ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

আজিয়াদ দুর্গ থেকে মক্কার বিখ্যাত ঘড়ি টাওয়ার

  • ইসলাম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 78

পবিত্র মক্কা নগরীর বর্তমান আকাশরেখা দেখলে চোখে পড়ে বিশাল আবরাজ আল বাইত কমপ্লেক্সের সুউচ্চ ঘড়ি টাওয়ার। মসজিদুল হারামের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই আধুনিক স্থাপত্য এখন মক্কার অন্যতম পরিচিত জায়গা। কিন্তু তিন দশকেরও বেশি আগে এই একই স্থানে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্যÑদাঁড়িয়ে ছিল ঐতিহাসিক আজিয়াদ দুর্গ।
১৯৯১ সালে তোলা কয়েকটি দুর্লভ ছবিতে মক্কার সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের এক জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, বুলবুল পাহাড়ের ওপর গড়ে ওঠা আজিয়াদ দুর্গ তখনো মসজিদুল হারামের আশপাশের ভূদৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
আজিয়াদ দুর্গ ছিল মক্কার অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭৮০ সালে মক্কার শরীফ সুরুর বিন মুসাইদ দুর্গটি নির্মাণ করেন। মক্কা ও পবিত্র কাবা শরিফকে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। আজিয়াদ দুর্গ ছিল সেসব প্রতিরক্ষা স্থাপনার অন্যতম।
বুলবুল পাহাড়ের ওপর অবস্থানের কারণে দুর্গটি কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এখান থেকে মসজিদুল হারাম এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিষ্কারভাবে দেখা যেত। ফলে এটি একই সঙ্গে ছিল একটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং মক্কার ঐতিহাসিক ভূদৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১৯৯১ সালে ধারণ করা চারটি দুর্লভ ছবিতে আজিয়াদ দুর্গকে তার প্রায় শেষ সময়ের চেহারায় দেখা যায়। ছবিগুলোতে দুর্গের দেয়াল, সিঁড়ি, মিনার এবং মসজিদুল হারামের দিকের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। তৎকালীন মক্কার সঙ্গে বর্তমান মক্কার তুলনা করলে ছবিগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কয়েক দশক আগে মসজিদুল হারামের চারপাশের পাহাড় ও স্থাপনাগুলোর যে বিন্যাস ছিল, পরবর্তী ব্যাপক নগর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ফলে তা অনেকটাই বদলে গেছে। তখন আজিয়াদ দুর্গ ছিল মক্কার আকাশরেখার একটি দৃশ্যমান অংশ। আজ সেই দৃশ্য শুধু পুরোনো ছবি ও ঐতিহাসিক স্মৃতিতে টিকে আছে।
মসজিদুল হারামের আশপাশের ব্যাপক উন্নয়ন ও পুনর্র্নিমাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে আজিয়াদ দুর্গটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ঐতিহাসিক দুর্গের স্থানটি নতুন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা হয়। সেখানে নির্মিত হয় বিশাল আবরাজ আল বাইত কমপ্লেক্স, যার অন্যতম প্রধান স্থাপনা হলো মক্কার বিখ্যাত ঘড়ি টাওয়ার। ফলে একই স্থান সময়ের ব্যবধানে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন যুগের সাক্ষী হয়ে ওঠেÑএকসময় সেখানে ছিল অটোমান-পরবর্তী যুগের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা দুর্গ, আর এখন দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত আধুনিক স্থাপত্যগুলোর একটি। একসময় যে দুর্গ দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মক্কার ওপর নজর রেখেছিল, আজ সেটি শুধু ছবির পাতায় ফিরে আসে। আর সেই ছবিগুলোই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে হারিয়ে যাওয়া এক মক্কার চিত্র।
সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

আজিয়াদ দুর্গ থেকে মক্কার বিখ্যাত ঘড়ি টাওয়ার

আপডেট সময় ০৯:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিত্র মক্কা নগরীর বর্তমান আকাশরেখা দেখলে চোখে পড়ে বিশাল আবরাজ আল বাইত কমপ্লেক্সের সুউচ্চ ঘড়ি টাওয়ার। মসজিদুল হারামের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই আধুনিক স্থাপত্য এখন মক্কার অন্যতম পরিচিত জায়গা। কিন্তু তিন দশকেরও বেশি আগে এই একই স্থানে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্যÑদাঁড়িয়ে ছিল ঐতিহাসিক আজিয়াদ দুর্গ।
১৯৯১ সালে তোলা কয়েকটি দুর্লভ ছবিতে মক্কার সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের এক জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, বুলবুল পাহাড়ের ওপর গড়ে ওঠা আজিয়াদ দুর্গ তখনো মসজিদুল হারামের আশপাশের ভূদৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
আজিয়াদ দুর্গ ছিল মক্কার অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭৮০ সালে মক্কার শরীফ সুরুর বিন মুসাইদ দুর্গটি নির্মাণ করেন। মক্কা ও পবিত্র কাবা শরিফকে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। আজিয়াদ দুর্গ ছিল সেসব প্রতিরক্ষা স্থাপনার অন্যতম।
বুলবুল পাহাড়ের ওপর অবস্থানের কারণে দুর্গটি কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এখান থেকে মসজিদুল হারাম এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিষ্কারভাবে দেখা যেত। ফলে এটি একই সঙ্গে ছিল একটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং মক্কার ঐতিহাসিক ভূদৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১৯৯১ সালে ধারণ করা চারটি দুর্লভ ছবিতে আজিয়াদ দুর্গকে তার প্রায় শেষ সময়ের চেহারায় দেখা যায়। ছবিগুলোতে দুর্গের দেয়াল, সিঁড়ি, মিনার এবং মসজিদুল হারামের দিকের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। তৎকালীন মক্কার সঙ্গে বর্তমান মক্কার তুলনা করলে ছবিগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কয়েক দশক আগে মসজিদুল হারামের চারপাশের পাহাড় ও স্থাপনাগুলোর যে বিন্যাস ছিল, পরবর্তী ব্যাপক নগর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ফলে তা অনেকটাই বদলে গেছে। তখন আজিয়াদ দুর্গ ছিল মক্কার আকাশরেখার একটি দৃশ্যমান অংশ। আজ সেই দৃশ্য শুধু পুরোনো ছবি ও ঐতিহাসিক স্মৃতিতে টিকে আছে।
মসজিদুল হারামের আশপাশের ব্যাপক উন্নয়ন ও পুনর্র্নিমাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে আজিয়াদ দুর্গটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ঐতিহাসিক দুর্গের স্থানটি নতুন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা হয়। সেখানে নির্মিত হয় বিশাল আবরাজ আল বাইত কমপ্লেক্স, যার অন্যতম প্রধান স্থাপনা হলো মক্কার বিখ্যাত ঘড়ি টাওয়ার। ফলে একই স্থান সময়ের ব্যবধানে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন যুগের সাক্ষী হয়ে ওঠেÑএকসময় সেখানে ছিল অটোমান-পরবর্তী যুগের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা দুর্গ, আর এখন দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত আধুনিক স্থাপত্যগুলোর একটি। একসময় যে দুর্গ দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মক্কার ওপর নজর রেখেছিল, আজ সেটি শুধু ছবির পাতায় ফিরে আসে। আর সেই ছবিগুলোই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে হারিয়ে যাওয়া এক মক্কার চিত্র।
সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন।