শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

এশিয়ার শীর্ষ ধনীদের কিছু তথ্য

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

বিশ্বের যে কোনও অ লের চেয়ে এশিয়ায় বেশি বিলিয়নেয়ার রয়েছেন। সংখ্যাটা ৯৫০ জনেরও বেশি। বিশেষ করে চীন ও ভারতে বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা বেশি। বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে এশিয়ানদের মোট সম্পদ ১ বিলিয়ন ডলারের উপরে- সংখ্যাটা ক্রমাগত বাড়ছে। যদিও বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তিদের বেশিরভাগই এখনও আমেরিকান, তা সত্ত্বেও এশিয়ানরা ক্রমাগতভাবে বিশ্বব্যাপী সম্পদের নিরিখে এগিয়ে চলেছে। ফোর্বস এবং ব্লুমবার্গের সর্বশেষ তথ্যের উপর ভিত্তি করে ধনী এশিয়ানদের তালিকা তুলে ধরা হলো –
১) গৌতম আদানি- মোট সম্পদ মূল্য: ১২৪.৮ বিলিয়ন। এই মুহূর্তে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী গৌতম শান্তিলাল আদানি, একজন শিল্পপতি। তিনি ১৯৬২ সালের ২৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান। ভারতে বন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন।
আদানি গোষ্ঠী বেশ কয়েকটি শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বর্তমানে এশিয়ার ২০২৩ সালের ধনীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। এছাড়াও, তিনি এশিয়ান বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যক্তি যিনি ফোর্বস অনুসারে বিশ্বের শীর্ষ তিন ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ‘আদানি গ্রীন পাওয়ার’ প্রকল্পকে সফল করার জন্য তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
২) মুকেশ আম্বানি- মোট সম্পদ: ৮৯.৫ বিলিয়ন। ১৯৬৬ সালে, তার বাবা ধীরুভাই আম্বানি, যিনি একসময় এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন, বিখ্যাত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মুকেশ আম্বানি বর্তমান চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আম্বানি সাম্রাজ্য আজ পেট্রোকেমিক্যাল, তেল ও গ্যাস, খুচরা, টেলিযোগাযোগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রসারিত করেছে। তিনি ২০০৯ সাল থেকে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন হয়ে আছেন। যদিও এ বছর এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হলেন গৌতম আদানি, যিনি তাকে ছাপিয়ে গেছেন।
৩) ঝং শানশান -মোট সম্পদ: ৬৫.৭ বিলিয়ন। একজন স্ব-নির্মিত বিলিয়নিয়ার। তিনি পানীয় বিক্রয় এবং সংবাদপত্রের প্রতিবেদক হিসাবে জীবন শুরু করেছিলেন। এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের এই তালিকায় শানশান সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। তিনি তার কোম্পানি নংফু স্প্রিং প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার পেশাগত কর্মজীবনের গতিপথকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করতে সক্ষম হন। বেইজিং ওয়ানতাই বায়োলজিক্যাল ফার্মেসিতে মূল স্টেকহোল্ডার হিসেবে তার দারুণ সাফল্যের কারণে, তিনি এশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তিও বটে। তার কোম্পানি চীনের খুচরা বাজারে একটি সুপরিচিত নাম। এটি কফি, দুধ চা, কোমল পানীয় এবং দ্রবণীয় ভিটামিন সি সহ একাধিক পানীয় সরবরাহ করে।
৪) ঝাং ইমিং- মোট সম্পদ: ৪৯.৫ বিলিয়ন। বছর ৩৯ এর ইমিং টিকটকের রাজা। তিনি বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন, চীন এবং অন্যান্য অনেক দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সমৃদ্ধ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে এটি একটি। জনপ্রিয় টিকটক অ্যাপের মূল সংস্থা হলো এটি। ইমিং এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার জন্য ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। তিনি চীনের অনূর্ধ্ব ৩০-এর একজন হয়ে ফোর্বস ম্যাগাজিনে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে তার সাফল্যের যাত্রা শুরু হয় ।
