ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ান তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধের কারণে ঊধ্বমুখী হওয়া তেলের দামের লাগাম টানার চেষ্টা করছেন।
মার্কিন ছাড়ের ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশিয়ায় তেলের দাম কমেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির দূত কিরিল দিমিত্রিভের মতে, রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলকে প্রভাবিত করবে, যা প্রায় এক দিনের বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের সমান।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ‘অস্থায়ী অনুমোদন’ ঘোষণা করেছেন, যার ফলে দেশগুলোকে ৩০ দিনের জন্য আটকে থাকা রাশিয়ান তেল কিনতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বেসেন্ট বলেছেন, “এই সংকীর্ণভাবে তৈরি, স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা শুধুমাত্র ইতিমধ্যে পরিবহনে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং রাশিয়ান সরকারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে না, যা তার জ্বালানি আয়ের বেশিরভাগ অংশ উত্তোলনের সময় নির্ধারিত কর থেকে আসে।”
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের তেল ও সমুদ্রগামী গ্যাস ট্যাঙ্কারগুলির প্রায় এক পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে।
ট্রাম্প প্রশাসন বারবার এই প্রণালী দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ইরানি সরকার ঘোষণা করেছে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণ অব্যাহত থাকাকালীন তারা এই অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেল’ রপ্তানি করতে দেবে না।
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার পাহারা দিতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দেওয়ার বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উল্টো সুরে কথা বলেছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিতে প্রস্তুত নয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাইট ঘোষণা করেছিলেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে একটি ট্যাঙ্কারকে সফলভাবে পাহারা দিয়েছে।
তেলের দাম এই সুসংবাদে কমে গিয়েছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউস পরে জানিয়েছিল, নৌবাহিনী প্রণালী দিয়ে তেল বহনকারী কোনো জাহাজের সাথে যায়নি। এর কয়েক মিনিট পরেই ক্রিস রাইটের টুইটটি উধাও হয়ে যায়।