জহির রায়হানের স্ত্রী ও ববিতা-চম্পার বোন, এখন ধর্মকর্মে মনোযোগী সুচন্দা
কালজয়ী অভিনেত্রী সুচন্দা। অভিনয়ের শক্তি ও মেধা দিয়ে তিনি জয় করেছেন অগণিত দর্শকের হৃদয়, সমৃদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও নির্মাণেও রেখেছেন দক্ষতার সাক্ষর।
তবে এখন অভিনয় কিংবা চলচ্চিত্র দেখার চেয়ে ধর্ম-কর্ম ও পরিবার নিয়েই বেশি ব্যস্ত সময় কাটছে এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর। নিজের বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে সুচন্দা বলেন, এখন আর নিয়মিত ছবি দেখা বা টেলিভিশন দেখার সময় হয়ে ওঠে না।
তিনি বলেন, ‘আমার ছবি দেখা হয় না। মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে ইউটিউবে হয়তো কোনো কিছু একটা দেখি। ওভাবে আমি টেলিভিশনও দেখি না। আমার ওই সময় নাই। কারণ আমার এখন অনেক কাজ। বয়স বাড়ছে, কিন্তু সময় তো কমে যাচ্ছে। তাই অনেক কিছুই করি।’
সুচন্দা জানান, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সময় দিতে হয় তাকে। বিশেষ করে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানো এখন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো ধর্ম নিয়ে। ধর্মের ব্যাপারে আমাকে অনেক সময় দিতে হয়। ধর্মকর্ম করি। আমার নাতি-নাতনি আছে, ছেলেমেয়ে আছে, সন্তান আছে সবাইকে আমার সময় দিতে হয়।’
পরিবারের সদস্যরা তার অতীতের নানা গল্প শুনতে আগ্রহী বলেও জানান সুচন্দা। নিজের অভিনয়জীবনের স্মৃতিচারণ করে তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে তার। তিনি বলেন, ‘তারা খুব আমার কাছ থেকে আমার অতীতটা শুনতে চায়, জানতে চায়। ওরাই আমার শ্রোতা, ওরাই আমার সব এখন। ওদের কাছে গল্প বললে অবাক হয়ে শোনে। বলে নানু, তুমি এরকম ছিলে? দাদু এরকম ছিল? আমার এগুলো খুব ভালো লাগে।’
১৯৪৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন সুচন্দা। তার আসল নাম কোহিনূর আক্তার। তিনি জনপ্রিয় দুই নায়িকা ববিতা ও চম্পার বড় বোন।
ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে অল্প সময়ই দর্শকপ্রিয়তা পান তিনি। ১৯৬৬ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘কাগজের নৌকা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। পরের বছর রাজ্জাকের বিপরীতে ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘নয়নতারা’, ‘সুয়োরানী দুয়োরানী’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘কাঁচের স্বর্গ’ ও ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’র মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সুচন্দা।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনায়ও যুক্ত ছিলেন তিনি। স্বামী ও নির্মাতা জহির রায়হানের জীবদ্দশায় ‘টাকা আনা পাই’ ও ‘প্রতিশোধ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন।
পরে নির্মাণেও যুক্ত হন সুচন্দা। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ‘সবুজ কোট কালো চশমা’। জহির রায়হানের উপন্যাস অবলম্বনে ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন ‘হাজার বছর ধরে’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনার জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী।
সংবাদ শিরোনাম
এখন ধর্মকর্মে মনোযোগী সুচন্দা
-
বিনোদন - আপডেট সময় ০৮:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- 8
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























