূল্যায়ন করে। সৃজনশীলতা, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক দক্ষতা কিংবা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা এই পরীক্ষায় প্রতিফলিত হয় না। তাই শুধু আইকিউ স্কোর দিয়ে একজন মানুষের সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তা বিচার করা ঠিক নয়।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, সব দেশে একই চিত্র দেখা যায়নি। কিছু দেশে এখনো আইকিউ স্কোর স্থিতিশীল রয়েছে, আবার কোথাও উন্নতির ধারাও অব্যাহত আছে। এতে বোঝা যায়, একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি নীতি এবং জীবনযাত্রার মান মানুষের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই প্রবণতার প্রকৃত কারণ জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক

মানুষের আইকিউ কি সত্যিই কমছে?

আপডেট সময় ১০:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

আগের প্রজন্মের তুলনায় কি এখন মানুষের আইকিউ কমছে? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন প্রশ্নই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মানুষের জন্মগত বুদ্ধিমত্তা কমে যাচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। বরং শিক্ষা, জীবনযাপন এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে কিছু দেশে আইকিউ পরীক্ষার ফল আগের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্টেলিজেন্স সাময়িকীতে। এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়েছে, গত শতাব্দীর দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের অনেক দেশে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে আইকিউ স্কোর বেড়েছে। এই প্রবণতাকে বলা হয় ফ্লিন প্রভা। উন্নত পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে এই ধারা ধীর হয়ে গেছে।
কোথাও কোথাও আইকিউ পরীক্ষার স্কোর কমতেও দেখা গেছে। গবেষকেরা এই পরিবর্তনকে ‘রিভার্স ফ্লিন প্রভাব’নামে অভিহিত করছেন।
গবেষকদের মতে, এর পেছনে একটি নয়, একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া, অনলাইনে দীর্ঘ সময় কাটানো, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং কিছু ক্ষেত্রে দূষণ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তবে এসব কারণ নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আইকিউ পরীক্ষা মানুষের সব ধরনের মেধা পরিমাপ করে না। এটি মূলত যুক্তি বিশ্লেষণ, স্মৃতিশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের মতো নির্দিষ্ট মানসিক দক্ষতা মূল্যায়ন করে। সৃজনশীলতা, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক দক্ষতা কিংবা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা এই পরীক্ষায় প্রতিফলিত হয় না। তাই শুধু আইকিউ স্কোর দিয়ে একজন মানুষের সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তা বিচার করা ঠিক নয়।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, সব দেশে একই চিত্র দেখা যায়নি। কিছু দেশে এখনো আইকিউ স্কোর স্থিতিশীল রয়েছে, আবার কোথাও উন্নতির ধারাও অব্যাহত আছে। এতে বোঝা যায়, একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি নীতি এবং জীবনযাত্রার মান মানুষের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই প্রবণতার প্রকৃত কারণ জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হতে পারে।