কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের টামটা গ্রামে খাল ভরাট করে বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, টামটা গ্রামের অহিদখান, আবুল কালাম খান, বিল্লাল খান ও ইসমাইলসহ এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালীরা খালটি ভরাট শুরু করলে পড়ে অন্যরাও খালটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মান করে। বর্তমানে পুরো খালটির অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় টামটা গ্রামের দুই পাশের জমিতে পানি নিস্কাশনের পথ আটকে যায়। ফলে হাজার বিঘা জমি অনাবাদি পরে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান,টামটা খান বাড়ির লোকজন পুরো টামটা গ্রামের উপর আধিপত্য বিস্তারের কারনেই খাল-ভরাটের সময় কেউ বাধা দিতে আসেনি। তাদের দাবি খাল ভরাটের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সোচ্চার না থাকায় দেদারসে খাল ভরাট করে বাড়ীঘর নির্মান করছে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদাররা। এদিকে খাল দখলকৃত জাকির হোসেনর, সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে কোনো সরকারি খাল নেই, পানি চলাচলের জন্য ঢালাইয়ের পাইপ বসানো হয়েছে। এদিকে ঢালাইয়ের পাইপ দেওয়া হলেও পানি নিস্কাশনের জন্য কোনো কাজে আসছে না বলে ও জানা গেছে। কয়েকজন কৃষক অভিযোগে করে সাংবাদিকদের জানায় পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ার ফলে ভারী বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ফলে নানা সমস্যায় পরতে হচ্ছে সেখানকার কৃষকদের। কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান,জমি থেকে দেরিতে পানি নামায় বাঙ্গি ও ক্ষীরাসহ অন্যান্য ফসলের আগাম আবাদ করা বন্ধ হয়ে যায়। কখনো কখনো বীজবপন করার পর ভারী বৃষ্টিতে পানি আটকে জমি তলিয়ে গিয়ে বীজ পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে পুনরায় আবারো বীজবপন করতে হয় কৃষকদের। একাধিকবার বীজবপনের ফলে খরচ বেড়ে যায় দ্বিগুণ। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ না হওয়ায় কৃষকরা এখন চাষাবাদ থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে,এতেই অনাবাদি পরে থাকছে হাজার বিঘা জমি। এক সময় এই টামটা গ্রামের জমিতে টমেটো, ভাংগি ও ক্ষীরার আবাদ করতো প্রচুর যা বিভিন্ন গণমাধ্যম গুলোতে এক সময় সংবাদ প্রচার করা হতো। বর্তমানে দখলদারদের খাল ভরাট করে বাড়ী ঘর নির্মানের কারণে উপযুক্ত সময়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সেই জমিগুলো এখন অনাবাদি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা জোবায়ের আহমেদ জানান, খালটিকে পুনরুদ্ধার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অনেক আগেই। তবে সেই প্রস্তাবের অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মহিনুল হাসান জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি শীঘ্রই খালটি পুনরুদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।