ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা Logo জামালপুরে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন আমরণ অনশনে Logo খাল খনন নামে ৩০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ Logo অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি Logo টুঙ্গিপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গাঁজা সেবনে ১ মাস, ইয়াবা সেবনে ৩ মাসের কারাদন্ড Logo গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ Logo তাড়াশে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে গুদামজাত সার Logo ধনবাড়ীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান Logo ৯ প্রতারক গ্রেফতার, উদ্ধার নগদ টাকা-২০ সিম-১১ মোবাইল

ইসলামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনীয় গুণাবলি

সুপ্রাচীন কাল থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী রাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশ। মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা প্রদান ও অপরাধ দমনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু সদস্যের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যা একই সঙ্গে উদ্বেগ ও হতাশার।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জুলুম-অপরাধ প্রতিহত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। সুতরাং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শুধু রাষ্ট্রের কাছে দায়বদ্ধ নন, বরং তাঁরা নিজেদের বিবেক ও নৈতিক মূল্যবোধের কাছেও দায়বদ্ধ। ফলে এর জন্য কিছু নৈতিক গুণাবলি অর্জন করা অপরিহার্য।
নৈতিক গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য
ইসলামের দৃষ্টিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একজন আদর্শ সদস্যের মধ্যে কিছু গুণ থাকা আবশ্যক।
নিম্নে তা তুলে ধরা হলো—
১. মুমিন হওয়া : ইসলামের দৃষ্টিতে আইন-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার সঙ্গে ঈমানের নিবিড়তম সম্পর্ক আছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন…এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্য নিরাপত্তা দান করবেন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৫)
এ ছাড়া হাদিসের ভাষ্য থেকে বোঝা যায়, খাঁটি ঈমান মানুষকে অন্যায় অপরাধ থেকে দূরে রাখে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যভিচারী মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোনো চোর মুমিন অবস্থায় চুরি করে না।
’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৮২)
২. অন্তরে আল্লাহভীতি থাকা : আল্লাহভীতি ও পরকালীন জবাবদিহির ভয় মানুষকে যেমন নিজের দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন করে, তেমন সব অন্যায় থেকে বিরত রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি সেসব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মুক্ত করতাম। কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল। সুতরাং তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)
৩. দায়িত্ব ও অঙ্গীকার রক্ষা করা : যাঁদের ওপর সমাজ ও রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তাঁরা বিশেষ শপথ ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইসলামের দৃষ্টিতে এই অঙ্গীকার রক্ষা করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৮)
৪. সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়া : যাঁদের কাঁধে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়, তাঁদের জন্য সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি মন্দ চরিত্র পরিহার করাও জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মিজানে সচ্চরিত্রের চেয়ে কোনো কিছু বেশি ভারী হবে না এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল কথা-কাজে ব্যক্তির ওপর ক্ষুব্ধ হন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৯৯)
৫. দায়িত্ব পালনে সক্ষম হওয়া : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সক্ষমতা থাকা আবশ্যক। শারীরিক সক্ষমতা হলো শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্য, মানসিক সক্ষমতা হলো বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা, আনুগত্য ও প্রতিকূল পরিবেশ সহ্যের ক্ষমতা আর নৈতিক সক্ষমতা হলো আত্মসংযম ও চারিত্রিক দৃঢ়তা। পবিত্র কোরআনে এই গুণের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তাদের একজন বলল, হে আমার পিতা! তাকে কর্মে নিয়োগ করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাদের নিয়োগ করবেন, তাদের মধ্যে উত্তম সে-ই, যে শক্তিশালী ও আমানতদার।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ২৬)
আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, শক্তিশালী হলো যে অর্পিত দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য রাখে এবং যাদের ব্যাপারে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের সংশোধন ও কল্যাণকামিতায় অবিচল থাকে। আমানতদার হলো যার ব্যাপারে অর্পিত দায়িত্বের ব্যাপারে খেয়ানতের আশঙ্কা করা হয় না। (তাফসিরে তাবারি : ৬/২০)
