সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

নাস্তিক ও শয়তান

ড. মাহফুজুর রহমান
  • আপডেট সময় রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

আজকে যারা শয়তানের প্ররোচনায় তার অনুসরণ করতে গিয়ে নাস্তিকতার পথ অবলম্বন করেছে; তারা শয়তানের চেয়েও অদম। কেননা, তাদের অনুসৃত শয়তানও নাস্তিক নয়, শয়তানও আস্তিক। সেও স্বীকার করে যে, তাকে মহান আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘শয়তান যখন আদমকে সিজদা করার জন্য প্রদত্ত আল্লাহ তায়ালার আদেশ লঙ্ঘন করল তখন তাকে আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞাসা করলেন, কেন সে আল্লাহর আদেশ মতে আদমকে সিজদা করল না? তখন সে জবাবে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে’ (সূরা আল-আরাফ-১২)।
উপর্যুক্ত আয়াত থেকে জানা যায়, শয়তান আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী। কারণ সে স্পষ্ট করেই বলেছে যে, আল্লাহ তায়ালাই তার স্্রষ্টা। তিনিই তাকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দান করছেন। তবে সে আদমকে সিজদা করার ব্যাপারে দম্ভ-অহঙ্কারের কারণেই আল্লাহর আদেশ মানতে পারছে না। কারণ তার মতে, কাদামাটি থেকে সৃষ্ট আদম থেকে আগুন থেকে সৃষ্ট শয়তান উত্তম। সুতরাং কোনো উত্তম কোনো অধমকে সিজদা করতে পারে না। এ প্রসঙ্গে আল কুরআনের অন্য এক স্থানে বলা হয়- আল্লাহ বললেন, ‘হে ইবলিশ, আমার দুই হাতে আমি যাকে সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে তোমাকে বাধা দিলো? তুমি কি অহঙ্কার করলে, না তুমি অধিকতর উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’ সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নি থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে’ (সূরা ওয়াকিয়া : ৭৫-৭৬)।
যে স্্রষ্টা তাকে সৃষ্টি করেছেন তার আদেশ শয়তানের কাছে বড় নয়; তার কাছে বড় হচ্ছে তার সৃষ্টিগত উপাদান আগুন। অথচ এ আগুন যা থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে সে অহঙ্কার ও দম্ভ প্রকাশ করছে সে আগুন থেকেই তাকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ এ কথাও সে স্বীকার করছে। তার পরও একটি খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে স্বয়ং স্্রষ্টার আদেশ লঙ্ঘন করার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। আর এ কারণেই সে চিরদিনের মতো চরম অবাধ্য বলে স্বীকৃত হয়েছে।
শয়তান যে মহাবিশ্ব ও তার স্্রষ্টা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে কেবল তাই নয়; বরং সে আল্লাহকে ভয়ও করে। শয়তানের মুখ থেকে এ কথার স্বীকৃতি নিম্নোক্ত আয়াতে বিবৃত হয়েছে। ইবন জোরাইজ বলেন, ইবন আব্বাস রা: নিম্নোক্ত আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলেছেন, যখন বদর যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছিল তখন শয়তান তার দল-বল ও পতাকা নিয়ে মুশরিকদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। আর মুশরিকদের অন্তরে এ ধারণা সৃষ্টি করে যে, আজকের যুদ্ধে তাদেরকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি দুনিয়াতে নেই। কাজেই তাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। কারণ সে স্বয়ং নিজে তার দল-বল নিয়ে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করবে। কিছুক্ষণ পর শয়তান যখন দেখতে পেলো যে, ফেরেশতারা মুসলমানদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসছে; তখন সে পালাতে শুরু করে। আর পালানোর প্রাক্কালে বলে, আর যখন শয়তান তাদের জন্য তাদের আমলসমূহ সুশোভিত করল এবং বলল, ‘আজ মানুষের মধ্য থেকে তোমাদের উপর কোনো বিজয়ী নেই এবং নিশ্চয় আমি তোমাদের পাশে অবস্থানকারী।’ অতঃপর যখন দুই দল একে অপরকে দেখল, তখন সে পিছু হটল এবং বলল, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের থেকে মুক্ত, নিশ্চয় আমি এমন কিছু দেখছি, যা তোমরা দেখছ না। অবশ্যই আমি আল্লাহকে ভয় করি এবং আল্লাহ কঠিন আজাবদাতা’ (সূরা আল-আনফাল-৪৮)।
এ আয়াতেও শয়তান আল্লাহর অস্তিত্ব বিশ্বাসের কথা স্বীকার করেছে। শুধু তাই নয়; বরং সে এ কথাও বলেছে যে, সে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করে। সুতরাং এক দিক থেকে শয়তানও নাস্তিকদের থেকে উত্তম। কারণ শয়তান আল্লাহর নাফরমানি করলেও আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে। কিন্তু নাস্তিকরা এই শয়তানের চেয়েও অদম। কারণ তারা তাদের স্্রষ্টা আল্লাহকেই স্বীকার করে না।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com