ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর ভয়

মুমিনের জীবনের প্রকৃত সাফল্য শুধু দুনিয়াবি অর্জন, অর্থ-সম্পদ, সম্মান কিংবা পদমর্যাদায় নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই তার জীবনের প্রকৃত সাফল্য। একজন মুমিনের ইবাদত যেমন আল্লাহর জন্য, তেমনি তার চিন্তা, চরিত্র, উপার্জন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক আচরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
এটিই হলো সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হওয়ার মূলকথা।
আল্লাহমুখী হওয়া মানে দুনিয়া ত্যাগ করা নয়, বরং দুনিয়ার বৈধ কাজকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা। ব্যবসা করা, জীবিকা উপার্জন করা, সন্তান প্রতিপালন করা, জ্ঞান অর্জন করা কিংবা মানুষের উপকার করাÑসবই সওয়াবের কাজে পরিণত হতে পারে, যদি তা আল্লাহর বিধান মেনে এবং সঠিক নিয়তে করা হয়।
মুমিনের জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য
কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ঘোষণা করতে বলেছেন, ‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক।
তাঁর কোনো শরিক নেই। আমাকে এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছে এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)
এই আয়াতে মুমিনের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা নিজের জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদন করে। ফলে বলা যায়, ইসলামে আল্লাহর আনুগত্য শুধু মসজিদ বা ইবাদতের স্থান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমগ্র জীবনই আল্লাহর নির্দেশনার অধীন।
সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হওয়ার উপায়
একজন মুমিন বেশ কিছু কাজ করার মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহমুখী হতে পারে। তাহলোÑ
১. নিয়তকে আল্লাহমুখী করা : বান্দার আল্লাহমুখী হওয়ার প্রথম ধাপ হলো নিয়ত সংশোধন করা। একই কাজ একজন মানুষের জন্য ইবাদত হতে পারে, আবার অন্যজনের জন্য নিছক দুনিয়াবি কাজও হতে পারে। আর এই পার্থক্য সৃষ্টি করে শুধু নিয়ত। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সব কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে।
’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
তাই একজন মুসলিম যখন হালাল জীবিকা অর্জন করে পরিবারকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার নিয়ত করে, জ্ঞান অর্জন করে মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে অথবা শরীর সুস্থ রাখে আল্লাহর ইবাদত ও দায়িত্ব পালনের জন্য তখন তার সাধারণ কাজও ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে।
২. প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর ভয় : আল্লাহমুখী মানুষ শুধু মানুষের সামনে ভালো থাকার চেষ্টা করে না, একাকী অবস্থায়ও আল্লাহকে ভয় করে। কারণ সে বিশ্বাস করে, মানুষের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও আল্লাহর দৃষ্টি থেকে কিছুই গোপন করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখছেন?’ (সুরা : আলাক, আয়াত : ১৪)
এই অনুভূতির কারণে মুমিন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হারাম থেকে বিরত থাকে, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জুলুম করে না এবং মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নেক কাজ করে না।
৩. আচরণে আল্লাহমুখী হওয়া : আল্লাহমুখী হওয়া শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের বিষয় নয়, মানুষের অধিকার রক্ষাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে ইহসান (দয়া, অনুগ্রহ ও সদাচার) আবশ্যক করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)
অতএব, পরিবারে কোমল আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সততা, ব্যবসায় প্রতারণা থেকে বিরত থাকা, দুর্বল মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং কারো ওপর জুলুম না করাÑসবকিছু আল্লাহমুখী জীবনের অংশ।
৪. দুঃখ ও সুখে আল্লাহমুখী থাকা : আল্লাহমুখী মানুষের বৈশিষ্ট্য হলো সুখে সে অহংকারী হয় না এবং দুঃখে আল্লাহর প্রতি হতাশ হয় না। সুখ পেলে শুকরিয়া আদায় করে, বিপদ এলে ধৈর্য ধারণ করে। কেননা তার হৃদয়ের নির্ভরতা সৃষ্টির ওপর নয়, স্রষ্টার ওপর। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৩)