৬. ন্যায়পরায়ণ হওয়া : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো মানুষের অধিকার রক্ষা করা। আর ন্যায়পরায়ণ না হলে এই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। কেননা তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ ন্যায়বিচারকে ধূলিসাৎ করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার না করতে প্ররোচিত করে। তোমরা ন্যায়বিচার কোরো; সেটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)
সদস্য নিয়োগেও চাই সততা
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত থাকে। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত বাহিনীতে সদস্য নিয়োগে সততা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে তোমরা আমানত তার যোগ্য ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেবে। আর যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচার করবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)
ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলিম সমাজের নেতৃস্থানীয় ও দায়িত্বশীলদের প্রতি সম্বোধন। মুসলমানদের সম্পদ ও অধিকারের যে দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে এবং তাদের যেসব বিষয় তাদের কাছে আমানত রাখা হয়েছে তারা যেন তা আমানতদারিতার সঙ্গে পালন করে।’ (তাফসিরে তাবারি : ২/৪৯১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কোরো। জিজ্ঞাসা করা হলো আমানত কিভাবে নষ্ট হবে? তিনি বললেন, যখন দায়িত্ব অনুপযুক্ত ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কোরো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৯৬)
সদস্য নিয়োগে সোনালি যুগের বিবেচ্য গুণাবলি
ইসলামী সোনালি যুগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য নিয়োগে নিম্নের গুণাবলি দেখা হতো—
১. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব, ২. সময় সচেতনতা, ৩. বিচক্ষণতা, ৪. সাহসিকতা, ৫. চারিত্রিক দৃঢ়তা, ৬. ইসলামী খেলাফতের প্রতি আনুগত্য, ৭. শারীরিক সুস্থতা, শক্তি, সামর্থ্য ইত্যাদি।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফিকে খলিফা মারওয়ান ইবনে আবদুল মালিক ইরাক ও আরব উপদ্বীপের ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী’র প্রধান নিয়োগের দায়িত্ব দেন। তখন তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনি কেমন লোক চান? সে বলল, ‘ধৈর্যশীল, বিশ্বস্ত, চারিত্রিক দুর্বলতামুক্ত, ন্যায়পরায়ণ ও ক্ষমতাশীলদের দ্বারা প্রভাবিত নয়—এমন। তখন তারা আবদুর রহমান ইবনে উবাইদ তামিমির নাম প্রস্তাব করে।’ (উয়ুনুল আখবার : ১/১৭)
আল্লাহ সবুাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা

ইসলামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনীয় গুণাবলি

আপডেট সময় ০৮:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপ্রাচীন কাল থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী রাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশ। মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা প্রদান ও অপরাধ দমনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু সদস্যের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যা একই সঙ্গে উদ্বেগ ও হতাশার।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জুলুম-অপরাধ প্রতিহত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। সুতরাং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শুধু রাষ্ট্রের কাছে দায়বদ্ধ নন, বরং তাঁরা নিজেদের বিবেক ও নৈতিক মূল্যবোধের কাছেও দায়বদ্ধ। ফলে এর জন্য কিছু নৈতিক গুণাবলি অর্জন করা অপরিহার্য।
নৈতিক গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য
ইসলামের দৃষ্টিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একজন আদর্শ সদস্যের মধ্যে কিছু গুণ থাকা আবশ্যক।
নিম্নে তা তুলে ধরা হলো—
১. মুমিন হওয়া : ইসলামের দৃষ্টিতে আইন-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার সঙ্গে ঈমানের নিবিড়তম সম্পর্ক আছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন…এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্য নিরাপত্তা দান করবেন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৫)
এ ছাড়া হাদিসের ভাষ্য থেকে বোঝা যায়, খাঁটি ঈমান মানুষকে অন্যায় অপরাধ থেকে দূরে রাখে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যভিচারী মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোনো চোর মুমিন অবস্থায় চুরি করে না।
’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৮২)
