ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

প্রাচুর্যও কখনো কখনো বিপর্যয় ডেকে আনে

মানুষের জীবনে অভাব যেমন পরীক্ষা, তেমনি প্রাচুর্যও এক বড় পরীক্ষা। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, অক্ষমতা ও বিপদে মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে; কিন্তু যখন সুস্থতা, সৌন্দর্য, সম্পদ ও স্বচ্ছলতা লাভ করে, তখন সে কি আগের সেই অসহায় দিনগুলোর কথা মনে রাখে? সে কি স্বীকার করে যে এসব নিয়ামত তার নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং আল্লাহর দান? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে দাতা আল্লাহকেই ভুলে যায়?
বনি ইসরাইলের তিন ব্যক্তির একটি ঘটনা এ বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এই ঘটনা তুলে ধরেছেন। এতে বোঝা যায়, আল্লাহ মানুষকে কখনো অভাব দিয়ে পরীক্ষা করেন, আবার কখনো প্রাচুর্য দিয়েও পরীক্ষা করেন।
অসুস্থ তিন ব্যক্তি ও আল্লাহর পরীক্ষা
বনি ইসরাইলের তিন ব্যক্তি ছিলÑএকজন কুষ্ঠরোগী, একজন টাক মাথার এবং একজন অন্ধ। মানুষের কাছে তাদের প্রত্যেকেরই ছিল কোনো না কোনো শারীরিক দুর্বলতা।
আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করতে চাইলেন এবং তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা প্রথমে কুষ্ঠরোগীর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?’ সে বলল, ‘সুন্দর গায়ের রং ও সুন্দর ত্বক। আমি চাই আমার এই রোগ দূর হয়ে যাক। এর কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে।
’ ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন। আল্লাহর হুকুমে তার রোগ দূর হয়ে গেল। তার শরীর সুন্দর হয়ে উঠল। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়?’ সে উট পছন্দ করল। তাকে একটি গর্ভবতী মাদি উট দেওয়া হলো এবং বলা হলো, ‘আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দিন।
এরপর ফেরেশতা টাক মাথার ব্যক্তির কাছে গেলেন। তাকেও জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?’ সে বলল, ‘সুন্দর চুল। আমি চাই আমার এই সমস্যা দূর হয়ে যাক।’ ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন। আল্লাহর হুকুমে তার রোগ দূর হলো এবং তার মাথায় সুন্দর চুল গজাল। তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ কী?’ সে বলল, ‘গাভি।’ তাকে একটি গর্ভবতী গাভি দেওয়া হলো এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করা হলো।
সবশেষে ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তির কাছে এলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?’ সে বলল, ‘আল্লাহ যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি দেখতে পারি।’ ফেরেশতা তার চোখে হাত বুলিয়ে দিলেন। আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ কী?’ সে বলল, ‘বকরি।’ তাকে একটি গর্ভবতী বকরি দেওয়া হলো। আল্লাহর রহমতে তিনজনের সম্পদই ক্রমে বৃদ্ধি পেতে লাগল। উট, গাভি ও বকরির পাল বাড়তে বাড়তে একসময় তাদের প্রত্যেকের বিশাল সম্পদের মালিক বানিয়ে দিল।
নিয়ামতের পর শুরু হলো আসল পরীক্ষা
একসময় ফেরেশতা সেই কুষ্ঠরোগীর কাছে তার আগের চেহারায় ফিরে এলেন। তিনি একজন অসহায় মুসাফিরের বেশে তার কাছে সাহায্য চাইলেন। বললেন, ‘আমি একজন নিঃস্ব মানুষ। সফরে এসে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহর পরে তোমার সহযোগিতা ছাড়া আমার বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয়। যে আল্লাহ তোমাকে সুন্দর রং, সুস্থ শরীর ও এত সম্পদ দিয়েছেন, তাঁর নামে আমি তোমার কাছে একটি উট চাই।’ কিন্তু সে সাহায্য করতে অস্বীকার করল।
ফেরেশতা তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তুমি কি সেই কুষ্ঠরোগী নও, যে একসময় অসুস্থ ছিল এবং মানুষ তাকে ঘৃণা করত? পরে আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করেছেন এবং সম্পদ দিয়েছেন?’ কিন্তু লোকটি তার অতীত অস্বীকার করে বলল, ‘আমি তো এসব সম্পদ আমার বাপ-দাদার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি একসময় আল্লাহর কাছে সুস্থতা চেয়েছিল, আল্লাহর কাছ থেকেই সুস্থতা পেয়েছিল এবং আল্লাহর দেওয়া সম্পদে সমৃদ্ধ হয়েছিল, সে এখন সবকিছুর কৃতিত্ব নিজের বংশের দিকে ঠেলে দিল। ফেরেশতা বললেন, ‘তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকো, তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।’
