ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের Logo ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার Logo সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত Logo দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আগে রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী Logo নরসিংদীতে জনপ্রিয় মালয়েশিয়ার রুটি চানাই Logo সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ, তিন মাসে আয় ১৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার Logo ম্যাকগ্রার রেকর্ড ভেঙে স্টার্কের ইতিহাস, নিলেন ৪৫০ উইকেট Logo সিসি ক্যামেরা নাকি আইপি ক্যামেরা, নিরাপত্তায় কোনটি সেরা?

রৌমারীতে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে চরম দুর্ভোগ, এলাকার মানুষের আহাজারি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ভারি বর্ষণে ভেঙ্গে পড়েছে সেতুর দু’পাশের সংযোগ সড়ক। সৃষ্টি হয়েছে গভির খাদ। জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ২০ হাজার মানুষের। এতে চরম দুভোগে পড়েছে এলাকার মানুষ। দ্রুত সংস্কারের দাবী প্রশানের নিকট। গত রবিবার (৯ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রামের খালের উপর ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্য একটি পাঁকা ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। ভারি বর্ষনের কারনে সেতুর সংযোগ সড়কের দুই পাশে বড় অংশে ধসে গিয়ে তৈরী হয়েছে গভীর খাদে। এতে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল। স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর বাওয়াইর গ্রাম ও কাশিয়াবাড়ি গ্রামের সংযোগস্থলে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে সেতুটির নির্মান কাজ লটারির মাধ্যমে কাজটি পাওয়া জামালপুরের জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমইএম এন্টারপ্রাইজের মালিক প্রোঃ মো. সামসুদ্দিন দিলিপ। ব্রীজের কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে রংয়ের কাজ ও প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সেতুর দু’পাশে ১৯০ মিটার করে পাকা রাস্তা ও নিচু জায়গায় গাইড ওয়াল তৈরীর কথা ছিল। তবে দু’বছর আগে সেতুর কাজ শেষ হলেও গাইড ওয়াল ও সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমের টানা বৃষ্টিতে মাটি ধসে গিয়ে সেখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে মাঝে মধ্যে মোটরসাইকেল, স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অটোবাইক, মালামালের অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন খাদে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গত সপ্তাহে এক বৃদ্ধ গর্তে পড়ে গিয়ে পা ও কোমড় ভেঙ্গে যায়। দ্রুত সংস্কার না হলে যে কোনদিন আরো বড়ধরনের দুর্ঘনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা দলিল লেখক আনিছুজ্জামান আনিছ জানান, ব্রীজের কাজ শেষ হলেও রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। পথচারীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত মাটি ভরাটের কাজ করলে সমস্যা সমাধান হবে। এবিষয়ে রৌমারী উপজেলা এলজিইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, জমির মালাকানা সংক্রান্ত জটিলতায় সেতুর দু’পাশের গাইড ওয়াল নির্মান সম্ভব হয়নি। বিষয়টি উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষতে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী (ভারঃ) সৌরভ কুমার বিশ্বাস বলেন, ঠিকাদারকে বারবার সংস্কারের কাজের কথা বলা হচ্ছে, এবং নোটিশও দেয়া হয়েছে। কেন যে কাজ করছে না, জানি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসান জানান, আমিতো মাত্র কয়েকদিন হলো এসেছি। তবে খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের

রৌমারীতে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে চরম দুর্ভোগ, এলাকার মানুষের আহাজারি

আপডেট সময় ০১:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ভারি বর্ষণে ভেঙ্গে পড়েছে সেতুর দু’পাশের সংযোগ সড়ক। সৃষ্টি হয়েছে গভির খাদ। জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ২০ হাজার মানুষের। এতে চরম দুভোগে পড়েছে এলাকার মানুষ। দ্রুত সংস্কারের দাবী প্রশানের নিকট। গত রবিবার (৯ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রামের খালের উপর ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্য একটি পাঁকা ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। ভারি বর্ষনের কারনে সেতুর সংযোগ সড়কের দুই পাশে বড় অংশে ধসে গিয়ে তৈরী হয়েছে গভীর খাদে। এতে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল। স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর বাওয়াইর গ্রাম ও কাশিয়াবাড়ি গ্রামের সংযোগস্থলে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে সেতুটির নির্মান কাজ লটারির মাধ্যমে কাজটি পাওয়া জামালপুরের জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমইএম এন্টারপ্রাইজের মালিক প্রোঃ মো. সামসুদ্দিন দিলিপ। ব্রীজের কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে রংয়ের কাজ ও প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সেতুর দু’পাশে ১৯০ মিটার করে পাকা রাস্তা ও নিচু জায়গায় গাইড ওয়াল তৈরীর কথা ছিল। তবে দু’বছর আগে সেতুর কাজ শেষ হলেও গাইড ওয়াল ও সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমের টানা বৃষ্টিতে মাটি ধসে গিয়ে সেখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে মাঝে মধ্যে মোটরসাইকেল, স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অটোবাইক, মালামালের অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন খাদে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গত সপ্তাহে এক বৃদ্ধ গর্তে পড়ে গিয়ে পা ও কোমড় ভেঙ্গে যায়। দ্রুত সংস্কার না হলে যে কোনদিন আরো বড়ধরনের দুর্ঘনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা দলিল লেখক আনিছুজ্জামান আনিছ জানান, ব্রীজের কাজ শেষ হলেও রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। পথচারীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত মাটি ভরাটের কাজ করলে সমস্যা সমাধান হবে। এবিষয়ে রৌমারী উপজেলা এলজিইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, জমির মালাকানা সংক্রান্ত জটিলতায় সেতুর দু’পাশের গাইড ওয়াল নির্মান সম্ভব হয়নি। বিষয়টি উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষতে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী (ভারঃ) সৌরভ কুমার বিশ্বাস বলেন, ঠিকাদারকে বারবার সংস্কারের কাজের কথা বলা হচ্ছে, এবং নোটিশও দেয়া হয়েছে। কেন যে কাজ করছে না, জানি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসান জানান, আমিতো মাত্র কয়েকদিন হলো এসেছি। তবে খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।