ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের Logo অন্যায় করে কেউ পার পাবে না; ডা. শফিকুর রহমান Logo বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে Logo শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে শান্তিপূর্ণ,সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১৪ Logo মেয়েদের আইপিএলের নিলামে নেই বাংলাদেশের কেউ Logo এআইকে দেওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে আছে কি না জানুন Logo কখন গোসল করা ভালো সকালে নাকি রাতে? Logo ৭ সেকেন্ডে ৫ রাউন্ড গুলি, বাড়লো সালমান খানের নিরাপত্তা Logo অজ্ঞতাবশত বিতর্ক মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়

ভালো কাজে অবিচল থাকার প্রতিদান

মানুষের জীবনে নেক আমল এক অমূল্য সম্পদ। যা মানুষকে অন্ধকার পথকে আলোকিত করে, হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ সুগম করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নেক আমল শুরু করা যতটা সহজ, তাতে অবিচল থাকা ততটাই কঠিন। কখনো শয়তানের কুমন্ত্রণায়, কখনো দুনিয়ার ব্যস্ততায়, আবার কখনো নিজের অলসতার কারণে আমরা সেই ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলি।
তাই একজন সচেতন মুমিনের জন্য জরুরি হলো—নিজেকে সব সময় স্মরণ করিয়ে দেওয়া, জাগ্রত রাখা এবং নেক আমলের পথে দৃঢ় থাকা।
এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা মুমিন, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মতো যেন না হয়—যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, তারপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছেৃ।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ১৬)
তাই সময়ের সাথে সাথে যেন আমাদের অন্তর কঠিন না হয়ে যায়। বরং আল্লাহর স্মরণে হৃদয়কে নরম রাখা, নিয়মিত আমলের মাধ্যমে আত্মাকে জীবিত রাখা—এটাই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।
আরেকটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী উম্মতদের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বৈরাগ্য অবলম্বন করেছিল, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনিৃ।’(সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৭)
এখানে শিক্ষা হলো- শুধু ভালো কাজ শুরু করাই যথেষ্ট নয়, বরং তা ধারাবাহিকভাবে পালন করাই আসল সফলতা। অনেক সময় মানুষ আবেগে অনুপ্রাণিত হয়ে আমল শুরু করে, কিন্তু স্থায়িত্বের অভাবে তা ধরে রাখতে পারে না।
এজন্যই আল্লাহ তাআলা আমাদের একটি অত্যন্ত অর্থবহ উদাহরণ দিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা ওই নারীর মতো হয়ো না, যে পরিশ্রমের পর কাটা সুতা টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯২)
অর্থাৎ, কষ্ট করে নেক আমল করে পরে তা ছেড়ে দেওয়া যেন সেই নারীর মতো না হয়, যে নিজের পরিশ্রম নিজেই নষ্ট করে দেয়। এটি আমাদের জন্য একটি গভীর উপমা—আমল শুরু করে তা ভেঙে ফেলা কখনোই কাম্য নয়।
নেক আমলে অবিচল থাকার সর্বোচ্চ নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনি আপনার রবের ইবাদত করতে থাকুন। ’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯৯)
এখানে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে—ইবাদতের কোনো ‘শেষ’ নেই, বরং এটি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলমান একটি যাত্রা। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে আল্লাহর ইবাদতে স্থির থাকার।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও আমাদের এই ধারাবাহিকতার গুরুত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি (অনিচ্ছাকৃতভাবে) রাতের কোনো আমল ছেড়ে দেয়, পরে তা ফজর ও যোহরের মাঝখানে আদায় করে নেয়, তার জন্য সেই নেকি লেখা হয় যা রাতে আদায় করলে হতো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৭৪৫)
এই হাদিস আমাদেরকে আশা জাগায় যে, যদি কোনো কারণে আমল ছুটে যায়, তবে তা পূরণ করার চেষ্টা করা উচিত। এতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং আল্লাহর নিকট তার মূল্য অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আবদুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মতো হয়ো না, যে রাতের ইবাদত করত, কিন্তু পরে তা ছেড়ে দিয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১১৫২)
তাই আমল শুরু করে তা পরিত্যাগ করা একজন মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। বরং অল্প হলেও নিয়মিত আমলই আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাতের (নফল) সালাত কোনো কারণে ছুটে গেলে, তিনি দিনে ১২ রাকআত সালাত আদায় করে নিতেন।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৭৪৩)
এখানে আমরা রাসুল (সা.)-এর জীবন্ত আদর্শ দেখতে পাই-তিনি শুধু আমল করতেন না, বরং তা রক্ষা করতেন, পূরণ করতেন এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন।
নেক আমলে অবিচল থাকা কোনো একদিনের কাজ নয়। এটি একটি আজীবন চলমান সংগ্রাম। ছোট ছোট আমল হলেও নিয়মিতভাবে তা পালন করাই আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তাই আমাদের উচিত আন্তরিক নিয়ত, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে এগিয়ে চলা। আর নেক আমলের এই ধারাবাহিকতাই আমাদের জীবনে শান্তি এনে দেবে এবং আখিরাতে মুক্তির পথ সুগম করবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুক। আমিন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

