শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গু কমার আশা ‘নভেম্বরের শেষে’

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে এ বছর মৃত্যু এরই মধ্যে রেকর্ড করেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১৭ জন। এসময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ হাজার ৪৪৪ জন। এর মাঝে অক্টোবর ও নভেম্বরের ১৭ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৬২ জন। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৫২ জন।
যদিও এর আগে অক্টোবর মাসের শেষে বা নভেম্বর মাসের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে পারে বলে আশা করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে সে আশা পূরণ হয়নি। এবার আশা করা হচ্ছে, নভেম্বরের শেষে কমবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, অক্টোবরের মাঝে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমে যায়। কিন্তু এবার ওই একই সময়ে এসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে। ১৭ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৮৫ জন। এসময়ে মারা গেছেন একজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৩ হাজার ৩৫২ জন এবং ঢাকার বাইরে রয়েছেন ১৮ হাজার ৯২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৪৭৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা থেকে ৩১ হাজার ৬৯৯ জন, ঢাকার বাইরে থেকে ১৬ হাজার ৭৭৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। সরেজমিন শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখা গেছে, ডেঙ্গু বিশেষায়িত ওয়ার্ডের ১২টি বেডেই ভর্তি আছে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুরা। প্রথম তলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬টি বেডেও ডেঙ্গুরোগী পরিপূর্ণ। হাসপাতালের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৫০ জন। বর্তমানে ভর্তি আছে ৬৬ জন। এর মাঝে আইসিইউতে ভর্তি আছে ৭ জন। হাসপাতালটিতে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৭ জন।
কখন কমতে পারে ডেঙ্গু: বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টি হলে বাড়ে ডেঙ্গুবাহী মশার পরিমাণ। আবার পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়লে মশার শরীরে ভাইরাসের স্থায়িত্ব বাড়তে পারে। এ কারণে শীতে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত কম থাকায় সংক্রমণ কমে। এর আগের বছরগুলোতে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাত এবং অক্টোবরে তাপমাত্রা কমা শুরু হলেই কমে যেত ডেঙ্গুর সংক্রমণ। তবে এবার তার উল্টোটা দেখা যাচ্ছে। রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরেই তেমন বৃষ্টি না থাকলেও তুঙ্গে রয়েছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। এ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, এই মাসের শেষের দিকে কমে যাবে ডেঙ্গু সংক্রমণ। শীতের সময় বৃষ্টিপাত কম হবে, এতে ডেঙ্গু মশার জন্ম কমে যাবে।
অন্যদিকে ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, এবার ভেঙ্গুর ধরন বদলেছে। সাধারণত অক্টোবরের পর ভাইরাসটির প্রকোপ থাকে না। কিন্তু এবার অক্টোবরের পর নভেম্বরেও বেশি। মৃত্যু হচ্ছে। শীতে বৃষ্টিপাত কম হয়, বংশবিস্তার করতে পারে না এডিস মশা। সে ক্ষেত্রে শীতের তীব্রতা বাড়লে আশা করছি ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আসবে। এজন্য আগামী এক সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দেশে আসলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ স্থায়ী হতে শুরু করেছে। এজন্য সারা বছরই এডিস মশা নিধন ও মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে কর্মসূচি রাখতে হবে। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস ট্রান্সমিটেড ডিজিজেস (এটিডিএস) নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেছিলেন, অক্টোবর মাসের শেষে বা নভেম্বর মাসের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং সচেতনতার অভাবেই এবার বেড়েছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে না আসা এবং অবহেলার কারণে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঘটছে বলেও সেদিন মন্তব্য করেন তিনি।
অক্টোবরের পরেও কেন ডেঙ্গু সংক্রমণ তুঙ্গে:ভাইরাসের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এডিস বাহক মশার জিনোটাইপ পরিবর্তন ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম ছরোয়ারের মতে, বিগত বছরগুলোতে দেশে সচরাচর সেরোটাইপ-১ ও ২ ছিল। এবার ডেঙ্গুর সেরোটাইপ ২ ও ৩-এর প্রভাবে জটিলতা বেড়েছে। ভাইরাসের ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪ পর্যন্ত থাকে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী যে পরিস্থিতিতে জটিলতায় যায়: চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর ৪ ধরনের মাঝে যেকোনো এক ধরনে আক্রান্ত হলে তার শরীরে সেই ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। যেমন কোনো রোগী ডেন- ১ এ আক্রান্ত হলে পরবর্তী সময়ে সেই ধরনে আর আক্রান্ত হয় না। তবে অন্য ধরনে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। আবার প্রথমবার ডেন-১ এ আক্রান্ত রোগী পরবর্তী সময়ে ডেন ২, ৩ বা ৪ দ্বারা আক্রান্ত হলে জটিলতা বাড়ে।
কোথায় কত মৃত্যু: এবছর বিভাগভিত্তিক হিসাবে বরাবরের মতোই সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। স্বাস্থ্য বিভাগের কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ঢাকায় মারা গেছেন ১৩০ জন। তাদের মাঝে ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে। ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে এ পর্যন্ত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। এর মধ্যে শুধু কক্সবাজার জেলাতেই মারা গেছেন ২৪ জন।-জাগোনিউজ২৪.কম




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com