এরপর ফেরেশতা আগের চেহারায় টাক মাথার ব্যক্তির কাছে গেলেন। একইভাবে তার কাছে সাহায্য চাইলেন এবং তার অতীত স্মরণ করিয়ে দিলেন। কিন্তু সেও প্রথম ব্যক্তির মতোই নিয়ামত অস্বীকার করল। সে বলল, ‘আমি তো এসব সম্পদ বাপ-দাদার কাছ থেকে পেয়েছি।’ ফেরেশতা তার জন্যও একই দোয়া করলেনÑযদি সে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ যেন তাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।
সব শেষে ফেরেশতা আগের আকৃতিতে সেই অন্ধ ব্যক্তির কাছে এলেন। তিনি বললেন, ‘আমি একজন অসহায় মুসাফির। আমার সফরের সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহর পরে তোমার সাহায্য ছাড়া আমার বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয়। যে আল্লাহ তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাঁর নামে তোমার কাছে আমি একটি বকরি চাই।’ অন্ধ ব্যক্তি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনি আপনার ইচ্ছামতো আমার সম্পদ থেকে নিন এবং যা ইচ্ছা রেখে যান। আল্লাহর শপথ! আজ আল্লাহর নামে আপনি যা নেবেন, তাতে আমি আপনাকে বাধা দেব না।’
তার কথায় ছিল কৃতজ্ঞতা, বিনয় ও নিজের অতীতের স্বীকৃতি। সে ভুলে যায়নি যে একদিন সে অন্ধ ছিল; ভুলে যায়নি যে আল্লাহ তাকে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন; ভুলে যায়নি যে তার বর্তমান সম্পদও আল্লাহর দান। তখন ফেরেশতা বললেন, ‘তোমার সম্পদ তুমি রেখে দাও। তোমাদের পরীক্ষা হয়েছে। আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমার অপর দুই সঙ্গীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪৬৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৬৪)।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রাচুর্যও কখনো কখনো বিপর্যয় ডেকে আনে

আপডেট সময় ০৬:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের জীবনে অভাব যেমন পরীক্ষা, তেমনি প্রাচুর্যও এক বড় পরীক্ষা। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, অক্ষমতা ও বিপদে মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে; কিন্তু যখন সুস্থতা, সৌন্দর্য, সম্পদ ও স্বচ্ছলতা লাভ করে, তখন সে কি আগের সেই অসহায় দিনগুলোর কথা মনে রাখে? সে কি স্বীকার করে যে এসব নিয়ামত তার নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং আল্লাহর দান? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে দাতা আল্লাহকেই ভুলে যায়?
বনি ইসরাইলের তিন ব্যক্তির একটি ঘটনা এ বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এই ঘটনা তুলে ধরেছেন। এতে বোঝা যায়, আল্লাহ মানুষকে কখনো অভাব দিয়ে পরীক্ষা করেন, আবার কখনো প্রাচুর্য দিয়েও পরীক্ষা করেন।
অসুস্থ তিন ব্যক্তি ও আল্লাহর পরীক্ষা
বনি ইসরাইলের তিন ব্যক্তি ছিলÑএকজন কুষ্ঠরোগী, একজন টাক মাথার এবং একজন অন্ধ। মানুষের কাছে তাদের প্রত্যেকেরই ছিল কোনো না কোনো শারীরিক দুর্বলতা।
আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করতে চাইলেন এবং তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা প্রথমে কুষ্ঠরোগীর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?’ সে বলল, ‘সুন্দর গায়ের রং ও সুন্দর ত্বক। আমি চাই আমার এই রোগ দূর হয়ে যাক। এর কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে।
’ ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন। আল্লাহর হুকুমে তার রোগ দূর হয়ে গেল। তার শরীর সুন্দর হয়ে উঠল। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়?’ সে উট পছন্দ করল। তাকে একটি গর্ভবতী মাদি উট দেওয়া হলো এবং বলা হলো, ‘আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দিন।
