মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন

সরকার জনসমর্থনহীন বলেই ভারতের সাথে অভিন্ন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারছে না : মির্জা ফখরুল

শাহজাহান সাজু :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা বিএনপির

সরকার ‘জনসমর্থনহীন’ বলেই ভারতের সাথে অভিন্ন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের সাথে আমাদের যে অভিন্ন সমস্যাগুলো আছে, অভিন্ন নদীর পানি বন্টন, সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা এবং অন্যান্য যে সমস্যাগুলো আছে তার সমাধান বাংলাদেশ সরকার এখনো পর্যন্ত করতে পারেনি। পারেনি কারণ ওদের পেছনে জনগণের সমর্থন নেই। সেজন্য এখন পর্যন্ত সেই শক্তি নিয়ে এই সরকার কোনো কাজ করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি গতকালও বলেছি, উনি (শেখ হাসিনা) যতবার গেছেন, আমাদের অনেক আশা দিয়ে গেছেন। এই তিস্তা চুক্তি সই হবে, ওমুক হবে, তমুক হবে- এখন পর্যন্ত কোনোটাই হয় নাই।
তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, এক শ’ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়েছিলো সেটারও আপনার ৩০% মাত্র কাজ হয়েছে। আর কোনো কাজ হয়নি। এই বিষয়গুলো নির্ভর করে জনগণের শক্তির উপরে। জনগণ যদি এই সরকারকে সমর্থন দিতো তাহলে প্রত্যেকটি কাজই ইতোমধ্যে হয়ে যেতো। আমি আবারো বলছি, উনি ফিরে আসুন, কী কী আনছেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য- সেটাই হবে এই সফরের সাফল্য।
‘মিয়ানমার প্রসঙ্গে’: মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি যে, এই সরকার যেহেতু জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার নয়, যেহেতু জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তারা সরকারে আসে নাই। সুতরাং তাদের পক্ষে বর্হিবিশ্বে কোনো চুক্তি করা, বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের স্বার্থকে রক্ষা করা অত্যন্ত দুরহ কাজ। এটা আমরা লক্ষ্য করেছি মিয়ানমারের ক্ষেত্রে। এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে এই সরকার কোনো ব্রেক থ্রো করতে পারে নাই। গোলা মারছে। কিন্তু সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে একটি প্রতিক্রিয়া ছাড়া কোনো কিছু করার সাধ্য তাদের নেই।’
‘বর্তমান ইসিকে মানি না’: মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। কারণ এই নির্বাচন কমিশনকে আমরা মানি না। আমরা বলেছি যে, এই কমিশনটাও ছিলো সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক। কারণ আমরা বার বার বলে এসেছি যে নির্বাচন কমিশন দিয়ে নির্বাচন হবে না। ‘নির্বাচন করতে হলে এখানে একটা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে যদি নির্দলীয় সরকার না হয় তাহলে অতীতে যে সমস্ত নির্বাচন কমিশন কাজ করছে তাদের যে হাল হয়েছে, এদের সেই একই হাল হবে। তারা কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। সেই কারণে এই নির্বাচন কমিশন কী বললেন না বললেন তাতে আমাদের জাতির খুব একটা যায় আসে না।’ তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরিয়ে একটা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, সংসদ বিলোপ করা এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন এবং মরহুম নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।
এ সময়ে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আকরামুল হাসান, মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, যুব দলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটির সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর এসএম জিলানী ও রাজীব আহসানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় বিএনপি। সর্বশেষ কমিটি ছিল মোস্তাফিজুর রহমান ও আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে।

রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা বিএনপির: ১০ সাংগঠনিক বিভাগে সভা-সমাবেশের পর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরনকালের বৃহত্তম মহাসমাবেশ করার সবার চিন্তা ভাবনা রয়েছে।

 তেল-গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে চলমান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এই কর্মসূচি ঘোষণা করবে দলটি।
গত সোমবার রাতে দলটির যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠকে এই কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়। পরে রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ঢাকার বাইরে জেলা-থানা-উপজেলা-পৌর-ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির যে কর্মসূচি চলছে তা শেষ হবে শনিবার। এর পরই ওইসব কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। অবশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, তার দলের বর্তমান কর্মসূচি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। তারপরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, তৃণমূলের এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা যে উজ্জীবিত হয়েছে তা দৃশ্যমান হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সমর্থন ভবিষ্যতে বড় কর্মসূচি নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কায় পড়েছে দলের হাইকমান্ড। তাই এখনই তারা কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যেতে চায় না। নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে শুধু কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।
গত সোমবার গুলশান কার্যালয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের ভার্চুয়াল বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী সোহেল, হারুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, মাহবুবের রহমান শামীম, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, শ্যামা ওবায়েদসহ সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা।
জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, চলমান এই কর্মসূচি শেষে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দলের কর্মসূচি চলতেই থাকবে। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছি। আপনারা দেখেছেন, আমাদের এই কর্মসূচিতে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা কীভাবে আক্রমণ করেছে, হামলা করেছে। ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ গুলি করে আমাদের তিন নেতাকে হত্যা করেছে। এখন নতুন করে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা করছে। যশোরে তরিকুল ইসলাম ও কেরানীগঞ্জে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাড়িসহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতার বাড়িতেই সরকারি দলের বাহিনী হামলা করেছে, যা আগে কখনও হয়নি।’
তিনি বলেন, এ রকম হলে দেশে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়বে। তিনি ক্ষমতাসীন দলকে এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com