ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি Logo কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ Logo জাংগালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন সম্পর্কে র‌্যালি ও আলোচনা Logo নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন দুই হাইকোটের বিচারপতি Logo মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ Logo ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে ৭৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo পাঁচবিবিতে মাওড়িতলা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, লাইট পোস্ট দাবি Logo স্পিকারের এপিএস সবুজকে ঘিরে অপপ্রচার, প্রতিবাদ Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপকুলবাসী পেল ইউবিইএসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত অনুমোদন Logo মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জন খালাস

নাটোরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেফতার

নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ম শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রী (১৪)কে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করতো বাবা ও ছেলে। এক পর্যায়ে ৫ মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়লে অভিভাবকরা জানতে চান আসল ঘটনাটি। মেয়েটির দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, প্রতিবেশী সম্পর্কে নানাভাই ও তার ছেলের দ্বারা প্রায়ই সে ধর্ষণের শিকার হয়। পরে গ্রাম্য শালিসে ১০ লক্ষ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে ছেলের সাথে বিয়ে দেয় গ্রাম প্রধানরা। কিন্তু এ বিয়ে বৈধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগী মেয়েটির বড় ভাই থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সোমবার ভোরে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলের নাম শামসুল হক গাজী (৬০) ও আরিফুল ইসলাম (৩০)। তাদের বাড়ি উপজেলার বনপাড়্ াপৌর শহরের মালিপাড়া পশ্চিমাংশ এলাকায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশে শামসুল হক গাজীর চা-বিস্কুটের দোকান রয়েছে। বিভিন্ন সময় বিস্কুট কিনতে আসতো ওই ছাত্রী। এতে তার নজর পড়ে মেয়েটির ওপর। খেয়াল রাখতো কখন মেয়েটিকে বাড়িতে একা পাওয়া যাবে। এক পর্যায়ে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে গলা টিপে মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখায়। অপরদিকে বাবার অবর্তমানে মাঝে-মধ্যে রড মিস্ত্রি ছেলে আরিফুল ইসলাম চা-বিস্কুটের দোকান চালাতো। তারও নজর পরে ওই মেয়েটির ওপর। সুযোগ বুঝে ছেলে আরিফুল ইসলামও ফাঁকা বাড়িতে মেয়েটিকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আর এভাবেই প্রায়ই বাবা ও ছেলের দ্বারা সে ধর্ষণের শিকার হতো। এক পর্যায়ে শরীরে পরিবর্তন দেখে মেয়েটির মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানতে পারে সে গর্ভবতী। পরবর্তীতে বাড়িতে এসে বিস্তারিত বললে স্থানীয় গ্রাম প্রধানরা বৃহস্পতিবার রাতে শালিসে বসে ১০ লক্ষ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে ছেলে আরিফুল ইসলামের সাথে ধর্ষণের শিকার অন্তঃস্বত্তা মেয়েটির বিয়ে দেয়। তবে এই বিয়ে শরিয়ত ও আইন মতে বৈধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বড়ভাই বাদী হয়ে শনিবার রাতে বড়াইগ্রাম থানায় বাবা-ছেলেকে আসামী করে মামলা দায়ের করে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃস্বত্তার ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করে সোমবার দুপুরে নাটোর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

নাটোরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৮:২১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ম শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রী (১৪)কে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করতো বাবা ও ছেলে। এক পর্যায়ে ৫ মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়লে অভিভাবকরা জানতে চান আসল ঘটনাটি। মেয়েটির দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, প্রতিবেশী সম্পর্কে নানাভাই ও তার ছেলের দ্বারা প্রায়ই সে ধর্ষণের শিকার হয়। পরে গ্রাম্য শালিসে ১০ লক্ষ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে ছেলের সাথে বিয়ে দেয় গ্রাম প্রধানরা। কিন্তু এ বিয়ে বৈধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগী মেয়েটির বড় ভাই থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সোমবার ভোরে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলের নাম শামসুল হক গাজী (৬০) ও আরিফুল ইসলাম (৩০)। তাদের বাড়ি উপজেলার বনপাড়্ াপৌর শহরের মালিপাড়া পশ্চিমাংশ এলাকায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশে শামসুল হক গাজীর চা-বিস্কুটের দোকান রয়েছে। বিভিন্ন সময় বিস্কুট কিনতে আসতো ওই ছাত্রী। এতে তার নজর পড়ে মেয়েটির ওপর। খেয়াল রাখতো কখন মেয়েটিকে বাড়িতে একা পাওয়া যাবে। এক পর্যায়ে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে গলা টিপে মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখায়। অপরদিকে বাবার অবর্তমানে মাঝে-মধ্যে রড মিস্ত্রি ছেলে আরিফুল ইসলাম চা-বিস্কুটের দোকান চালাতো। তারও নজর পরে ওই মেয়েটির ওপর। সুযোগ বুঝে ছেলে আরিফুল ইসলামও ফাঁকা বাড়িতে মেয়েটিকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আর এভাবেই প্রায়ই বাবা ও ছেলের দ্বারা সে ধর্ষণের শিকার হতো। এক পর্যায়ে শরীরে পরিবর্তন দেখে মেয়েটির মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানতে পারে সে গর্ভবতী। পরবর্তীতে বাড়িতে এসে বিস্তারিত বললে স্থানীয় গ্রাম প্রধানরা বৃহস্পতিবার রাতে শালিসে বসে ১০ লক্ষ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে ছেলে আরিফুল ইসলামের সাথে ধর্ষণের শিকার অন্তঃস্বত্তা মেয়েটির বিয়ে দেয়। তবে এই বিয়ে শরিয়ত ও আইন মতে বৈধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বড়ভাই বাদী হয়ে শনিবার রাতে বড়াইগ্রাম থানায় বাবা-ছেলেকে আসামী করে মামলা দায়ের করে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃস্বত্তার ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করে সোমবার দুপুরে নাটোর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে