ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আজ বুধবার বিজয়া দশমী Logo পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে-এমপি হাফিজ ইব্রাহিম Logo এম ক্যাশ লিঃ-এর বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত Logo বোরহানউদ্দিনে ২০টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, ৯০০ পরিবারের হাতে উপহার ও নগদ অর্থ দিলেন এমপি হাফিজ ইব্রাহিম Logo বিকেবি অফিসার কল্যাণ সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত Logo নাজিরপুরে পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সুমন মঞ্জুর Logo বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ-স্পিকার হাফিজ Logo টঙ্গীতে সেতু বন্ধন বরিশাল বিভাগীয় জনকল্যাণ সমিতির কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা Logo ঈশ্বরগঞ্জে লাঠি-বৈঠা হাতে নিয়ে নিষিদ্ধ আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল Logo গঙ্গাচড়ায় ঝুকিপুর্ণ নোহালী ইউপি ভবনে চলছে কার্যক্রম

চিকিৎসক ও রোগীর আস্থা, সহানুভূতির বন্ধনই চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘চিকিৎসা সেবার গুণগত মানোন্নয়নে চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘এই তিনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন কিংবা রোগী ও রোগীর স্বজনরা যদি চিকিৎসকের ওপর বিশ্বাস এবং মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে আমরা যতই হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।’
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর নবনির্মিত ১৫ তলা ‘ভবন-২’ (নিউরোসায়েন্স-২)-এর শুভ উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই, আজ ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ এর শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে আরো এক ধাপ এগিয়েছি।’
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ যেই হাসপাতালটির নতুন ভবনের উদ্বোধন হলো, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে আরো আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে আজ এই হাসপাতাল আকার আয়তনে আরো বড় রূপ ধারণ করলো।’
আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রযুক্তি ও মানবিকতার সংমিশ্রণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।’
চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। সহানুভূতিশীল আচরণ, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা চিকিৎসার মানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে চিকিৎসা সেবা ও পরিবেশ নির্বিঘœ রাখার দায়-দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়, এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসা কেবল শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগী যাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে না এসেও চিকিৎসা পান, সেজন্য ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।’
আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য৷ সেদিকে লক্ষ্য রেখে বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে। একইভাবে শিশু স্বাস্থ্যের প্রতিও সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছে।’
জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার স্রেফ কোনো স্লোগান নয়। সরকার একটি কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে না হয় এবং অর্থাভাবে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
তিনি বলেন, স্ট্রোক, এপিলেপসি, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদ-ের জটিল রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের এই নতুন ভবনের মাধ্যমে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সর্বাধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা সম্বলিত এই ভবনটি চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না।
কিংবা কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। একজন সাধারণ মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান আপনাদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এছাড়াও এ সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজ বুধবার বিজয়া দশমী

চিকিৎসক ও রোগীর আস্থা, সহানুভূতির বন্ধনই চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৫০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘চিকিৎসা সেবার গুণগত মানোন্নয়নে চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘এই তিনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন কিংবা রোগী ও রোগীর স্বজনরা যদি চিকিৎসকের ওপর বিশ্বাস এবং মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে আমরা যতই হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।’
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর নবনির্মিত ১৫ তলা ‘ভবন-২’ (নিউরোসায়েন্স-২)-এর শুভ উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই, আজ ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ এর শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে আরো এক ধাপ এগিয়েছি।’
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ যেই হাসপাতালটির নতুন ভবনের উদ্বোধন হলো, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে আরো আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে আজ এই হাসপাতাল আকার আয়তনে আরো বড় রূপ ধারণ করলো।’
আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রযুক্তি ও মানবিকতার সংমিশ্রণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।’
চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। সহানুভূতিশীল আচরণ, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা চিকিৎসার মানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে চিকিৎসা সেবা ও পরিবেশ নির্বিঘœ রাখার দায়-দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়, এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসা কেবল শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগী যাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে না এসেও চিকিৎসা পান, সেজন্য ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।’
আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য৷ সেদিকে লক্ষ্য রেখে বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে। একইভাবে শিশু স্বাস্থ্যের প্রতিও সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছে।’
জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার স্রেফ কোনো স্লোগান নয়। সরকার একটি কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে না হয় এবং অর্থাভাবে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
তিনি বলেন, স্ট্রোক, এপিলেপসি, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদ-ের জটিল রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের এই নতুন ভবনের মাধ্যমে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সর্বাধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা সম্বলিত এই ভবনটি চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না।
কিংবা কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। একজন সাধারণ মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান আপনাদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এছাড়াও এ সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।