৫) লি কা-শিং – মোট সম্পদ মূল্য: ৩৯বিলিয়ন । লি কা-শিং হলেন এশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি, বৃহত্তম বিনিয়োগকারী এবং হংকংয়ের ব্যবসায়িক টাইকুন। তার সংস্থা সমগ্র স্টক মার্কেটের ৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য তিনি অসংখ্য সংস্থাকে বিলিয়ন ডলার দিয়েছেন। লি তার দাতব্য প্রচেষ্টার জন্য সুপরিচিত। বিল গেটসের পরেই তিনি দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাইভেট ফিলানথ্রোপিক ফাউন্ডেশনের মালিক। ফোর্বসের মতে, লি ২০২৩ সালে হংকংয়ের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসাবে তার খেতাব বজায় রেখেছেন।
৬) ঝেং ইউকুন (রবিন ঝেং)- মোট সম্পদ মূল্য:৩৮.২ বিলিয়ন । ডাঃ রবিন ঝেং হলো ঈঅঞখ (কনটেম্পোরারি অ্যাম্পেরেক্স টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড) প্রতিষ্ঠাতা। সংস্থাটি বিশ্বের বৈদ্যুতিক যান এবং ব্যাটারির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। কোম্পানিটি এতই সুপরিচিত এবং শক্তিশালী যে এটি ভক্সওয়াগেন, বিএমডব্লিউ, ফোর্ড এবং এর প্রধান গ্রাহক টেসলার মতো গাড়ি নির্মাতাদের উপাদান সরবরাহ করে – বেশিরভাগ ইভি ব্যাটারি। ঝেং- হংকং-এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এবং চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্স থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি করেছেন। ঝেং আজ যেখানে আছেন সেখানে পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
৭) হুয়াটেং মা- মোট সম্পদ মূল্য: ৩৭.২ বিলিয়ন। হুয়াটেং মা, পনি মা নামেও পরিচিত। শুধুমাত্র চীনে সবচেয়ে সফল সামাজিক মিডিয়া মেসেজিং অ্যাপ চালাচ্ছেন তাই নয়, তিনি টেনসেন্ট হোল্ডিংসের স্রষ্টা এবং মালিক, চীনের অন্যতম বৃহত্তম প্রযুক্তি ব্যবসা এটি। হুয়াটেং এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। তার ফার্ম WeChat নিয়ন্ত্রণ করে, যার শুধুমাত্র চীনেই এক বিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। এই কর্পোরেশনের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ফোর্বসের বিচারে চীনের ১০০ ধনীর তালিকায় মা চতুর্থ স্থানে রয়েছেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার মোট সম্পদ ছিলো ২৩.৪ বিলিয়ন।
৮) তাদাশি ইয়ানাই এবং তার পরিবার- মোট মূল্য: ৩৫ .৮ বিলিয়ন। তাদাশি ইয়ানাই হলেন জাপানি ফ্যাশন এবং খুচরা বিক্রেতার রাজা। এই জাপানি বিলিয়নেয়ার হলেন ফাস্ট রিটেইলিং এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও, যে সংস্থাটি Uniqlo (একটি জাপানি শব্দ যার অর্থ “অনন্য পোশাক”) এর মালিক এবং এর প্রেসিডেন্টও । একজন দর্জির ছেলে, ইয়ানাই ১৯৪৯ সালে দক্ষিণ জাপানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। হিরোশিমা থেকে প্রায়৭৫ মাইল দূরে অবস্থিত উবে শহরে, তার বাবা পুরুষদের জামার দোকান ওগোরি শোজি খুলেছিলেন । ছোটবেলা থেকেই ‘ফ্যাশন’ তাদাশির রক্তে রয়েছে।
৯) লি শাউ-কি- মোট সম্পদ মূল্য: ২৭.৫ বিলিয়ন। লির ব্যবসা অনন্য: তিনি একই সঙ্গে দুটি কোম্পানি, সান হাং কাই এবং কোক টাক-সেং সহ-প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি উল্লেখযোগ্যভাবে সফল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, হেন্ডারসন ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টেরও মালিক। লি অর্থের অভাবে প্রথমে কম তহবিল এবং ঋণ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তিনি “আঙ্কল ফোর” নামেও পরিচিত, বিশ্বের খুব কম চতুর্থ জন্মগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে একজন যিনি মাল্টি বিলিয়নেয়ার হয়েছেন। শাউ শিক্ষাগত অগ্রগতির জন্য ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি দান করেছেন ।
১০) মাসায়োশি সন- মোট সম্পদ মূল্য ২৬.১ বিলিয়ন। জাপানের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি, টঈ বার্কলে থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং একজন স্ব-নির্মিত বিলিয়নিয়ার। ২০২৩ সালের হিসাবে, ফোর্বসের বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় সনের অবস্থান ৬৯তম এবং ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকে তার অবস্থান ২৩৯। টোকিওর ৪৮ বছর বয়সী এই বিলিয়নেয়ার হলেন সফটব্যাঙ্ক ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অ লেও তার অবাধ বিচরণ। সন সিলিকন ভ্যালিতে ৯-একর জমির ওপর ৯,০০০ বর্গফুট ম্যানশন তৈরিতে ১০০ মিলিয়নের বেশি খরচ করেছেন। সূত্র : গালফ নিউজ




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com