২. অন্তরে আল্লাহভীতি থাকা : আল্লাহভীতি ও পরকালীন জবাবদিহির ভয় মানুষকে যেমন নিজের দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন করে, তেমন সব অন্যায় থেকে বিরত রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি সেসব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মুক্ত করতাম। কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল। সুতরাং তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)
৩. দায়িত্ব ও অঙ্গীকার রক্ষা করা : যাঁদের ওপর সমাজ ও রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তাঁরা বিশেষ শপথ ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইসলামের দৃষ্টিতে এই অঙ্গীকার রক্ষা করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৮)
৪. সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়া : যাঁদের কাঁধে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়, তাঁদের জন্য সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি মন্দ চরিত্র পরিহার করাও জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মিজানে সচ্চরিত্রের চেয়ে কোনো কিছু বেশি ভারী হবে না এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল কথা-কাজে ব্যক্তির ওপর ক্ষুব্ধ হন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৯৯)
৫. দায়িত্ব পালনে সক্ষম হওয়া : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সক্ষমতা থাকা আবশ্যক। শারীরিক সক্ষমতা হলো শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্য, মানসিক সক্ষমতা হলো বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা, আনুগত্য ও প্রতিকূল পরিবেশ সহ্যের ক্ষমতা আর নৈতিক সক্ষমতা হলো আত্মসংযম ও চারিত্রিক দৃঢ়তা। পবিত্র কোরআনে এই গুণের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তাদের একজন বলল, হে আমার পিতা! তাকে কর্মে নিয়োগ করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাদের নিয়োগ করবেন, তাদের মধ্যে উত্তম সে-ই, যে শক্তিশালী ও আমানতদার।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ২৬)
আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, শক্তিশালী হলো যে অর্পিত দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য রাখে এবং যাদের ব্যাপারে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের সংশোধন ও কল্যাণকামিতায় অবিচল থাকে। আমানতদার হলো যার ব্যাপারে অর্পিত দায়িত্বের ব্যাপারে খেয়ানতের আশঙ্কা করা হয় না। (তাফসিরে তাবারি : ৬/২০)
৬. ন্যায়পরায়ণ হওয়া : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো মানুষের অধিকার রক্ষা করা। আর ন্যায়পরায়ণ না হলে এই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। কেননা তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ ন্যায়বিচারকে ধূলিসাৎ করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার না করতে প্ররোচিত করে। তোমরা ন্যায়বিচার কোরো; সেটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)
সদস্য নিয়োগেও চাই সততা
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত থাকে। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত বাহিনীতে সদস্য নিয়োগে সততা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে তোমরা আমানত তার যোগ্য ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেবে। আর যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচার করবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)
ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলিম সমাজের নেতৃস্থানীয় ও দায়িত্বশীলদের প্রতি সম্বোধন। মুসলমানদের সম্পদ ও অধিকারের যে দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে এবং তাদের যেসব বিষয় তাদের কাছে আমানত রাখা হয়েছে তারা যেন তা আমানতদারিতার সঙ্গে পালন করে।’ (তাফসিরে তাবারি : ২/৪৯১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কোরো। জিজ্ঞাসা করা হলো আমানত কিভাবে নষ্ট হবে? তিনি বললেন, যখন দায়িত্ব অনুপযুক্ত ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কোরো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৯৬)
সদস্য নিয়োগে সোনালি যুগের বিবেচ্য গুণাবলি
ইসলামী সোনালি যুগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য নিয়োগে নিম্নের গুণাবলি দেখা হতো—
১. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব, ২. সময় সচেতনতা, ৩. বিচক্ষণতা, ৪. সাহসিকতা, ৫. চারিত্রিক দৃঢ়তা, ৬. ইসলামী খেলাফতের প্রতি আনুগত্য, ৭. শারীরিক সুস্থতা, শক্তি, সামর্থ্য ইত্যাদি।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফিকে খলিফা মারওয়ান ইবনে আবদুল মালিক ইরাক ও আরব উপদ্বীপের ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী’র প্রধান নিয়োগের দায়িত্ব দেন। তখন তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনি কেমন লোক চান? সে বলল, ‘ধৈর্যশীল, বিশ্বস্ত, চারিত্রিক দুর্বলতামুক্ত, ন্যায়পরায়ণ ও ক্ষমতাশীলদের দ্বারা প্রভাবিত নয়—এমন। তখন তারা আবদুর রহমান ইবনে উবাইদ তামিমির নাম প্রস্তাব করে।’ (উয়ুনুল আখবার : ১/১৭)
আল্লাহ সবুাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।