ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের Logo ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার Logo সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত Logo দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আগে রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী Logo নরসিংদীতে জনপ্রিয় মালয়েশিয়ার রুটি চানাই Logo সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ, তিন মাসে আয় ১৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার Logo ম্যাকগ্রার রেকর্ড ভেঙে স্টার্কের ইতিহাস, নিলেন ৪৫০ উইকেট Logo সিসি ক্যামেরা নাকি আইপি ক্যামেরা, নিরাপত্তায় কোনটি সেরা?

আদর্শ সন্তানের প্রতি ইসলামের ৮ নির্দেশনা

একজন ভালো সন্তান বলতে এমন একজনকে বোঝায়, যার মধ্যে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় দিকেই কিছু উত্তম গুণাবলী পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে। বাহ্যিক দিক থেকে, সে নিয়মিত নামাজ আদায় করে, বড় পাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখে এবং ছোট পাপের ব্যাপারেও সতর্ক থাকে। সে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে এবং সর্বদা পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও কর্তব্যপরায়ণ থাকে। তার আচরণে শালীনতা, আনুগত্য ও নৈতিকতার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
আর অভ্যন্তরীণ দিক থেকে, তার অন্তর থাকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ। সে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকারসহ সব ধরনের অন্তর্দোষ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করে। তার হৃদয়ে থাকে বিনয়, সহানুভূতি, আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি। একজন নেককার সন্তান এমন কিছু উত্তম গুণে গুণান্বিত থাকে, যা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদাবান করে তোলে।
তার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
১. পিতামাতার প্রতি কর্তব্যপরায়ণতা : সে জীবিত অবস্থায় পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, অনুগত ও সদয় আচরণ করে। আর তাদের মৃত্যুর পরও তাদের জন্য দোয়া করতে ভুলে না। কারণ, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস ব্যতীত—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা থেকে উপকার লাভ করা হয়, এবং নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৬৩১)
২. আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা : একজন মুমিনের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল।
সে আল্লাহকে সর্বাধিক ভালোবাসে, এটাই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহকে সর্বাধিক ভালোবাসে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৫)
৩. রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা : রাসুল (সা.)-কে নিজের প্রাণ, পরিবার ও সবকিছুর চেয়েও বেশি প্রিয় মনে করে। রাসুল (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সব মানুষের চেয়েও বেশি প্রিয় হই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৫)
৪. ইবাদতে অটল থাকা : সে নিয়মিত নামাজ আদায় করে, রোজা রাখে, জাকাত প্রদান করে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী হজ পালন করে।
সে আন্তরিকতার সঙ্গে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং দ্বীনের প্রতি অবিচল থাকে। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের শুধু এ আদেশই দেওয়া হয়েছে যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠভাবে পালন করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে—এটাই সঠিক দ্বিন।’(সুরা : বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)
৫. ঈমানের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী হওয়া : সে আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, কিয়ামত ও পুনরুত্থানের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস পোষণ করবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ঈমান হলো-তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, আখিরাত দিবস এবং তাকদিরের ভাল-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৪৭৭৭)
৬. উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া : তার চরিত্রে থাকবে সত্যবাদিতা, নম্রতা, ধৈর্য, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মানসিকতা। সে মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং আমানতের খিয়ানত করা থেকে বিরত থাকে—কারণ এগুলো মুনাফিকদের লক্ষণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে, এবং যখন আমানত রাখা হয় তা খিয়ানত করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৫৯)
৭. রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকা : সে সহজে রাগান্বিত হয় না, আর রাগ হলেও নিজেকে সংযত রাখে। প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে জয়ী হয়, বরং শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬১১৪)
৮. অহংকারমুক্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া : তার অন্তরে অহংকার থাকবে না। সে হবে বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র। কারণ সামান্য অহংকারও মানুষকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৯১)
এই গুণাবলীগুলোই একজন সন্তানকে আদর্শ সন্তান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। এবং নিজের জীবনকে সুন্দর চরিত্র, দৃঢ় ঈমান এবং উত্তম আমলের মাধ্যমে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের

আদর্শ সন্তানের প্রতি ইসলামের ৮ নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৩:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

একজন ভালো সন্তান বলতে এমন একজনকে বোঝায়, যার মধ্যে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় দিকেই কিছু উত্তম গুণাবলী পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে। বাহ্যিক দিক থেকে, সে নিয়মিত নামাজ আদায় করে, বড় পাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখে এবং ছোট পাপের ব্যাপারেও সতর্ক থাকে। সে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে এবং সর্বদা পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও কর্তব্যপরায়ণ থাকে। তার আচরণে শালীনতা, আনুগত্য ও নৈতিকতার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
আর অভ্যন্তরীণ দিক থেকে, তার অন্তর থাকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ। সে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকারসহ সব ধরনের অন্তর্দোষ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করে। তার হৃদয়ে থাকে বিনয়, সহানুভূতি, আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি। একজন নেককার সন্তান এমন কিছু উত্তম গুণে গুণান্বিত থাকে, যা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদাবান করে তোলে।
তার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
১. পিতামাতার প্রতি কর্তব্যপরায়ণতা : সে জীবিত অবস্থায় পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, অনুগত ও সদয় আচরণ করে। আর তাদের মৃত্যুর পরও তাদের জন্য দোয়া করতে ভুলে না। কারণ, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস ব্যতীত—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা থেকে উপকার লাভ করা হয়, এবং নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৬৩১)
২. আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা : একজন মুমিনের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল।
সে আল্লাহকে সর্বাধিক ভালোবাসে, এটাই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহকে সর্বাধিক ভালোবাসে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৫)
৩. রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা : রাসুল (সা.)-কে নিজের প্রাণ, পরিবার ও সবকিছুর চেয়েও বেশি প্রিয় মনে করে। রাসুল (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সব মানুষের চেয়েও বেশি প্রিয় হই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৫)
৪. ইবাদতে অটল থাকা : সে নিয়মিত নামাজ আদায় করে, রোজা রাখে, জাকাত প্রদান করে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী হজ পালন করে।
সে আন্তরিকতার সঙ্গে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং দ্বীনের প্রতি অবিচল থাকে। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের শুধু এ আদেশই দেওয়া হয়েছে যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠভাবে পালন করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে—এটাই সঠিক দ্বিন।’(সুরা : বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)
৫. ঈমানের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী হওয়া : সে আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, কিয়ামত ও পুনরুত্থানের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস পোষণ করবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ঈমান হলো-তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, আখিরাত দিবস এবং তাকদিরের ভাল-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৪৭৭৭)
৬. উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া : তার চরিত্রে থাকবে সত্যবাদিতা, নম্রতা, ধৈর্য, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মানসিকতা। সে মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং আমানতের খিয়ানত করা থেকে বিরত থাকে—কারণ এগুলো মুনাফিকদের লক্ষণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে, এবং যখন আমানত রাখা হয় তা খিয়ানত করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৫৯)
৭. রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকা : সে সহজে রাগান্বিত হয় না, আর রাগ হলেও নিজেকে সংযত রাখে। প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে জয়ী হয়, বরং শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬১১৪)
৮. অহংকারমুক্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া : তার অন্তরে অহংকার থাকবে না। সে হবে বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র। কারণ সামান্য অহংকারও মানুষকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৯১)
এই গুণাবলীগুলোই একজন সন্তানকে আদর্শ সন্তান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। এবং নিজের জীবনকে সুন্দর চরিত্র, দৃঢ় ঈমান এবং উত্তম আমলের মাধ্যমে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।