পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নানা রকম ফলমূল, শস্য ও উদ্ভিদ মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন। এগুলো মানুষের খাদ্য, পুষ্টি ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন ফলমূল ও উদ্ভিদের কথা উল্লেখ করে মানুষকে তাঁর সৃষ্টির প্রতি চিন্তা করতে এবং এসব নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। কোথাও এগুলোকে দুনিয়ার মানুষের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, আবার কোথাও জান্নাতের নিয়ামতের বর্ণনায় এসেছে। কোরআনে উল্লেখিত ফলমূল ও উদ্ভিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
১. খেজুর : খেজুর আরব অঞ্চলের অত্যন্ত পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ফল।
পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন স্থানে খেজুরগাছ ও খেজুরের কথা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর খেজুরগাছের মোচা থেকে ঝুলন্ত থোকা বের করেন।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৯৯)
২. আঙুর : আঙুর সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। কোরআনে এর উল্লেখ মানুষের জন্য আল্লাহর সৃষ্ট নানা খাদ্য ও নিয়ামতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আঙুর ও শাকসবজি।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৮)
৩. জলপাই : জলপাই বা জয়তুনের উল্লেখ পবিত্র কোরআনে বিশেষভাবে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শপথ ডুমুর ও জলপাইয়ের।’ (সুরা আত-তিন, আয়াত: ১)
৪. ডুমুর : ডুমুরের আরবি নাম ‘তিন’। পবিত্র কোরআনের ৯৫তম সুরার নামই ‘আত-তিন’।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শপথ ডুমুর ও জলপাইয়ের।’ (সুরা : তিন, আয়াত : ১)
৫. ডালিম : ডালিম বা আনার সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘উভয় উদ্যানেই আছে ফলমূল, খেজুর ও ডালিম।’ (সুরা : রহমান, আয়াত : ৬৮)
৬. কলা বা তালহ : জান্নাতের বৃক্ষরাজির বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্তরে স্তরে সাজানো তালহগাছ।’ (সুরা : ওয়াকিআ, আয়াত : ২৯)
৭. শসা : বনি ইসরাইলের একটি ঘটনার বর্ণনায় শসার উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তার শসা।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬১)
৮. পেঁয়াজ, রসুন ও মসুর ডাল : পবিত্র কোরআনে বনি ইসরাইলের ঘটনার বর্ণনায় পেঁয়াজ, মসুর ডাল এবং ‘ফূম’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে। ‘ফূম’ শব্দটির অর্থ নিয়ে ব্যাখ্যাগত মতভেদ আছে; কোনো কোনো তাফসিরে একে রসুন, আবার কোনো কোনো ব্যাখ্যায় গম বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তার পেঁয়াজ, ফূম ও মসুর ডাল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬১)
৯. লাউজাতীয় সবজি : নবী ইউনুস (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআনে ‘ইয়াকতিন’ নামের একটি সবজির কথা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি তাঁর ওপর একটি ইয়াকতিন গাছ উদগত করলাম।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ১৪৬)
১০. আদা : জান্নাতের পানীয়ের বর্ণনায় পবিত্র কোরআনে আদার উল্লেখ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর সেখানে তাদের পান করানো হবে এমন পানপাত্র, যার মিশ্রণ হবে আদা।’ (সুরা : ইনসান, আয়াত : ১৭)
১১. সিদর বা বরইজাতীয় বৃক্ষ : জান্নাতের নিয়ামতের বর্ণনায় সিদরগাছের উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা থাকবে কাঁটাবিহীন সিদরগাছের মধ্যে।’ (সুরা : ওয়াকিআ, আয়াত : ২৮)
পবিত্র কোরআনে ফলমূল, শস্য ও উদ্ভিদের উল্লেখ শুধু খাদ্যের পরিচয় দেওয়ার জন্য নয়; বরং এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, প্রজ্ঞা ও অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি বীজ থেকে কীভাবে গাছ জন্মায়, ফুল থেকে ফল আসে এবং একই জমিতে বিভিন্ন স্বাদের ও রঙের ফল উৎপন্ন হয়—এসবই চিন্তাশীল মানুষের জন্য আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন।
সংবাদ শিরোনাম
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ১১ প্রকার ফলমূল
-
মুফতি ওমর বিন নাছির - আপডেট সময় ০৮:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- 8
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























