বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
শ্রীমঙ্গলে বিলাসছড়ার ব্রিজ ভেঙে ৬ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হাটহাজারীতে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু তদন্তে সঠিক হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে-ডা:সোহানিয়া বিল্লাহ স্কুলছাত্রী ফারিয়া হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে লামায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল রৌমারীতে ৬৩ জেলার সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ উল্লাপাড়ায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে চেয়ারম্যানের উদ্যোগে রক্ষা পেল কয়েকশ একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতা থেকে পুকুরে কীটনাশক ঢেলে মাছ নিধন, দুই লাখ টাকার ক্ষতি নেত্রকোনায় জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল হাটহাজারীতে যুবলীগের মানববন্ধন ও কালো পতাকা প্রদর্শন

সবকিছু খোলা রেখে স্বাস্থ্যবিধি মানার কঠোর বিধিনিষেধ 

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২২

আজ থেকে কার্যকর

দেশে আবারো বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বৈশ্বিক এই মহামারির বিস্তার রোধে সবকিছু খোলা রেখে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে বলে গত সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ ১১ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নতুন করে আরোপ করা ১১ বিধিনিষেধ হলো- ১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেঁস্তোরাসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শান্তির সম্মুখীন হতে হবে। ২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। ৩. রেঁস্তোরায় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোন টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে। ৪. ১২ বছরের ঊর্ধ্বের সব ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিং-এর সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টসমূহে ক্রু-দের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধুমাত্র ড্রাইভার থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ৬. ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তাবিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্বপ্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে। ৭. বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড ১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে। ৮. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সকল মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। ৯. সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করবে। ১০. কোভিড আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশসমূহ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে ১১. কোনো এলাকায় ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
যদিও এসব স্থানে মানুষের ভিড়-জটলা করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, এর আগে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। মার্কেট, শপিংমল বন্ধ থাকলেও বিধিনিষেধ অমান্য করে বাজারে ভিড় করেছে মানুষ। সংক্রমণ না থামলেও এখনো মাস্ক ছাড়াই যত্রতত্রভাবে চলাফেরা করছে মানুষ। এ অবস্থায় নতুন এই বিধিনিষেধ কতোটা বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এর আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়ানোয় গত বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় লকডাউনের বিধিনিষেধ ছিল। যদিও তা শতভাগ মেনে চলতে দেখা যায়নি। পরে সংক্রমণের হার কমে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা আসে। সেই সঙ্গে অন্যান্য বিধিনিষেধও শিথিল হয়ে যায়। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর নতুন করে সংক্রমণ বাড়ায় গত ৩রা জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানায় ফের কড়াকড়ি আরোপের দিকে যাচ্ছে সরকার। সেই বৈঠকের পর ৪ঠা জানুয়ারি ১৫ দফা নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যেখানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জনসমাগমে নিরুৎসাহিত করা হয়। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধি হওয়ায় দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রজ্ঞাপন দেয়। এতে আগামী ১৩ই জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সার্বিক কার্যক্রম ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দোকানপাট, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে। রেস্তরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার সনদ দেখাতে হবে। ১২ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বন্দরে ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। স্থলবন্দরগুলোয় আসা ট্রাকের সঙ্গে শুধুমাত্র চালক থাকতে পারবে, কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নেয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনাভাইরাসের টিকার সনদধারী হতে হবে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড-১৯ টিকাকার্ড প্রদর্শন এবং র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করতে হবে।
এ ছাড়াও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। তবে, বাজার কিংবা মার্কেটে মানুষের সমাগম হলেও সেখানে শুধুমাত্র মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ছাড়াও সরকারি- বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আগের মতোই চলছে। ওদিকে, রাজধানীতে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলা চলছে। প্রতিদিনই অনেক মানুষের সমাগম ঘটছে মেলায়। তবে আরোপিত বিধিনিষেধের মধ্যেও মেলার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান মানবজমিনকে জানান, বাণিজ্যমেলার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলার কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি। যদিও মেলার অভ্যন্তরে অনেকের মুখেই মাস্ক দেখা যায় না। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র চলছে মানুষের চলাফেরা। কেনাকাটার চেয়ে দর্শনার্থীদের ভিড়ই বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া বাজার কিংবা মার্কেট-শপিংমলেও মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। যদিও সরকারের নতুন বিধিনিষেধকে বাস্তবসম্মত বলছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, একেবারে বন্ধ করার চেয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসার কার্যক্রম চালাতে দেয়া উচিত। সরকার এবার সেটাই করেছে। এটা খুবই ভালো হয়েছে। কারণ মার্কেট বন্ধ করে দিলে সবদিক থেকে ক্ষতি হয়। আবার সময় কমিয়ে দিলে আরও মানুষের ভিড়-জটলা বাড়ে। তাই সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়েছে। এটা বাস্তবসম্মত। তবে সংক্রমণ রোধে অবশ্যই মাস্ক পরাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মার্কেটগুলোতে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেটা নিশ্চিত করা গেলেই আর কোনো সমস্যা হবে না।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com