মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

সাফজয়ীদের লাগেজে চুরির প্রমাণ পায়নি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

স্পোর্টস ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাফজয়ী ফুটবলারদের লাগেজে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। ফুটবলাররা অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাগেজ বুঝে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরে ফুটবল দলের দুজন নারী সদস্যের ব্যাগ (হোল্ড ব্যাগেজ) থেকে ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসি টিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে। তাতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে চুরির কোনও ঘটনা ঘটেনি। বুধবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তা ইমরানকে অক্ষতভাবে সব লাগেজ হস্তান্তর করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিজি-৩৭২ ফ্লাইটে কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় অবতরণ করে। ১টা ৫৮ মিনিটে ব্যাগেজ মেকআপ এরিয়ায় ট্রলি আসে। ১টা ৫৯ মিনিটে ব্যাগেজ মেকআপ এরিয়ায় প্রথম লাগেজ ড্রপ হয়। দুপুর ২টায় কনভেয়ার বেল্ট-০৮-এ প্রথম লাগেজ ড্রপ হয়। দুপুর ২টা ৮ মিনিটে মেকআপ এরিয়ায় শেষ ব্যাগেজ ড্রপ হয়। এরপর বাফুফের প্রটোকল প্রতিনিধি ও দুজন লাগেজ ট্যাগ চেক করে সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর আগে গতকাল বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবনে যাওয়ার পর রাতে জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে ডলার ও টাকা চুরি হয়েছে ফুটবলারদের। যেখানে শামসুন্নাহার সিনিয়রের ৪০০ ডলার এবং কৃষ্ণা রানী সরকারের ৪০০ ডলার ও ৫০ হাজার টাকা চুরি গেছে। এ ছাড়া মার্জিয়ার কিছু নেপালি রুপি ও অন্যদের সাবান চুরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে একটি লম্বা ব্যাগে ট্রলির মধ্যে ছিল সবকিছু। সেখান থেকে এমন ঘটনা হয়েছে। রাতে বাফুফে ভবনে ফেরার পর বুঝতে পেরেছেন চুরির ঘটনা। এতে শামসুন্নাহার-কৃষ্ণাসহ অন্যদের মন বেশ খারাপ হয়। জাতীয় দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘রাতে ওদের ডলার ও অর্থ চুরির বিষয়টি জানা গেছে। এটা বেশ দুঃখজনক ঘটনা।’
সাফজয়ী কৃষ্ণাদের লাগেজের তালা ভেঙে টাকা-কাপড় চুরি: সাফজয়ী ফুটবলার কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা আক্তার ও শামুসন্নাহারের লাগেজ ভেঙে ডলার, কাপড় ও অন্য জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। তিনজনের প্রায় দুই লাখ টাকার মতো চুরি গেছে। এ ছাড়া দলের অন্যান্য সদস্যের লাগেজেরও একই অবস্থা ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফুটবলারদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ‍ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গত বুধবার নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘কৃষ্ণা ও শামসুন্নাহারের ডলার হারিয়েছে বলে জানিয়েছে। কৃষ্ণার নয় শ’ ডলার ও বাংলাদেশী ৫০ হাজার টাকা এবং শামসুন্নাহারের চার শ’ ডলার হারিয়েছে। তাদের ধারণা বাংলাদেশ বিমানবন্দর লাগেজ বেল্ট থেকে এটি হয়েছে।’ এ ঘটনায় প্রচ- হতাশ বাংলাদেশ ফুটবল দলের সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে নামার পর জানতে পারি কৃষ্ণা, শামসুন্নাহারসহ আমাদের দলের ফিজিওর বেশ কিছু জিনিসপত্র খোয়া গেছে। টাকাপয়সাও হারিয়েছে। আমরা বিষয়টি সাথে সাথে কিরণ আপাকে (মাহফুজা আক্তার, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মহিলা উইং চেয়ারম্যান) জানিয়েছি। আপা এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছেন। আশা করি, এ ব্যাপারে একটা সমাধান হবে।’ কৃষ্ণা ও শামসুন্নাহার দু’জনই সিনিয়র ফুটবলার। গত কয়েক বছরে তারা অনেকবার বিদেশে ভ্রমণ করেছেন। বাংলাদেশের বিমানবন্দরে এ রকম খোয়ানোর ঘটনা নতুন নয়। এরপরও এত ডলার লাগেজে রাখায় সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। যদিও কৃষ্ণা ও শামসুন্নাহার দুজনে তালা দিয়েই লাগেজ ব্যাগেজে ডলার রেখেছিলেন। সেই তালা ভেঙেই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। বিমানবন্দরে সাফজয়ী ফুটবলাররা নামার পর চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন অসংখ্য মানুষ। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে কয়েক শ ক্যামেরা ও সাংবাদিকদের ভিড় ছিল। ইমিগ্রেশন শেষ করে নারী ফুটবলারদের যে পথে আসার কথা ছিল, ওই পথে ছিল অসংখ্য সাংবাদিকের ভিড়। যে কারণে সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। মেয়েরা উঠে পড়েন ছাদখোলা বাসে। বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্টের এক পাশে পড়ে ছিল সাবিনা, কৃষ্ণাদের লাগেজগুলো। সেখানে থাকা কয়েক কর্মকর্তা কাল বলছিলেন, ‘এই লাগেজগুলো কাদের। কেউ নিচ্ছে না কেন?’ এরপর বাফুফের পক্ষ থেকে মেয়েদের লাগেজগুলো সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বাফুফে ভবনে গিয়ে খেলোয়াড়দের কয়েকজন নিজেদের লাগেজের তালা ভাঙা পান।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com