চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনাঞ্চলের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কয়েক শতাধিক করাতকল। বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকি ও যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে পরিবেশের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই বন বিভাগের যোগসাজশে ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে- সেখানে গড়ে উঠেছে শতাধিক করাতকল। স্থানীয় এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বনাঞ্চলের পাশে দীর্ঘদিন ধরে এসব করাতকল অবাধে চললেও নেই কোন কার্যকর নজরদারি বা দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এতে বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। জানা যায়, উপজেলার আধুনগর বাজারের ১০০ মিটারের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৯টি করাতকল। বনখেকোরা চুনতি রেঞ্জের বনাঞ্চলের সেগুন ও আকাশমনিসহ নানা প্রজাতি গাছ কেটে আধুনগর ইউনিয়নের অবৈধভাবে গড়ে উঠা করাতকলগুলোতে জমা করে রাখে। করাতকল বিধিমালা ২০১২ তে বলা আছে, কোন সরকার অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে এমন স্থান এবং সংরক্ষিত বনভূমি বা সরকারি বনাঞ্চলের সীমানা থেকে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাতকল স্থাপন করা যাবে না নিয়ম থাকলেও এসব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বনবিভাগ সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে উপজেলার নয় ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ করাতকল। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ফার্নিচার মার্কেট এলাকায় প্রায় ৬০০/৭০০ অধিক আসবাবপত্র তৈরি করার দোকান রয়েছে। সে আসবাবপত্রগুলোর তেরি করার জন্য সে এলাকার একশত মিটার এলাকাজুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৯টি করাতকল। করাতকলগুলো নেচার উদ্দীন, সাইফুল আলম, মিনহাজ, ইউচুপ, মাইনুদ্দীন, ইয়াছিন, শহীদ, নাজিম উদ্দীনের বলে জানা যায়। তাছাড়া চুনতি, বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ, পদুয়া, চরম্বা, কলাউজান, পুটিবিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও চুনতি অভয়ারণ্যে এলাকার পাশে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ করাতকল পরিচালনা করে যাচ্ছে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অন্যদিকে অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করায় সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। করাতকলের মালিক পক্ষ বলছেন, করাতকল পরিচালনা করার জন্য কিছু কিছু দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এরমধ্যে এক দপ্তর থেকে অনুমোদন পেলেও অন্য দপ্তর থেকে অনুমোদন দেয় না। তাই এভাবেই চলছে করাতকলগুলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক করাতকল মালিক জানান, চুনতি ও পদুয়া রেঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকায় আধুনগর ইউনিয়নের ফার্নিচার মার্কেট অবস্থিত হওয়া উভয় রেঞ্জ বন কর্মকর্তাদের সাথে সমঝোতা করেই ১০০ মিটারের মধ্যে ৯ করাতকলগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। একই জায়গাতে অবৈধভাবে ৯ করাতকল কিভাবে চলছে এ বিষয়ে চুনতি রেঞ্জ বন কর্মকর্তা আবির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে সাতগড় বিট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন। করাতকলগুলো যেহেতু অবৈধ তাই এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা করাা হবে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন দন্ডনীয় অপরাধ। যেসকল অবৈধ করাতকল রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সংবাদ শিরোনাম
লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল
-
আতাউর রহমান মাসুদ (লোহাগাড়া) চট্টগ্রাম - আপডেট সময় ০৭:৫১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- 2
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ


















