ঈমান মানুষের অন্তরের এমন এক শক্তি, যার প্রভাব শুধু বিশ্বাসের জগতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা মানুষের কথা, কাজ, চরিত্র ও জীবনাচরণে প্রকাশিত হয়। একটি বীজ যেমন মাটির গভীরে অদৃশ্য অবস্থায় থাকে, কিন্তু যথাযথ পরিচর্যায় একসময় অঙ্কুরিত হয়ে গাছ, ফুল ও ফলে পরিণত হয়, তেমনি ঈমানও অন্তরে অবস্থান করলেও তার সৌন্দর্য প্রকাশ পায় আমল ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে।
একইভাবে যেমন বীজের জাত, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যও জানা যায় অঙ্কুরিত গাছ ও তার ফুল-ফল থেকে, তেমনি ঈমানের শক্তি ও দুর্বলতা, দৃঢ়তা ও শিথিলতাও প্রস্ফুটিত মুমিনের চরিত্র ও আমলে। এ জন্য পবিত্র কোরআনে ঈমান ও সৎকর্মকে বারবার পাশাপাশি উল্লেখ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা ছাড়া, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।
’ (সুরা : আসর, আয়াত : ২-৩)
আয়াত থেকে আরো প্রমাণিত হয়, মানুষের সাফল্যের জন্য শুধু ঈমানের দাবি যথেষ্ট নয়; তার সঙ্গে প্রয়োজন সৎকর্ম, সত্যের প্রতি অটল থাকা এবং ধৈর্য ধারণ করা। সুর মুমিনুনের শুরুতেও আল্লাহ সফল মুমিনদের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবনত; যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিরত থাকে এবং যারা জাকাত আদায় করে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১-৪)
আয়াতগুলোতে আল্লাহ মুমিনের সাফল্যে সোপান হিসেবে নেক আমলকে উল্লেখ করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস থেকেও বোঝা যায়, ঈমানের প্রতিফলন মুমিনের সামগ্রিক জীবনেই ঘটে। তিনি বলেছেন, ‘ঈমানের সত্তরের অধিক অথবা ষাটের অধিক শাখা আছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া; আর লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৫)
হাদিসটি ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। ঈমান শুধু অন্তরের একটি বিমূর্ত বিশ্বাস নয়।
আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা যেমন ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা, তেমনি মানুষের চলার পথ থেকে একটি ক্ষতিকর বস্তু সরিয়ে দেওয়ার মতো সাধারণ কল্যাণকর কাজও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি লজ্জাশীলতার মতো একটি নৈতিক গুণকেও নবীজি (সা.) ঈমানের শাখা বলেছেন।
ঈমানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সম্পর্ক রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি উদাহরণের মাধ্যমে আরো স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জেনে রাখো, দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড আছে; তা সঠিক হলে সমগ্র দেহ সঠিক হয়, আর তা নষ্ট হলে সমগ্র দেহ নষ্ট হয়। জেনে রাখো, সেটি হলো ক্বলব (অন্তর)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২)
অর্থাৎ যার অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস যত গভীর, তার জীবনে আল্লাহর আনুগত্যের ছাপ তত স্পষ্ট। নামাজ মুমিনকে অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে দূরে রাখবে, তাকওয়া তাকে হারাম থেকে বাঁচাবে, আখিরাতের বিশ্বাস তাকে জবাবদিহির অনুভূতি দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা তাকে সৎকর্মে উৎসাহিত করবে।
প্রকৃতপক্ষে একটি বীজের মূল্য তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনায়, কিন্তু সেই সম্ভাবনার পূর্ণতা প্রকাশ পায় যখন তা অঙ্কুরিত হয়, গাছে পরিণত হয় এবং ফুল-ফলে সমৃদ্ধ হয়। তেমনি ঈমানের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় আমল, আখলাক ও মানুষের প্রতি কল্যাণকর আচরণের মাধ্যমে।
আল্লাহ সবাইকে প্রকৃত ঈমানদার হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
সংবাদ শিরোনাম
মুমিনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান
-
মো. আবদুল মজিদ মোল্লা - আপডেট সময় ১০:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 31
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























