জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী গ্রামে মৃত রমজান আলীর ছেলে রিপন জীর্ণ একটি টিনের ঘরে দুই ছেলে আর বৃদ্ধা মায়ের বসবাস। অভাবের সংসারে বড় ভাই রুহল আমিন কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।তার ছোট ভাই রিপন গাছ থেকে পড়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে দুই পা এবং কোমর অবচেতন হয়ে পড়ে আছেন। ভাই রিপনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে রুহুল আমিনকে। কিন্তু তার লড়াই শুরু হয়েছে দীর্ঘ সাত বছর আগেই যখন রিপন অসুস্থ হন। সেই দিন থেকেই পরিবারটির জীবন যেন অন্ধকারে ঢেকে যায়। রিপনের দুই পা এবং কোমর অবচেতন হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতাল থেকে শুরু করে রংপুর, দিনাজপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটেছেন বৃদ্ধা মা ও বড় ভাই রুহুল আমিন।তবে রিপনের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। রিপনের বাবা অনেক আগেই মারা যান।ফলে বড় ভাই রুহুল আমিন এর কাঁধে পড়ে বৃদ্ধা মা আর অসুস্থ ছোট ভাই রিপন। রিপনের চিকিৎসার পেছনেই প্রতি মাসে খরচ হতো ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। রক্ত, টেস্ট আর ওষুধের খরচ টানতে না পেরে বড় ভাই নিরুপায় হয়ে স্থানীয় একটি বেকারীর কারখানায় কাজ করে দিনে ৪০০-৫০০ টাকা আয় করেন। এই স্বল্প আয়ে সংসারের খরচ, চিকিৎসা সব মিলিয়ে রুহুল আমিনের যেন নাভিশ্বাস ওঠে। ঢাকায় রিপনকে নিয়ে যেতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। উপায় না পেয়ে প্রতিবেশী আর আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। তবু কোনো কোনো মাসে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। আর সেই সময়টুকু রুহুল আমিনের কাছে সবচেয়ে ভয়ংকর। রিপনের বৃদ্ধা মা সংসারের নিত্যপ্রয়োজন মিটিয়ে যতটুকু টাকা থাকে, সেটুকুই আলাদা করে জমিয়ে রাখেন শুধু ছেলে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার জন্য। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন উন্নত চিকিৎসা পেলে রিপন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। রিপনের নিয়মিত চিকিৎসা জন্য তাঁর পাশে দাঁড়াতে আকুল আবেদন জানিয়েছেন বৃদ্ধা মা। তিনি পাঁচবিবি উপজেলার মানবিক নিবার্হী অফিসার সেলিম আহমেদ ও জেলা প্রশাসক এবং জয়পুরহাট -১ আসনের নবনির্বাচিত মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মজলুম জননেতা ফজলুর রহমান সাঈদ স্যারসহ সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের নিকটে।
যোগাযোগঃ রিপন হোসেন
মোবাইল-০১৯০২-৩০১-০৮২