৫. পরকালকে ইহকালের ওপর প্রাধান্য দেওয়া : আল্লাহমুখী হওয়ার অন্যতম উপায় হলো ইহকালের ক্ষণস্থায়ী জীবন ও স্বার্থের ওপর পরকালের চিরস্থায়ী কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া। মুমিন দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণ করবে, সম্পদ উপার্জন করবে এবং বৈধ আনন্দ উপভোগ করবে; কিন্তু এসব তাকে আল্লাহর আনুগত্য ও আখিরাতের প্রস্তুতি থেকে বিমুখ করবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা দুনিয়ার জীবনকে অগ্রাধিকার দাও; অথচ পরকাল উত্তম ও অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : আ’লা, আয়াত : ১৬-১৭)
তাই আল্লাহমুখী মানুষ দুনিয়ার লাভের জন্য আখিরাতের ক্ষতি স্বীকার করে না। কোনো দুনিয়াবি সুযোগ যদি হারাম হয়, সে তা ত্যাগ করে; আবার কোনো বৈধ দুনিয়াবি কাজ যদি আখিরাতের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হয়, সে তা গ্রহণ করে। এভাবেই তার দুনিয়ার জীবন পরকালের প্রস্তুতিতে পরিণত হয়।
সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হওয়ার গুরুত্ব
আল্লাহমুখী জীবন মুমিনের বিশ্বাস ও আমলের মধ্যে সামঞ্জস্য সৃষ্টি করে। তখন মসজিদে যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দা, বাজারেও সে আল্লাহর বান্দা; পরিবারে যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, কর্মক্ষেত্রেও সে একইভাবে আল্লাহকে ভয় করে। তার কাছে হালাল-হারাম মানুষের প্রশংসা বা নিন্দার ওপর নির্ভর করে না। এমন জীবন মানুষকে আত্মপ্রবঞ্চনা, লোক-দেখানো, অহংকার ও প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে। তার জীবনের লক্ষ্য হয় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর দেওয়া দায়িত্ব যথাসম্ভব সুন্দরভাবে পালন করা। আর বান্দা যখন সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হবে, তখন মহান আল্লাহ তার সে বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : তালাক, আয়াত: ৩)
আল্লাহ সবাইকে সব বিষয়ে তাঁর অভিমুখী হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর ভয়

আপডেট সময় ০৮:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

মুমিনের জীবনের প্রকৃত সাফল্য শুধু দুনিয়াবি অর্জন, অর্থ-সম্পদ, সম্মান কিংবা পদমর্যাদায় নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই তার জীবনের প্রকৃত সাফল্য। একজন মুমিনের ইবাদত যেমন আল্লাহর জন্য, তেমনি তার চিন্তা, চরিত্র, উপার্জন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক আচরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
এটিই হলো সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হওয়ার মূলকথা।
আল্লাহমুখী হওয়া মানে দুনিয়া ত্যাগ করা নয়, বরং দুনিয়ার বৈধ কাজকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা। ব্যবসা করা, জীবিকা উপার্জন করা, সন্তান প্রতিপালন করা, জ্ঞান অর্জন করা কিংবা মানুষের উপকার করাÑসবই সওয়াবের কাজে পরিণত হতে পারে, যদি তা আল্লাহর বিধান মেনে এবং সঠিক নিয়তে করা হয়।
মুমিনের জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য
কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ঘোষণা করতে বলেছেন, ‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক।
তাঁর কোনো শরিক নেই। আমাকে এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছে এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)
এই আয়াতে মুমিনের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা নিজের জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদন করে। ফলে বলা যায়, ইসলামে আল্লাহর আনুগত্য শুধু মসজিদ বা ইবাদতের স্থান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমগ্র জীবনই আল্লাহর নির্দেশনার অধীন।
সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হওয়ার উপায়
একজন মুমিন বেশ কিছু কাজ করার মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহমুখী হতে পারে। তাহলোÑ
১. নিয়তকে আল্লাহমুখী করা : বান্দার আল্লাহমুখী হওয়ার প্রথম ধাপ হলো নিয়ত সংশোধন করা। একই কাজ একজন মানুষের জন্য ইবাদত হতে পারে, আবার অন্যজনের জন্য নিছক দুনিয়াবি কাজও হতে পারে। আর এই পার্থক্য সৃষ্টি করে শুধু নিয়ত। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সব কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে।
