দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) সংখ্যা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় সরকার আর নতুন করে এই খাতে লাইসেন্স না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইএসপি লাইসেন্সের সংখ্যাধিক্যের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই নিয়ে সমালোচনাও কম ছিল না। দেশে সব মিলিয়ে আইএসপি লাইসেন্সের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তবে আইএসপিগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি বলছে, প্রয়োজন হলে লাইসেন্স দেওয়ার একটা সুযোগ রাখা উচিত। যেখানে কোনও আইএসপি নেই সেখানে যেন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইএসপি লাইসেন্স দেওয়ার অপশন রাখা হয় মর্মে সংগঠনটি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে অনুরোধ জানিয়েছে।
জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি আইএসপি লাইসেন্স সংক্রান্ত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। কমিশনের লাইসেন্সিং শাখার পরিচালক মো. নুরুন্নবী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইএসপি লাইসেন্স প্রত্যাশী প্রতিষ্ঠানসমূহকে লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লাইসেন্সের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশ্বের আর কোনও দেশে মনে হয় এত লাইসেন্স নেই। তিনি বিটিআরসির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যেখানে কোনও আইএসপি নেই (পার্বত্য এলাকা, দুর্গম অঞ্চল, দ্বীপ এলাকা ইত্যাদি) সেখানে আইএসপি লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে অপশন থাকা উচিত। যখন যেখানে প্রয়োজন হবে সেখান থেকে যেন আবেদন করা যায় লাইসেন্সের জন্য। তা না হলে ওইসব এলাকা ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
ইমদাদুল হক আরও বলেন, যাদের আইএসপি লাইসেন্স আছে যারা যেন অন্য এলাকায় গিয়ে সেবা দিতে পারে এমন অপশনও রাখা উচিত নির্দেশনায়। ধরা যাক, কোনও জায়গায় (উপজেলা/জেলা) আইএসপি সেবা চালু করার প্রয়োজন। লাইসেন্স প্রাপ্ত অন্য এলাকার আইএসপি যেন সেখানে সেবা চালু করতে পারে। তাহলে নতুন করে লাইসেন্স না দিয়েও সেবা দেওয়া সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে বিটিআরসি ১৫৫টি নতুন আইএসপি লাইসেন্স দেয়। সর্বশেষ গত মার্চ মাসে ৭৪টি নতুন প্রতিষ্ঠান আইএসপি লাইসেন্স পায়। যদিও এই সময়ে কয়েকটি আইএসপি শর্ত ভঙ্গ করায় লাইসেন্স বাতিলও করে বিটিআরসি।
প্রসঙ্গত, দেশে চার ক্যাটাগরিতে প্রায় আড়াই হাজার আইএসপি’র লাইসেন্স রয়েছে। নেশনওয়াইড, বিভাগীয়, জেলা ও থানা/উপজেলা পর্যায়ে আইএসপি অপারেটররা সেবা দিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে লাইসেন্সবিহীন অপারেটরের সংখ্যা লাইসেন্সড অপারেটরের দ্বিগুণ।