রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন




ছুটির দিনে পর্যটকে মুখর সমুদ্রসৈকত

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২২




নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ঘটনার পর কক্সবাজার পর্যটনশিল্প অনেক দিন মুখ থুবড়ে ছিল। পর্যটকে ঠেসে থাকা কক্সবাজারে দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরেছে। আতঙ্ক কাটিয়ে কক্সবাজারে আবার বেড়াতে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে নেমেছে পর্যটকের ঢল। ছুটির দিনে দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদভারে আবারও মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। শুধু সৈকত নয়, আশপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও চোখে পড়ার মতো উপচে পড়া ভিড়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকরা আতঙ্ক কাটিয়ে ও মৌসুম হওয়ায় প্রতিদিন পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছেন। এখানকার ৩৫০ হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউসে কোথাও কোনো কক্ষ ফাঁকা নেই।
সমুদ্রের বালিয়াড়িতে (বালুর ঢিপিময় বিস্তৃত সমুদ্র) দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা, সৈকতের বালুকাবেলায় ছোটাছুটি আর নোনাজলে সমুদ্র স্নানের অনাবিল আনন্দ যেন পর্যটকদের বারবার কাছে টানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে।
যে কারণে সারা বছরই পর্যটক থাকেন কক্সবাজারে। শীত মৌসুমে পর্যটকের ভিড় বাড়ে বহুগুণ। এ সময় দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকে মুখর হয়ে ওঠে সমুদ্রসৈকত। এ ছাড়া বছরের শেষ দিন থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কক্সবাজারে সমাগম হয় পাচঁ লাখেরও বেশি পর্যটকের। বড় ভাইয়ের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালেয়ের শিক্ষার্থী আতিয়া ওয়াসিমা আতিকা। তিনি বলেন, কক্সবাজার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখি কক্সবাজার পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেখানে বিদেশি পর্যটকরা নির্ভয়ে ঘোরাফেরা করছে। তাই সুযোগ পেলেই সমুদ্রের কাছে ছুটে আসি।
ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রাজীবুল আলম। সৈকতের লাবণী পয়েন্টে অনেকটা মুগ্ধতার আবেশে তিনি বলেন, কক্সবাজার আমার কাছে অনন্যসাধারণ একটি জায়গা। এখানে না এলে সমুদ্রের কী মোহনীয়তা তা কেই বুঝতে পারবে না। সবার কাছে আমি আহ্বান জানাব অন্তত একবার হলেও কক্সবাজার থেকে ঘুরে যান।
গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে সপরিবার কক্সবাজার বেড়াতে এসছেন মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সারা বছরই কাজে ডুবে থাকি। ছুটি পাই না। বছরের ডিসেম্বর মাসে একটা ছুটি পাই, সেই সুযোগটা মিস করতে চাইনি, তাই এখানে ছুটে আসা। অসাধারণ সময় কাটছে। আর এখানকার পরিবেশ তো অসাধারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো। সব মিলে আশা করছি খুব ভালো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরব। এদিকে পর্যটকের আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন সৈকতের ফটোগ্রাফার, ঘোড়াওয়ালা, জেডস্কি ও বাইকচালকরা। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলো। এখানকার প্রায় ৩৫০ হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসের কোনোটিতেই ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রুম ফাঁকা নেই বলে ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পয়েন্ট, পর্যটন স্পট ও বালিয়াড়িতে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে আগত পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। সুতরাং যেখানে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হবেন না। অভিযোগ পাওয়ামাত্র সেখানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যটকদের হয়রানি নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com