ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কে কোথায়?

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক সময়ের প্রভাবশালী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী এখন প্রকাশ্যে চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন, আবার কেউ কেউ নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সর্বশেষ রাজধানীর রামপুরা এলাকায় আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় অপরাধ জগতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণের সামনে জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। কয়েকদিন আগে আরেক আলোচিত সন্ত্রাসী টিটনও দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন হত্যাকা- নয় বরং পুরোনো আধিপত্য, আর্থিক স্বার্থ, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিশোধের রাজনীতির জটিল সমীকরণও এর পেছনে কাজ করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, জামিনে মুক্তি পাওয়া অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী এখন আর আগের মতো নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন না। কেউ দেশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপন করে আছেন, আবার কেউ সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান বদল করছেন। অনেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করে ফেলেছেন এবং পরিচিত সহযোগীদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন।
৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম রাসু, আরমান, সানজিদুল ইসলাম ইমন, আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, আসলাম, কাইল্যা সোহেলসহ শতাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সবাই আত্মগোপনে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিদেশে আত্মগোপন করেছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর অজানা আতঙ্কে আত্মগোপন করেন।
পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকা-গুলোর পর অনেকেই নিজেদের টার্গেট মনে করছেন। ফলে তারা প্রকাশ্যে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বের হওয়া অনেক সন্ত্রাসীর পুরোনো নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে গেছে। এ সময় নতুন গ্রুপ এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে পুরোনো বিরোধ আবার সামনে আসছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, জামিনে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সন্ত্রাসীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা অস্ত্রভিত্তিক অপরাধে পুনরায় তাদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাইল্যা পলাশ সংকটাপন্ন, থানায় মামলা:
রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা’ পলাশকে গুলির ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসীর ক্যাডার বাহিনী তাকে আগে থেকে অনুসরণ করে টার্গেটে রেখে গুলি চালায়। এর আগে তাকে ফোনে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য দিয়ে বলেন, মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য সংগ্রহ করে তার উপর গুলি চালানো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওসি বলেন, পলাশ রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদ- দিয়েছিল পলাশকে। পরে উচ্চ আদালত তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়। গুলিবিদ্ধ পলাশ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পলাশের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। গুলিটি তার কপাল দিয়ে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে আঘাত হেনে মাথার অপর পাশে আটকে ছিল। এতে মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা মাথার খুলি খুলে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘পলাশের মাথার ভেতর থেকে এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মস্তিষ্কের প্রায় অর্ধেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কে কোথায়?

আপডেট সময় ০৭:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক সময়ের প্রভাবশালী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী এখন প্রকাশ্যে চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন, আবার কেউ কেউ নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সর্বশেষ রাজধানীর রামপুরা এলাকায় আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় অপরাধ জগতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণের সামনে জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। কয়েকদিন আগে আরেক আলোচিত সন্ত্রাসী টিটনও দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন হত্যাকা- নয় বরং পুরোনো আধিপত্য, আর্থিক স্বার্থ, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিশোধের রাজনীতির জটিল সমীকরণও এর পেছনে কাজ করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, জামিনে মুক্তি পাওয়া অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী এখন আর আগের মতো নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন না। কেউ দেশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপন করে আছেন, আবার কেউ সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান বদল করছেন। অনেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করে ফেলেছেন এবং পরিচিত সহযোগীদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন।
৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম রাসু, আরমান, সানজিদুল ইসলাম ইমন, আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, আসলাম, কাইল্যা সোহেলসহ শতাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সবাই আত্মগোপনে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিদেশে আত্মগোপন করেছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর অজানা আতঙ্কে আত্মগোপন করেন।
পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকা-গুলোর পর অনেকেই নিজেদের টার্গেট মনে করছেন। ফলে তারা প্রকাশ্যে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বের হওয়া অনেক সন্ত্রাসীর পুরোনো নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে গেছে। এ সময় নতুন গ্রুপ এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে পুরোনো বিরোধ আবার সামনে আসছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, জামিনে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সন্ত্রাসীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা অস্ত্রভিত্তিক অপরাধে পুনরায় তাদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাইল্যা পলাশ সংকটাপন্ন, থানায় মামলা:
রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা’ পলাশকে গুলির ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসীর ক্যাডার বাহিনী তাকে আগে থেকে অনুসরণ করে টার্গেটে রেখে গুলি চালায়। এর আগে তাকে ফোনে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য দিয়ে বলেন, মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য সংগ্রহ করে তার উপর গুলি চালানো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওসি বলেন, পলাশ রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদ- দিয়েছিল পলাশকে। পরে উচ্চ আদালত তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়। গুলিবিদ্ধ পলাশ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পলাশের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। গুলিটি তার কপাল দিয়ে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে আঘাত হেনে মাথার অপর পাশে আটকে ছিল। এতে মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা মাথার খুলি খুলে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘পলাশের মাথার ভেতর থেকে এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মস্তিষ্কের প্রায় অর্ধেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।