মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
পি কে হালদারকে হস্তান্তরে সময় লাগতে পারে : দোরাইস্বামী ২১ ডেঙ্গু রোগী ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হজে যেতে পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির দুই নেতা সম্রাটের জামিন বাতিলের বিষয়ে আদেশ আজ আর্থিক অনুমোদনের ক্ষমতা কমলো পরিকল্পনামন্ত্রীর হানিমুনেই আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল জনি ডেপ: অ্যাম্বার ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ: বড় বাস ২৪০০, মাঝারি ট্রাক ২৮০০, কার/জিপে লাগবে ৭৫০ টাকা কবিতার ইতিহাসে কাজী নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ এক অনন্য সাধারণ রচনা : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তিনি দেশটির ইউএনপি দলের নেতা। তার দল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। লঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিক্রমাসিংহে। মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনা চলছিল দেশটিতে। জানা গেছে, শপথ গ্রহণ করে তিনি কলম্বোর একটি মন্দিরে যাবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তার কার্যক্রম শুরু করবেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। চলমান সহিংস আন্দোলনের মধ্যেই তার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় দেশটির মন্ত্রিসভা। এক বিবৃতিতে গোতাবায়ে রাজাপাকসে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও দেশের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সরকার গঠনে আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি। সংসদের হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার জন্য কিছু সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। গত ২০ বছরের মধ্যে ১২ বছরই শ্রীলঙ্কার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা। এসময় তারা স্বৈরতন্ত্রের তকমা পেয়েছেন। মাহিন্দা রাজাপাকসে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন। তাছাড়া তার অন্য দুই ভাই দেশটির বন্দর ও কৃষি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এভাবে পাকসে পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য সরকারের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজাপাকসে পরিবারের রাজনৈতিক যাত্রা শেষ হচ্ছে? ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকসের ভাই। গত ২০ বছর ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল পাকসের। তার সরকারের সময় তামিল বিদ্রোহীদের দমন করা হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় ও অন্তর্র্বতী সরকার গঠনে সাহায্য করতে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন তিনি। জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ঘাটতিতে দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল-কলেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। জানা গেছে, ৭৬ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কার এই প্রবীণ রাজনীতিকের ভাই গোতাবায়ে রাজাপাকসের সঙ্গে অংশীদারত্বেরভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করেছেন। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী বৌদ্ধদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। হাম্বানটোটার দক্ষিণ জেলায় স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় একটি ধনী পরিবারে জন্ম তার। মাহিন্দা ১৯৭০ সালে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন। শ্রীলঙ্কার সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হওয়ার আগে তিনি একজন আইনজীবী ছিলেন। এরপর ২০০৪ সালে তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এদিকে ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়ের পরে গোতাবায়ে রাজাপাকসে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী রাজবংশকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এসময় তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে শুল্ক আইন পাস করেন ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা পুনর্বহাল করেন। তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। জাতীয়তাবাদী মনোভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। গত ২০ বছরের মধ্যে ১২ বছরই শ্রীলঙ্কার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা। এসময় তারা স্বৈরতন্ত্রের তকমা পেয়েছেন। এর আগে তার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তার অন্য দুই ভাই দেশটির বন্দর ও কৃষি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এভাবে পাকসে পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য সরকারের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ৪৫ বছর ধরে শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রয়েছে। এর আগে একবার রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়। সংবিধানে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কারণ তিনি সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদেরও প্রধান। দেশটির প্রধান বিচারপতি ও পুলিশ প্রধানকেও তিনি নিয়োগ দেন। প্রেসিডেন্ট সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদে প্রয়োজন প্রেসিডেন্টের, যা এই মুহূর্তে নেই। প্রশাসনিক এমন সংকটে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে পতন ঘটতে পারে ঐতিহ্যবাহী এ রাজপরিবারটির।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com