ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আজ বুধবার বিজয়া দশমী Logo পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে-এমপি হাফিজ ইব্রাহিম Logo এম ক্যাশ লিঃ-এর বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত Logo বোরহানউদ্দিনে ২০টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, ৯০০ পরিবারের হাতে উপহার ও নগদ অর্থ দিলেন এমপি হাফিজ ইব্রাহিম Logo বিকেবি অফিসার কল্যাণ সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত Logo নাজিরপুরে পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সুমন মঞ্জুর Logo বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ-স্পিকার হাফিজ Logo টঙ্গীতে সেতু বন্ধন বরিশাল বিভাগীয় জনকল্যাণ সমিতির কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা Logo ঈশ্বরগঞ্জে লাঠি-বৈঠা হাতে নিয়ে নিষিদ্ধ আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল Logo গঙ্গাচড়ায় ঝুকিপুর্ণ নোহালী ইউপি ভবনে চলছে কার্যক্রম

প্রাথমিকে ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হবে: শিক্ষামন্ত্রী

  • ইকবাল হোসেন:
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • 234

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘ নয় বছরের আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে।
তিনি বলেন, সরকারের আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সারা দেশে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য পদে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হবে। একইসাথে এসব পদে খালি হতে যাওয়া পদসহ আরো ৩৮ হাজার ৪৪৩টি পদে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত রায়ের বিবরণ ও সরকারের পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আপিল বিভাগ ‘সিভিল আপিল নং-৭৩/২০২৩ মামলায়’ সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতার অবসান ঘটে মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণ অধিকার ফেরত পেয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৩ সালের নিয়োগবিধির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধি ৯(১)-এর চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট বিধানটি বেআইনি ঘোষণা করলে সরকার পক্ষ আপিল করে। পরে আপিল বিভাগ ‘স্ট্যাটাস কো’ আদেশ দেওয়ায় সারা দেশে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, দীর্ঘ ৯ বছর মামলাজনিত কারণে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি স্কুলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রায় ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান মারাত্মকভাবে বিঘিœত করে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পিএসসিতে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। পিএসসি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নিয়োগ ও পদোন্নতি দ্রুত সম্পন্ন করবে।
বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের মোট ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর মামলাজনিত কারণে এই ৮০ শতাংশ কোটার পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য হয়ে পড়ে, যা এই রায়ের ফলে এখন দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
ইতোমধ্যে প্রক্রিয়ায় থাকা প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা তাদের দ্রুত ট্রেনিংয়ে পাঠাবো। ইমিডিয়েটলি তাদের এই ট্রেনিং হবে দুই মাসের।’
মন্ত্রী জানান, মূলত প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সংকটের কারণে প্রথাগত দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিংয়ের পরিবর্তে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই দুই মাসের সংক্ষিপ্ত ট্রেনিং শেষ করার পরপরই শিক্ষকেরা সরাসরি বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন।
তিনি আরো জানান, শিক্ষকদের সেশন জট এড়াতে প্রচলিত নয় মাসের পিটিআই ট্রেনিংয়ের পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং দিয়ে তাদের সরাসরি বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিগত চার মাস ধরে আমরা এই জটিলতা থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ের কারণে আজ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করল। আমরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত।’
সূত্র : বাসস

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজ বুধবার বিজয়া দশমী

প্রাথমিকে ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৩৬:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘ নয় বছরের আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে।
তিনি বলেন, সরকারের আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সারা দেশে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য পদে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হবে। একইসাথে এসব পদে খালি হতে যাওয়া পদসহ আরো ৩৮ হাজার ৪৪৩টি পদে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত রায়ের বিবরণ ও সরকারের পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আপিল বিভাগ ‘সিভিল আপিল নং-৭৩/২০২৩ মামলায়’ সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতার অবসান ঘটে মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণ অধিকার ফেরত পেয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৩ সালের নিয়োগবিধির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধি ৯(১)-এর চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট বিধানটি বেআইনি ঘোষণা করলে সরকার পক্ষ আপিল করে। পরে আপিল বিভাগ ‘স্ট্যাটাস কো’ আদেশ দেওয়ায় সারা দেশে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, দীর্ঘ ৯ বছর মামলাজনিত কারণে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি স্কুলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রায় ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান মারাত্মকভাবে বিঘিœত করে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পিএসসিতে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। পিএসসি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নিয়োগ ও পদোন্নতি দ্রুত সম্পন্ন করবে।
বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের মোট ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর মামলাজনিত কারণে এই ৮০ শতাংশ কোটার পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য হয়ে পড়ে, যা এই রায়ের ফলে এখন দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
ইতোমধ্যে প্রক্রিয়ায় থাকা প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা তাদের দ্রুত ট্রেনিংয়ে পাঠাবো। ইমিডিয়েটলি তাদের এই ট্রেনিং হবে দুই মাসের।’
মন্ত্রী জানান, মূলত প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সংকটের কারণে প্রথাগত দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিংয়ের পরিবর্তে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই দুই মাসের সংক্ষিপ্ত ট্রেনিং শেষ করার পরপরই শিক্ষকেরা সরাসরি বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন।
তিনি আরো জানান, শিক্ষকদের সেশন জট এড়াতে প্রচলিত নয় মাসের পিটিআই ট্রেনিংয়ের পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং দিয়ে তাদের সরাসরি বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিগত চার মাস ধরে আমরা এই জটিলতা থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ের কারণে আজ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করল। আমরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত।’
সূত্র : বাসস