ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

মৃত্যুর স্মরণে মুমিনের করণীয়

মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যা থেকে কেউ মুক্তি পাবে না। ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি কিংবা মর্যাদা—কিছুই মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫)
অতএব, আমাদের মৃত্যুর আগেই আখিরাতের প্রস্তুতি নিতে হবে। অথচ মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততায় এমনভাবে ডুবে যায়, যেন এ জীবনই তার শেষ ঠিকানা।
এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে মুমিনের উচিত সর্বদা মৃত্যুর স্মরণ করা। নিম্নে মৃত্যুর স্মরণের কিছু উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনে
মানুষের গুনাহর পেছনে বড় একটি কারণ হলো মৃত্যুকে ভুলে থাকা। সে জানে, একদিন তাকে চলে যেতে হবে; কিন্তু এই সত্যটি জীবনের সিদ্ধান্তে খুব কমই প্রভাব ফেলে। ফলে প্রবৃত্তির তাড়নায় অনেক সময় হারামকে তুচ্ছ মনে হয়।
অথচ মৃত্যু সব পরিকল্পনার অবসান ঘটিয়ে মানুষকে আল্লাহর সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে মানুষের উদাসীনতা দূর হয় এবং আমলের হিসাব নিয়ে ভাবনা তৈরি হয়। একটি হারাম দৃষ্টি, মিথ্যা কথা কিংবা কারো প্রতি অন্যায় কিছুই যে হিসাবের বাইরে থাকবে না, এই উপলব্ধি তাকে সতর্ক করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অধিক পরিমাণে মৃত্যুকে স্মরণ করো, যা আনন্দ উপভোগকে বিনষ্ট করে দেয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৭)
মৃত্যুচিন্তা মানুষকে আখিরাতের জবাবদিহির কথা মনে করিয়ে দেয়।
একাকী অবস্থায়ও সে গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে এটি অহংকার দূর করে; কারণ ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-দুর্বল সবাইকে একই পরিণতির দিকে যেতে হবে।
মানুষকে আখিরাতমুখী করে তোলে
মৃত্যুচিন্তা মানুষকে সময়ের মূল্য বুঝতে শেখায়। অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করে নেক আমলের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটির আগে মূল্যবান মনে করো—বার্ধক্যের আগে যৌবনকে, অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতাকে, ব্যস্ততার আগে অবসরকে এবং মৃত্যুর আগে জীবনকে।’ (আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, হাদিস : ৭৮৪৬)
মৃত্যু মনে করিয়ে দেয়, যে কাউকে যেকোনো মুহূর্তে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে হবে, তাই ভালো কাজ পরে করার সুযোগ না-ও মিলতে পারে। অতএব, নামাজ-রোজা, তাওবা, সদকা ও মানুষের হক আদায়ে যত্নবান হওয়ার বিকল্প নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১)
নিজের আমলের পর্যালোচনা করতে শেখায়
মৃত্যুচিন্তা মানুষকে নিজের আমল পর্যালোচনা ও আত্মশুদ্ধির দিকে নিয়ে যায়। তবে এটি হতাশার কারণ নয়; বরং আল্লাহর রহমতের আশা রেখে আখিরাতের প্রস্তুতির প্রেরণা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, সে-ই সফল।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫)
মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করে
মুমিনের জীবন শুধু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আবদ্ধ নয়; তার মনে সব সময় মৃত্যুর প্রস্তুতিও থাকে। কারণ মৃত্যু কখন এসে উপস্থিত হবে, তা কারো জানা নেই। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে তারিক! মৃত্যু আসার আগেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও।’ (আল-মুস্তাদরিক আলাস সাহিহাইন, হাদিস : ৮৯৪৯)
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ রয়েছে, ‘সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের অপেক্ষা কোরো না, আর সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা কোরো না। অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে কাজে লাগাও এবং মৃত্যুর জন্য জীবিতাবস্থায় পাথেয় সংগ্রহ করো।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১৬)
হাসান ইবনে আলী আল-ফাইয়ূমি (রহ.) বলেন, মানুষের জীবনে অতিবাহিত প্রতিটি মুহূর্তই হতে পারে তার মৃত্যুর মুহূর্ত; এমনকি প্রতিটি শ্বাসও হতে পারে জীবনের শেষ শ্বাস।’ (ফাতহুল কাবির আলমুজিব আলাত তারগিব ওয়াত তারহিব : ৪/৭০৮)
অতএব, প্রত্যেক মুমিনের উচিত বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা, আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

