প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর কর উঠিয়ে নিয়ে আমরা জিনিসপত্রের দাম না বাড়ার ব্যবস্থা করেছি। একটি জনবান্ধব বাজেট উপহার দিয়েছি। এ বাজেট বাস্তবায়ন করে আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই।
গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৌর বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ‘এবারের বাজেটে আমরা কী করেছি? সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর কর উঠিয়ে নিয়েছি । এই বাজেটে আমরা সাধারণ মানুষের যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডাল, তেল, চিনি, নুন, লবণ এই যে জিনিসগুলো মসলা এইগুলোর ওপরে আগে যে ট্যাক্স ছিল সেই ট্যাক্স আমরা উঠিয়ে নিয়েছি যাতে করে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে।’
প্রস্তাবিত বাজেটে কিডনি রোগীর চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত ওষুধপত্র থেকে চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর থেকে কর হ্রাস, হৃদরোগের চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত সরঞ্জামাদির ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নেওয়ার ফলে চিকিৎসা খরচ কমিয়ে আনা, চোখের ছানি অস্ত্রোপচার সংশ্লিষ্ট লেন্সের ওপর কর বাতিল প্রভৃতি বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘জনগণের পকেট থেকে আগে যেখানে এক লাখ টাকা খরচ হতো সেখানে এখন অর্ধেক টাকা খরচ হলে লাভটা কার? অবশ্যই জনগনের।’
প্রস্তাবিত বাজেটের বিপক্ষে বিরোধী দলের অবস্থানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মদের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর প্রতিবাদ জানায়, সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়লে প্রতিবাদ জানায় তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে এদের জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করতে দেখেছি। এখন তারা আর টিকিট বিক্রির কথা বলে না। কেন বলে না? কারণ ওই টিকিটের দেওয়ার মালিকানা বা ক্ষমতা তাদের নেই। তারা জনগণকে ঠকিয়ে শুধু জনগণের ভোটটা নিতে চেয়েছিল, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল।
এরা জনগনের স্বার্থে, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়ক চার থেকে ছয় লেন করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এয়ারপোর্ট থেকে আসার পথে আমি সালাহ উদ্দিন আহমদ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম যে এই রাস্তাটা চট্টগ্রাম চলে গেছে। এটি আমি আজ থেকে ২৫ বছর আগে যেমন দেখে গেছি আজও একই রকম রয়ে গেছে।’
এই রাস্তাটি আগামী দিনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি অন্ততপক্ষে চার থেকে ছয় লেন হওয়া উচিত। ইনশআল্লাহ আমরা দ্রুতই এই রাস্তার কাজে হাত দেব।
চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার সড়কটি আমরা চার থেকে ছয় লেন করব, ইনশাআল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। মাতারবাড়ী পোর্ট কয়েকদিন পর চালু হবে।
একনেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালী রাস্তাটি আমরা বড় করব, ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী মাতামুহুরী উপজেলা ও থানা উদ্বোধন করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জনসভাস্থলে পৌঁছেন। মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান। জনসভাটি হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
কক্সবাজারের লবণচাষ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে লবণচাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়ার খবর পড়ে আমি কর্মকর্তাদের কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য দেওয়ার উপায় বের করার নির্দেশ দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা একটি দাম নির্ধারণ করব যাতে চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পায়।
প্রতি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একশ’ বেড হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে, ৫০ বেডের স্বাস্থ্য উপজেলা কমপ্লেক্স আছে, সেটিকে আমরা ১০০ বেডে রূপান্তরিত করব।
যাতে করে গ্রামের, উপজেলার, পৌরসভার মানুষকে দূরে, চট্টগ্রামে বা ঢাকায় যেতে না হয়।’
তিনি বলেন, যাতে করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পায়। বাজেটে আমরা এই খাতে অর্থ বরাদ্দ করেছি যাতে করে প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ বেডে রূপান্তরিত করতে পারি।
নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সবসময় কক্সবাজারের মানুষজন ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাবেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বক্তব্য রাখেন। জনসভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ‘সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই। ‘
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়শই শুনতাম, বাংলাদেশকে আমরা সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলবো, বাংলাদেশকে আমরা কানাডা বানিয়ে ফেলবো, বাংলাদেশকে অমুক বানিয়ে ফেলব। আমি বাংলাদেশকে অন্য কিছু বানাতে চাই না।
বাংলাদেশকে আমি একটু বেটার বানাতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই কাজটি সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, আমাদের সবাইকে মিলে করতে হবে।’
শনিবার রাতে কক্সবাজারে স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কক্সবাজার শহরকে ‘পরিচ্ছন্ন নগরী’ করার প্রয়োজনীয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার শহরে প্রবেশের সময় একটা বিরাট বড় সাইনবোর্ড দেখেছি, ওখানে লেখা আছে ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সী বিচ, স্যান্ডি সী বিচ’।
আপনারা সকলে মিলে কক্সবাজারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই কক্সবাজারকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে আপনাদের সবাইকে কিন্তু এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, কক্সবাজারকে আপনারা সুশৃঙ্খল একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, যেখানে সবগুলো যান শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে, সুন্দরভাবে পার্কিং করবে, সুন্দরভাবে চলাচল করবে, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলাচল করবে। যেখানে মানুষ হাঁটার সময় নিরাপদ বোধ করবে।’
বিগত ১৭ বছর কেন কক্সবাজারের কোনো উন্নয়ন হয়নি-প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ফেরার পর গত সাড়ে চার মাসে আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি এবং বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, যে কাজগুলোর কথা বলা হচ্ছে, এই কাজগুলো ১৭ বছর হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক কাজ জমে গেছে। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে, দেশকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হলে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে আমাদের অনেকগুলো কাজ করতে হবে। ‘
কক্সবাজার বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তর করা, কক্সবাজারে মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্যগণ ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদও ছিলেন।
পরে, প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন। রাত সোয়া ১২ টার দিকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদ শিরোনাম
এ বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট : প্রধানমন্ত্রী
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৭:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- 150
গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৌর বাস টার্মিনালের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন । ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























