ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা Logo জামালপুরে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন আমরণ অনশনে Logo খাল খনন নামে ৩০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ Logo অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি Logo টুঙ্গিপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গাঁজা সেবনে ১ মাস, ইয়াবা সেবনে ৩ মাসের কারাদন্ড Logo গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ Logo তাড়াশে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে গুদামজাত সার Logo ধনবাড়ীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান Logo ৯ প্রতারক গ্রেফতার, উদ্ধার নগদ টাকা-২০ সিম-১১ মোবাইল

৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা ক‌রে পরস্পর যোগসাজশে তা আত্মসাৎ করার অভি‌যো‌গে বিত‌র্কিত ব‌্যবসায়ী এস আলম, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সদ‌্য সাবেক রাষ্ট্রপ‌তি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধা‌নের জন‌্য দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশ‌নে অভি‌যোগ দি‌য়ে‌ছে ইসলামী ব‌্যাংক।
সম্প্রতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী ব্যাংকের পক্ষে দুদকে এ অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। ওই তদন্তে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে ইসলামী ব্যাংক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়ানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরে ওই ঋণের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যাংক।
অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ব্যবসায়ী এস আলম। তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া, মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গঠিত পরিচালনা পর্ষদে তিনি যুক্ত হন। ওই সময়ই সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে ৫০০ কোটি টাকা করা হয় বলে ব্যাংকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই মাসে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ত্যাগ করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা

৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা ক‌রে পরস্পর যোগসাজশে তা আত্মসাৎ করার অভি‌যো‌গে বিত‌র্কিত ব‌্যবসায়ী এস আলম, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সদ‌্য সাবেক রাষ্ট্রপ‌তি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধা‌নের জন‌্য দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশ‌নে অভি‌যোগ দি‌য়ে‌ছে ইসলামী ব‌্যাংক।
সম্প্রতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী ব্যাংকের পক্ষে দুদকে এ অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। ওই তদন্তে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে ইসলামী ব্যাংক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়ানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরে ওই ঋণের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যাংক।
অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ব্যবসায়ী এস আলম। তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া, মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গঠিত পরিচালনা পর্ষদে তিনি যুক্ত হন। ওই সময়ই সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে ৫০০ কোটি টাকা করা হয় বলে ব্যাংকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই মাসে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ত্যাগ করেন।