মৃত্যুর স্মরণে মুমিনের করণীয়

আপডেট সময় ০৮:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যা থেকে কেউ মুক্তি পাবে না। ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি কিংবা মর্যাদা—কিছুই মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫)
অতএব, আমাদের মৃত্যুর আগেই আখিরাতের প্রস্তুতি নিতে হবে। অথচ মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততায় এমনভাবে ডুবে যায়, যেন এ জীবনই তার শেষ ঠিকানা।
এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে মুমিনের উচিত সর্বদা মৃত্যুর স্মরণ করা। নিম্নে মৃত্যুর স্মরণের কিছু উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনে
মানুষের গুনাহর পেছনে বড় একটি কারণ হলো মৃত্যুকে ভুলে থাকা। সে জানে, একদিন তাকে চলে যেতে হবে; কিন্তু এই সত্যটি জীবনের সিদ্ধান্তে খুব কমই প্রভাব ফেলে। ফলে প্রবৃত্তির তাড়নায় অনেক সময় হারামকে তুচ্ছ মনে হয়।
অথচ মৃত্যু সব পরিকল্পনার অবসান ঘটিয়ে মানুষকে আল্লাহর সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে মানুষের উদাসীনতা দূর হয় এবং আমলের হিসাব নিয়ে ভাবনা তৈরি হয়। একটি হারাম দৃষ্টি, মিথ্যা কথা কিংবা কারো প্রতি অন্যায় কিছুই যে হিসাবের বাইরে থাকবে না, এই উপলব্ধি তাকে সতর্ক করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অধিক পরিমাণে মৃত্যুকে স্মরণ করো, যা আনন্দ উপভোগকে বিনষ্ট করে দেয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৭)
মৃত্যুচিন্তা মানুষকে আখিরাতের জবাবদিহির কথা মনে করিয়ে দেয়।
একাকী অবস্থায়ও সে গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে এটি অহংকার দূর করে; কারণ ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-দুর্বল সবাইকে একই পরিণতির দিকে যেতে হবে।
মানুষকে আখিরাতমুখী করে তোলে
মৃত্যুচিন্তা মানুষকে সময়ের মূল্য বুঝতে শেখায়। অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করে নেক আমলের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটির আগে মূল্যবান মনে করো—বার্ধক্যের আগে যৌবনকে, অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতাকে, ব্যস্ততার আগে অবসরকে এবং মৃত্যুর আগে জীবনকে।’ (আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, হাদিস : ৭৮৪৬)
মৃত্যু মনে করিয়ে দেয়, যে কাউকে যেকোনো মুহূর্তে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে হবে, তাই ভালো কাজ পরে করার সুযোগ না-ও মিলতে পারে। অতএব, নামাজ-রোজা, তাওবা, সদকা ও মানুষের হক আদায়ে যত্নবান হওয়ার বিকল্প নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১)
নিজের আমলের পর্যালোচনা করতে শেখায়
মৃত্যুচিন্তা মানুষকে নিজের আমল পর্যালোচনা ও আত্মশুদ্ধির দিকে নিয়ে যায়। তবে এটি হতাশার কারণ নয়; বরং আল্লাহর রহমতের আশা রেখে আখিরাতের প্রস্তুতির প্রেরণা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, সে-ই সফল।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫)
মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করে
মুমিনের জীবন শুধু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আবদ্ধ নয়; তার মনে সব সময় মৃত্যুর প্রস্তুতিও থাকে। কারণ মৃত্যু কখন এসে উপস্থিত হবে, তা কারো জানা নেই। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে তারিক! মৃত্যু আসার আগেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও।’ (আল-মুস্তাদরিক আলাস সাহিহাইন, হাদিস : ৮৯৪৯)
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ রয়েছে, ‘সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের অপেক্ষা কোরো না, আর সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা কোরো না। অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে কাজে লাগাও এবং মৃত্যুর জন্য জীবিতাবস্থায় পাথেয় সংগ্রহ করো।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১৬)
হাসান ইবনে আলী আল-ফাইয়ূমি (রহ.) বলেন, মানুষের জীবনে অতিবাহিত প্রতিটি মুহূর্তই হতে পারে তার মৃত্যুর মুহূর্ত; এমনকি প্রতিটি শ্বাসও হতে পারে জীবনের শেষ শ্বাস।’ (ফাতহুল কাবির আলমুজিব আলাত তারগিব ওয়াত তারহিব : ৪/৭০৮)
অতএব, প্রত্যেক মুমিনের উচিত বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা, আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।