এরপর ফেরেশতা টাক মাথার ব্যক্তির কাছে গেলেন। তাকেও জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?’ সে বলল, ‘সুন্দর চুল। আমি চাই আমার এই সমস্যা দূর হয়ে যাক।’ ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন। আল্লাহর হুকুমে তার রোগ দূর হলো এবং তার মাথায় সুন্দর চুল গজাল। তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ কী?’ সে বলল, ‘গাভি।’ তাকে একটি গর্ভবতী গাভি দেওয়া হলো এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করা হলো।
সবশেষে ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তির কাছে এলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?’ সে বলল, ‘আল্লাহ যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি দেখতে পারি।’ ফেরেশতা তার চোখে হাত বুলিয়ে দিলেন। আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ কী?’ সে বলল, ‘বকরি।’ তাকে একটি গর্ভবতী বকরি দেওয়া হলো। আল্লাহর রহমতে তিনজনের সম্পদই ক্রমে বৃদ্ধি পেতে লাগল। উট, গাভি ও বকরির পাল বাড়তে বাড়তে একসময় তাদের প্রত্যেকের বিশাল সম্পদের মালিক বানিয়ে দিল।
নিয়ামতের পর শুরু হলো আসল পরীক্ষা
একসময় ফেরেশতা সেই কুষ্ঠরোগীর কাছে তার আগের চেহারায় ফিরে এলেন। তিনি একজন অসহায় মুসাফিরের বেশে তার কাছে সাহায্য চাইলেন। বললেন, ‘আমি একজন নিঃস্ব মানুষ। সফরে এসে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহর পরে তোমার সহযোগিতা ছাড়া আমার বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয়। যে আল্লাহ তোমাকে সুন্দর রং, সুস্থ শরীর ও এত সম্পদ দিয়েছেন, তাঁর নামে আমি তোমার কাছে একটি উট চাই।’ কিন্তু সে সাহায্য করতে অস্বীকার করল।
ফেরেশতা তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তুমি কি সেই কুষ্ঠরোগী নও, যে একসময় অসুস্থ ছিল এবং মানুষ তাকে ঘৃণা করত? পরে আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করেছেন এবং সম্পদ দিয়েছেন?’ কিন্তু লোকটি তার অতীত অস্বীকার করে বলল, ‘আমি তো এসব সম্পদ আমার বাপ-দাদার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি একসময় আল্লাহর কাছে সুস্থতা চেয়েছিল, আল্লাহর কাছ থেকেই সুস্থতা পেয়েছিল এবং আল্লাহর দেওয়া সম্পদে সমৃদ্ধ হয়েছিল, সে এখন সবকিছুর কৃতিত্ব নিজের বংশের দিকে ঠেলে দিল। ফেরেশতা বললেন, ‘তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকো, তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।’
এরপর ফেরেশতা আগের চেহারায় টাক মাথার ব্যক্তির কাছে গেলেন। একইভাবে তার কাছে সাহায্য চাইলেন এবং তার অতীত স্মরণ করিয়ে দিলেন। কিন্তু সেও প্রথম ব্যক্তির মতোই নিয়ামত অস্বীকার করল। সে বলল, ‘আমি তো এসব সম্পদ বাপ-দাদার কাছ থেকে পেয়েছি।’ ফেরেশতা তার জন্যও একই দোয়া করলেনÑযদি সে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ যেন তাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।
সব শেষে ফেরেশতা আগের আকৃতিতে সেই অন্ধ ব্যক্তির কাছে এলেন। তিনি বললেন, ‘আমি একজন অসহায় মুসাফির। আমার সফরের সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহর পরে তোমার সাহায্য ছাড়া আমার বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয়। যে আল্লাহ তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাঁর নামে তোমার কাছে আমি একটি বকরি চাই।’ অন্ধ ব্যক্তি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনি আপনার ইচ্ছামতো আমার সম্পদ থেকে নিন এবং যা ইচ্ছা রেখে যান। আল্লাহর শপথ! আজ আল্লাহর নামে আপনি যা নেবেন, তাতে আমি আপনাকে বাধা দেব না।’
তার কথায় ছিল কৃতজ্ঞতা, বিনয় ও নিজের অতীতের স্বীকৃতি। সে ভুলে যায়নি যে একদিন সে অন্ধ ছিল; ভুলে যায়নি যে আল্লাহ তাকে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন; ভুলে যায়নি যে তার বর্তমান সম্পদও আল্লাহর দান। তখন ফেরেশতা বললেন, ‘তোমার সম্পদ তুমি রেখে দাও। তোমাদের পরীক্ষা হয়েছে। আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমার অপর দুই সঙ্গীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪৬৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৬৪)।