সুপ্রীমকোর্টের আদেশ অমান্য করে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউনিয়নের পোতাজিয়া সরকারপাড়া গ্রামের টেক্কা খান ও তার শরীকদের ৪টি মৌজার ১৯.০৯ একর জমির খাজনা খারিজ না দেওয়ার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার(২১মার্চ) দুপুরে টেক্কা খান নামের এক কৃষক তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে কৃষক টেক্কা খান বলেন, উপজেলার বৃ-অঙ্গারু, খারুয়ানন্দী, পোতাজিয়া ও রামকান্তপুর এই ৪টি মৌজার ১৯.০৯ একর জমি ক্রয়সূত্রে আমার পূর্ব পুরুষগণ এই সম্পত্তির মালিক হন। এ সংক্রান্ত সমুদয় কাগজপত্র থাকা সত্বেও আমাদের এ সম্পত্তি ১৯৭৮ সালে অবৈধভাবে অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এর বিরুদ্ধে ১৯৮২ সালে সিরাজগঞ্জ সাব-জজ আদালতে মামলা দায়ের করলে আমলী আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্ট এ রায় বহাল রাখেন। এরপেক্ষিতে ২০১৬ সালে আমাদের ২.৪২ একর জমির খাজনা খারিজ দেয় উপজেলা ভূমি অফিস। বাদ বাকি জমির খারিজ নামঞ্জুর করে উপজেলা ভূমি অফিস। এরপর ২০১৮ সালে এডিসি (রেভিনিউ)’এ আপীল দায়ের করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আপীল মনঞ্জুর করিয়া হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্টর রায় বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেন। এরমধ্যে হঠাৎ জমিন গং ঢাকা আপীল বোর্ড সেগুন বাগিচা শাখায় ২০২২ সালে ২৪মার্চ মামলা দায়ের করে এর পেক্ষিতে আমাদের উপজেলা ভূমি অফিস আর খাজনা খারিজ দেয় না। অথচ ঢাকা আপিল বোর্ড মামলাটি এখনো গ্রহন করে নাই। তাই আমরা ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর আবারও খাজনা খারিজের আবেদন করি কিন্তু শাহজাদপুর উপজেলা ভূমি অফিস তা বন্ধ রেখে ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ করেননি। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) লিয়াকত সালমান জানান, ঢাকা আপিল বোর্ডে মামলাটি চলমান থাকায় খাজনা খারিজ দেওয়া হয়নি। আপিল বোর্ডের রায় হলে কাগজপত্র যাচাইবাছাই ও পর্যালোচনা করে এ সম্পত্তির ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ করা হবে।