ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারীতে চায়না দুয়ারির মরণফাঁদে দেশীয় মাছ, নীরব প্রশাসন Logo পাঁচবিবি সোনালী ব্যাংকের সিআরএম বুথের উদ্বোধন Logo বগুড়ায় গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী ও হতদরিদ্রদের মাঝে বাইসাইকেল, হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন বিতরণ Logo প্রেমের বিবাহের পর ২কন্যার জননী স্বামীর নির্যাতনে হাসপাতাল বেডে কাতরাচ্ছেন Logo উলিপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান Logo দিনাজপুরে শিক্ষার্থীদের সাইবার ও ট্রাফিক নিরাপত্তায় পুলিশ সুপারের লিফলেট বিতরণ Logo কালিয়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা সভা Logo সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে এনসিপি নেতা তামিম আহমেদ বহিষ্কার Logo মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা Logo প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন হাবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থী

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব : এলজিআরডি মন্ত্রী

গতকাল রাজধানীতে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। ছবি : বাসস

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেছেন, জনগণ সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা আমাদের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি তাদের কাজে ব্যর্থ হলে সেটির দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তায়।
তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা অফিসে প্রবেশ করলে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর নিশ্চিতভাবে চাকরি করতে পারেন। কিন্তু জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদের সীমা মাত্র ৫ বছর। ৫ বছর পর আবারও জনগণের মুখোমুখি হতে হয় এবং কাজের প্রমাণ দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত হতে হয়। ফলে আমাদের কাজের গুরুত্ব ও জবাবদিহিতা অনেক বেশি।
গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরেও সনদ পান না। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। আগামীতে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি— সবার মূল উদ্দেশ্য এক, জনগণের সেবা করা। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উভয়ের একই লক্ষ্য থাকা উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখে। তাই সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা জনগণের সেবা করার কাজে ব্যবহার করতে হবে। জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা যাবে না। প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে কোনো নাগরিককে যেন ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারীতে চায়না দুয়ারির মরণফাঁদে দেশীয় মাছ, নীরব প্রশাসন

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব : এলজিআরডি মন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৪৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেছেন, জনগণ সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা আমাদের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি তাদের কাজে ব্যর্থ হলে সেটির দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তায়।
তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা অফিসে প্রবেশ করলে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর নিশ্চিতভাবে চাকরি করতে পারেন। কিন্তু জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদের সীমা মাত্র ৫ বছর। ৫ বছর পর আবারও জনগণের মুখোমুখি হতে হয় এবং কাজের প্রমাণ দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত হতে হয়। ফলে আমাদের কাজের গুরুত্ব ও জবাবদিহিতা অনেক বেশি।
গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরেও সনদ পান না। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। আগামীতে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি— সবার মূল উদ্দেশ্য এক, জনগণের সেবা করা। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উভয়ের একই লক্ষ্য থাকা উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখে। তাই সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা জনগণের সেবা করার কাজে ব্যবহার করতে হবে। জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা যাবে না। প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে কোনো নাগরিককে যেন ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।