ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়ায় আগাম বোরো ধান কাটা শুরু বাম্পার ফলনে কৃষকের ঘরে খুশির বন্যা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় এবছর বৈশাখের শুরুতেই বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষানির মুখে খুশির বন্যা বইছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হওয়ায় কৃষকেরা খেতের ধান আগাম কাটতে পারছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ২৩ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের বোরো ধানের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ৭৩৪৩ হেক্টর।আবাদ হয়েছে ৭৩৫৬ হেক্টর। এ মৌসুমে কৃষকেরা ব্রিধান ১১৩, ১১৪, ১০৮, ১০৪, ১০২, ১০০, ৯২, ৮৯, ৭৫, ৭৪, ৬৭, ২৮, ব্রি হাইব্রীড ৮, ঝখ৮য, ব্র্যাক ৭৭৭, হীরা ২, হীরা ১৯, হীরা ১, তেজ গোল্ড, বিনা ধান ২৫ জাতের ধান রোপন করেছেন। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে সোনাকানিয়া, কালিয়াইশ,কাঞ্চনা, চরতি, বাজালিয়া, নলুয়া, ধর্মপুর, ঢেমশা, ছদাহা, মাদার্শা ও পুরানগড় ইউনিয়নে বোরো চাষ বেশি চাষ হয়েছে। সোনাকানিয়া ইউনিয়নের গারাংগিয়া এলাকার কৃষক শমসুল আলম, দিদার, ইউনুচ বলেন, গত বছরের চেয়ে এবছর অনেক বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। এসব খেতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের বোরো ধানের চারা রোপন করেছিলাম। প্রত্যেক খেতেই ধানের ফলন ভালো হয়েছে। খেতের সমস্ত ধান এখনো পাকেনি। যেগুলো পাকছে শুধু সেগুলোই কাটছি। উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ বলেন, ‘এ বছর দুই একরের চেয়ে সামান্য বেশি জমিতে হাইব্রিড সুপার ও হিরা জাতের বোরো ধানের চাষ করেছি। ফলন প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই কানি খেতের বোরো ধান ঘরে তুলেছি। বাকি ধান কয়েক দিনের মধ্যে কাটতে পারব। সাতকানিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস,এম জহির টিপু ও মো,মুজিবুর রহমান বলেন, উপজেলায় এবার বোরো ধানের চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষকেরা জমিতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের চারা রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে খেতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে জানতে পারলাম ফলন বাম্পার হয়েছে। এবার বোরো চাষে প্রত্যেক কৃষক লাভবান হবেন। এখনো পর্যন্ত খুব কম পরিমানে ধান কাটা হয়েছে। এপ্রিলের শেষে ধান কাটা ভালো ভাবে শুরু হবে। এখনও পর্যন্ত ধানের অবস্থা ভালো। আশা করছি কোন বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অবশ্যই বাম্পার ফলন হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাতকানিয়ায় আগাম বোরো ধান কাটা শুরু বাম্পার ফলনে কৃষকের ঘরে খুশির বন্যা

আপডেট সময় ০৫:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় এবছর বৈশাখের শুরুতেই বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষানির মুখে খুশির বন্যা বইছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হওয়ায় কৃষকেরা খেতের ধান আগাম কাটতে পারছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ২৩ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের বোরো ধানের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ৭৩৪৩ হেক্টর।আবাদ হয়েছে ৭৩৫৬ হেক্টর। এ মৌসুমে কৃষকেরা ব্রিধান ১১৩, ১১৪, ১০৮, ১০৪, ১০২, ১০০, ৯২, ৮৯, ৭৫, ৭৪, ৬৭, ২৮, ব্রি হাইব্রীড ৮, ঝখ৮য, ব্র্যাক ৭৭৭, হীরা ২, হীরা ১৯, হীরা ১, তেজ গোল্ড, বিনা ধান ২৫ জাতের ধান রোপন করেছেন। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে সোনাকানিয়া, কালিয়াইশ,কাঞ্চনা, চরতি, বাজালিয়া, নলুয়া, ধর্মপুর, ঢেমশা, ছদাহা, মাদার্শা ও পুরানগড় ইউনিয়নে বোরো চাষ বেশি চাষ হয়েছে। সোনাকানিয়া ইউনিয়নের গারাংগিয়া এলাকার কৃষক শমসুল আলম, দিদার, ইউনুচ বলেন, গত বছরের চেয়ে এবছর অনেক বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। এসব খেতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের বোরো ধানের চারা রোপন করেছিলাম। প্রত্যেক খেতেই ধানের ফলন ভালো হয়েছে। খেতের সমস্ত ধান এখনো পাকেনি। যেগুলো পাকছে শুধু সেগুলোই কাটছি। উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ বলেন, ‘এ বছর দুই একরের চেয়ে সামান্য বেশি জমিতে হাইব্রিড সুপার ও হিরা জাতের বোরো ধানের চাষ করেছি। ফলন প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই কানি খেতের বোরো ধান ঘরে তুলেছি। বাকি ধান কয়েক দিনের মধ্যে কাটতে পারব। সাতকানিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস,এম জহির টিপু ও মো,মুজিবুর রহমান বলেন, উপজেলায় এবার বোরো ধানের চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষকেরা জমিতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের চারা রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে খেতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে জানতে পারলাম ফলন বাম্পার হয়েছে। এবার বোরো চাষে প্রত্যেক কৃষক লাভবান হবেন। এখনো পর্যন্ত খুব কম পরিমানে ধান কাটা হয়েছে। এপ্রিলের শেষে ধান কাটা ভালো ভাবে শুরু হবে। এখনও পর্যন্ত ধানের অবস্থা ভালো। আশা করছি কোন বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অবশ্যই বাম্পার ফলন হবে।