ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক Logo কাগজের রোগীকে দেওয়া হচ্ছে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ Logo কাঁধে সন্তান, মাথায় শাকের বোঝা, সংগ্রামী মা মমতার জীবনযুদ্ধ Logo ধনবাড়ী সরকারি কলেজে আন্তঃহাউস ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলায়: ননদ চামেলী ঢাকায় গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তাঁর ননদ চামেলীকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তার ভাগ্নির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেন,মামলা নং ৫, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ধারা ৩০৬/৩৪/১০৯ পেনাল কোড ১৮৬০ তৎসহ ১১(গ)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ রুজু করা হয়। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মুন্নির কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হতো। পাশাপাশি বিভিন্ন ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্যও তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মামলার এজাহারে নির্যাতনের অডিও-ভিডিও থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মানসিক চাপের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এর আগে গত ২১ আগস্ট মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা মকবুল আলী প্রথমে বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ থাকার কথা বলা হয়েছে। মুন্নির মৃত্যুর পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ৪ সেপ্টেম্বর বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্?ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। মামলা দায়েরের পর বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানিয়েছিলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। চামেলীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, মামলা রুজুর পর হইতে পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য বড়লেখা থানা পুলিশের একটি চৌকশ টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করিয়া আসিতেছেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের অবস্থান সনাক্ত করে এসআই/শেখ কামরুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই/মো: আবদুল করিম সঙ্গীয় ফোর্স সহ দুই দিন অভিযান পরিচালনা করিয়া গত ১৮/০৯/২০২৬ইং তারিখ ১৮.৩০ ঘ ডিএমপি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহায়তা মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা এলাকা হইতে মামলার ১নং এবং প্রধান আসামী ১. ছামেলী আক্তার(২৫), পিতা-মৃত ইয়াছিন আলী, গ্রাম-মুড়িরগুল, থানা-বড়লেখা, জেলা-মৌলভীবাজার গ্রেফতার করা হয়। আসামীকে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অদ্য ১৯/০৯/২০২৬ইং তারিখ বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলায়: ননদ চামেলী ঢাকায় গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০২:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তাঁর ননদ চামেলীকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তার ভাগ্নির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেন,মামলা নং ৫, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ধারা ৩০৬/৩৪/১০৯ পেনাল কোড ১৮৬০ তৎসহ ১১(গ)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ রুজু করা হয়। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মুন্নির কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হতো। পাশাপাশি বিভিন্ন ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্যও তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মামলার এজাহারে নির্যাতনের অডিও-ভিডিও থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মানসিক চাপের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এর আগে গত ২১ আগস্ট মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা মকবুল আলী প্রথমে বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ থাকার কথা বলা হয়েছে। মুন্নির মৃত্যুর পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ৪ সেপ্টেম্বর বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্?ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। মামলা দায়েরের পর বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানিয়েছিলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। চামেলীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, মামলা রুজুর পর হইতে পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য বড়লেখা থানা পুলিশের একটি চৌকশ টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করিয়া আসিতেছেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের অবস্থান সনাক্ত করে এসআই/শেখ কামরুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই/মো: আবদুল করিম সঙ্গীয় ফোর্স সহ দুই দিন অভিযান পরিচালনা করিয়া গত ১৮/০৯/২০২৬ইং তারিখ ১৮.৩০ ঘ ডিএমপি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহায়তা মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা এলাকা হইতে মামলার ১নং এবং প্রধান আসামী ১. ছামেলী আক্তার(২৫), পিতা-মৃত ইয়াছিন আলী, গ্রাম-মুড়িরগুল, থানা-বড়লেখা, জেলা-মৌলভীবাজার গ্রেফতার করা হয়। আসামীকে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অদ্য ১৯/০৯/২০২৬ইং তারিখ বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়।