ভালো কাজে অবিচল থাকার প্রতিদান

আপডেট সময় ০৪:২০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে নেক আমল এক অমূল্য সম্পদ। যা মানুষকে অন্ধকার পথকে আলোকিত করে, হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ সুগম করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নেক আমল শুরু করা যতটা সহজ, তাতে অবিচল থাকা ততটাই কঠিন। কখনো শয়তানের কুমন্ত্রণায়, কখনো দুনিয়ার ব্যস্ততায়, আবার কখনো নিজের অলসতার কারণে আমরা সেই ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলি।
তাই একজন সচেতন মুমিনের জন্য জরুরি হলো—নিজেকে সব সময় স্মরণ করিয়ে দেওয়া, জাগ্রত রাখা এবং নেক আমলের পথে দৃঢ় থাকা।
এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা মুমিন, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মতো যেন না হয়—যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, তারপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছেৃ।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ১৬)
তাই সময়ের সাথে সাথে যেন আমাদের অন্তর কঠিন না হয়ে যায়। বরং আল্লাহর স্মরণে হৃদয়কে নরম রাখা, নিয়মিত আমলের মাধ্যমে আত্মাকে জীবিত রাখা—এটাই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।
আরেকটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী উম্মতদের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বৈরাগ্য অবলম্বন করেছিল, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনিৃ।’(সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৭)
এখানে শিক্ষা হলো- শুধু ভালো কাজ শুরু করাই যথেষ্ট নয়, বরং তা ধারাবাহিকভাবে পালন করাই আসল সফলতা। অনেক সময় মানুষ আবেগে অনুপ্রাণিত হয়ে আমল শুরু করে, কিন্তু স্থায়িত্বের অভাবে তা ধরে রাখতে পারে না।
এজন্যই আল্লাহ তাআলা আমাদের একটি অত্যন্ত অর্থবহ উদাহরণ দিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা ওই নারীর মতো হয়ো না, যে পরিশ্রমের পর কাটা সুতা টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯২)
অর্থাৎ, কষ্ট করে নেক আমল করে পরে তা ছেড়ে দেওয়া যেন সেই নারীর মতো না হয়, যে নিজের পরিশ্রম নিজেই নষ্ট করে দেয়। এটি আমাদের জন্য একটি গভীর উপমা—আমল শুরু করে তা ভেঙে ফেলা কখনোই কাম্য নয়।
নেক আমলে অবিচল থাকার সর্বোচ্চ নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনি আপনার রবের ইবাদত করতে থাকুন। ’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯৯)
এখানে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে—ইবাদতের কোনো ‘শেষ’ নেই, বরং এটি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলমান একটি যাত্রা। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে আল্লাহর ইবাদতে স্থির থাকার।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও আমাদের এই ধারাবাহিকতার গুরুত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি (অনিচ্ছাকৃতভাবে) রাতের কোনো আমল ছেড়ে দেয়, পরে তা ফজর ও যোহরের মাঝখানে আদায় করে নেয়, তার জন্য সেই নেকি লেখা হয় যা রাতে আদায় করলে হতো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৭৪৫)
এই হাদিস আমাদেরকে আশা জাগায় যে, যদি কোনো কারণে আমল ছুটে যায়, তবে তা পূরণ করার চেষ্টা করা উচিত। এতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং আল্লাহর নিকট তার মূল্য অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আবদুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মতো হয়ো না, যে রাতের ইবাদত করত, কিন্তু পরে তা ছেড়ে দিয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১১৫২)
তাই আমল শুরু করে তা পরিত্যাগ করা একজন মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। বরং অল্প হলেও নিয়মিত আমলই আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাতের (নফল) সালাত কোনো কারণে ছুটে গেলে, তিনি দিনে ১২ রাকআত সালাত আদায় করে নিতেন।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৭৪৩)
এখানে আমরা রাসুল (সা.)-এর জীবন্ত আদর্শ দেখতে পাই-তিনি শুধু আমল করতেন না, বরং তা রক্ষা করতেন, পূরণ করতেন এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন।
নেক আমলে অবিচল থাকা কোনো একদিনের কাজ নয়। এটি একটি আজীবন চলমান সংগ্রাম। ছোট ছোট আমল হলেও নিয়মিতভাবে তা পালন করাই আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তাই আমাদের উচিত আন্তরিক নিয়ত, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে এগিয়ে চলা। আর নেক আমলের এই ধারাবাহিকতাই আমাদের জীবনে শান্তি এনে দেবে এবং আখিরাতে মুক্তির পথ সুগম করবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুক। আমিন।