মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
কিউবার প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে: ট্রাম্প প্রশাসন আলি লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরাইলের কমলাপুর স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে সংসদে সংশোধন জরুরি: বদিউল আলম ঈদযাত্রা সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে সব ইউনিটের ফোর্স নিয়োজিত থাকবে: আইজিপি প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ, এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ: মাহদী আমিন কৃষক কার্ড বিতরণের সামগ্রিক বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি দৃশ্যমান করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিএনপিকে ভোট না দিলেও যোগ্য হলে সরকারের সহায়তা পাবে: ইশরাক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ খেলতে চায় ইরান ঈদযাত্রায় পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্ক হবেন যেভাবে

শিশুর খিটখিটে মেজাজের কারণ থাকতে পারে তার খাবারে

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

শিশুদের মেজাজ কখনো ভালো, কখনো খারাপ – এটি স্বাভাবিক। তবে অনেক সময় খিটখিটে ভাব, অস্থিরতা বা অকারণ দুশ্চিন্তাকে আমরা শুধু ‘খারাপ দিন’ ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শিশুর মানসিক অবস্থা ও আচরণের সঙ্গে তার খাদ্যাভ্যাস ও পেটের স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে। অর্থাৎ শিশুর প্লেটে কী আছে, সেটিই অনেক সময় তার মনোভাব ও মনোযোগকে প্রভাবিত করে।
অন্ত্র ও মস্তিষ্কের অদ্ভুত সম্পর্ক
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে বলা হয় গাট-ব্রেইন কানেকশন।
গবেষণা অনুযায়ী, ভালো অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন সেরোটোনিনের প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি হয় অন্ত্রে। অর্থাৎ, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ও হজম প্রক্রিয়া মেজাজ, ঘুম এবং মনোযোগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত প্রসেসড খাবারের প্রভাব
বর্তমানে অনেক শিশুর খাবারের বড় অংশই হয়ে উঠছে প্যাকেটজাত বা অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার। এসব খাবারে সাধারণত কৃত্রিম রং ও ফ্লেভার, অতিরিক্ত চিনি এবং কম পুষ্টিগুণ থাকে।
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে শিশুদের মধ্যে অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব এবং মনোযোগের সমস্যা বাড়তে পারে।
পুষ্টির ঘাটতিও প্রভাব ফেলতে পারে
শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজন সুষম পুষ্টি। যদি খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড না থাকে, তবে তা মস্তিষ্কের কাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্র তাই শিশুদের জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
তাহলে কী পাল্টাবেন
শিশুর খাদ্যাভ্যাসে ছোট কিছু পরিবর্তনই এই ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য আনতে পারে। যেমন –
১. প্রাকৃতিক খাবার বাড়ান
ফল, সবজি, ডাল ও শস্যজাত খাবার শিশুর শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
২. প্রোটিন নিশ্চিত করুন
ডিম, মাছ, ডাল বা বাদামজাত খাবার শিশুর শক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৩. ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার দিন
মাছ, আখরোট বা বীজজাত খাবার মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশে সহায়ক।
৪. ফারমেন্টেড খাবার যোগ করুন
দই বা অন্যান্য ফারমেন্টেড খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।
শিশুর মানসিক সুস্থতা শুধু পড়াশোনা বা ঘুমের ওপর নির্ভর করে না – খাদ্যাভ্যাসও এতে বড় ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিনের খাবারে ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনই শিশুকে আরও শান্ত, মনোযোগী ও প্রাণবন্ত হতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, নিউট্রিশন রিভিউস জার্নাল




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com