’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
তাই একজন মুসলিম যখন হালাল জীবিকা অর্জন করে পরিবারকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার নিয়ত করে, জ্ঞান অর্জন করে মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে অথবা শরীর সুস্থ রাখে আল্লাহর ইবাদত ও দায়িত্ব পালনের জন্য তখন তার সাধারণ কাজও ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে।
২. প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর ভয় : আল্লাহমুখী মানুষ শুধু মানুষের সামনে ভালো থাকার চেষ্টা করে না, একাকী অবস্থায়ও আল্লাহকে ভয় করে। কারণ সে বিশ্বাস করে, মানুষের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও আল্লাহর দৃষ্টি থেকে কিছুই গোপন করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখছেন?’ (সুরা : আলাক, আয়াত : ১৪)
এই অনুভূতির কারণে মুমিন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হারাম থেকে বিরত থাকে, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জুলুম করে না এবং মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নেক কাজ করে না।
৩. আচরণে আল্লাহমুখী হওয়া : আল্লাহমুখী হওয়া শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের বিষয় নয়, মানুষের অধিকার রক্ষাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে ইহসান (দয়া, অনুগ্রহ ও সদাচার) আবশ্যক করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)
অতএব, পরিবারে কোমল আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সততা, ব্যবসায় প্রতারণা থেকে বিরত থাকা, দুর্বল মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং কারো ওপর জুলুম না করাÑসবকিছু আল্লাহমুখী জীবনের অংশ।
৪. দুঃখ ও সুখে আল্লাহমুখী থাকা : আল্লাহমুখী মানুষের বৈশিষ্ট্য হলো সুখে সে অহংকারী হয় না এবং দুঃখে আল্লাহর প্রতি হতাশ হয় না। সুখ পেলে শুকরিয়া আদায় করে, বিপদ এলে ধৈর্য ধারণ করে। কেননা তার হৃদয়ের নির্ভরতা সৃষ্টির ওপর নয়, স্রষ্টার ওপর। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৩)
৫. পরকালকে ইহকালের ওপর প্রাধান্য দেওয়া : আল্লাহমুখী হওয়ার অন্যতম উপায় হলো ইহকালের ক্ষণস্থায়ী জীবন ও স্বার্থের ওপর পরকালের চিরস্থায়ী কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া। মুমিন দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণ করবে, সম্পদ উপার্জন করবে এবং বৈধ আনন্দ উপভোগ করবে; কিন্তু এসব তাকে আল্লাহর আনুগত্য ও আখিরাতের প্রস্তুতি থেকে বিমুখ করবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা দুনিয়ার জীবনকে অগ্রাধিকার দাও; অথচ পরকাল উত্তম ও অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : আ’লা, আয়াত : ১৬-১৭)
তাই আল্লাহমুখী মানুষ দুনিয়ার লাভের জন্য আখিরাতের ক্ষতি স্বীকার করে না। কোনো দুনিয়াবি সুযোগ যদি হারাম হয়, সে তা ত্যাগ করে; আবার কোনো বৈধ দুনিয়াবি কাজ যদি আখিরাতের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হয়, সে তা গ্রহণ করে। এভাবেই তার দুনিয়ার জীবন পরকালের প্রস্তুতিতে পরিণত হয়।
সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হওয়ার গুরুত্ব
আল্লাহমুখী জীবন মুমিনের বিশ্বাস ও আমলের মধ্যে সামঞ্জস্য সৃষ্টি করে। তখন মসজিদে যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দা, বাজারেও সে আল্লাহর বান্দা; পরিবারে যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, কর্মক্ষেত্রেও সে একইভাবে আল্লাহকে ভয় করে। তার কাছে হালাল-হারাম মানুষের প্রশংসা বা নিন্দার ওপর নির্ভর করে না। এমন জীবন মানুষকে আত্মপ্রবঞ্চনা, লোক-দেখানো, অহংকার ও প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে। তার জীবনের লক্ষ্য হয় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর দেওয়া দায়িত্ব যথাসম্ভব সুন্দরভাবে পালন করা। আর বান্দা যখন সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হবে, তখন মহান আল্লাহ তার সে বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : তালাক, আয়াত: ৩)
আল্লাহ সবাইকে সব বিষয়ে তাঁর অভিমুখী হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।