ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি Logo কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ Logo জাংগালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন সম্পর্কে র‌্যালি ও আলোচনা Logo নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন দুই হাইকোটের বিচারপতি Logo মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ Logo ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে ৭৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo পাঁচবিবিতে মাওড়িতলা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, লাইট পোস্ট দাবি Logo স্পিকারের এপিএস সবুজকে ঘিরে অপপ্রচার, প্রতিবাদ Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপকুলবাসী পেল ইউবিইএসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত অনুমোদন Logo মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জন খালাস

ডেভিড ইমনের কাছে মিললো ভারতের ভুয়া আধার কার্ড, নাম ‘আজহার খান’

‘আজহার খান’ নামে ভারতের ভুয়া আধার কার্ড ব্যবহার করতেন ডেভিড ইমন

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ‘আজহার খান’ নামে ভারতের ভুয়া আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের সময় ওই নামে তৈরি একটি ভুয়া আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি পিস্তল, এলজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ‘আজহার খান’ নামে একটি ভারতীয় ভুয়া আধার কার্ড জব্দ করা হয়। পুলিশের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ওই পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণের জন্য লোকজন প্রস্তুত ছিল।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন তার অপরাধচক্র, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি এলজি ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগী রায়হান চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। চাঁদাবাজির অর্থের একটি অংশ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো। এছাড়া ওই অর্থের কিছু অংশ বিভিন্ন তদবিরকারীর কাছেও পৌঁছে দেওয়া হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, পার্বত্য অঞ্চলভিত্তিক একটি সশস্ত্র সংগঠন থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ডেভিড ইমনের গ্রুপ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করতো বলে তদন্তে তথ্য মিলেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে ধামা ইলিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরে অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার একাধিক হত্যাকা-ে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ডেভিড ইমনের কাছে মিললো ভারতের ভুয়া আধার কার্ড, নাম ‘আজহার খান’

আপডেট সময় ১১:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ‘আজহার খান’ নামে ভারতের ভুয়া আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের সময় ওই নামে তৈরি একটি ভুয়া আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি পিস্তল, এলজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ‘আজহার খান’ নামে একটি ভারতীয় ভুয়া আধার কার্ড জব্দ করা হয়। পুলিশের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ওই পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণের জন্য লোকজন প্রস্তুত ছিল।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন তার অপরাধচক্র, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি এলজি ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগী রায়হান চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। চাঁদাবাজির অর্থের একটি অংশ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো। এছাড়া ওই অর্থের কিছু অংশ বিভিন্ন তদবিরকারীর কাছেও পৌঁছে দেওয়া হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, পার্বত্য অঞ্চলভিত্তিক একটি সশস্ত্র সংগঠন থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ডেভিড ইমনের গ্রুপ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করতো বলে তদন্তে তথ্য মিলেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে ধামা ইলিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরে অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার একাধিক হত্যাকা-ে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।