বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

বর্তমান সরকারের নির্বচানী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুরু হয়ে গেছে মরা নদী ও খাল খনন কাজ। পাশাপাশি খুলনায় নদী ও খাল খননের কার্যক্রম চলমান থাকায় বদলে যাবে খুলনাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি। যার লক্ষ্য জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি। এতে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল হবে। খুলনাঞ্চলের মানুষ আশার আলো দেখছে কৃষিখাতে। ময়ূর নদী ভদ্রা সালতা কামারগাতি খাল খননে ইতোমধ্যে প্রায় পৌনে ২শ’ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সূত্রমতে, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা “কথা দিয়ে কথা রাখেনা কেউ” প্রবাদটি অবশেষে খুলনায় ব্যতিক্রম হচ্ছে। কথা রেখেছেন বিএনপি সরকার ও তার এমপি’রা। সম্প্রতি খুলনা-৫ আসনের এমপি আলি আসগার লবি ভদ্রা নদী পুন:খননের কাজ উদ্বোধন করেছেন। দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে চলেছে। আলি আসগার লবি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবসময় গ্রামবাংলার উন্নয়ন, কৃষকের কল্যাণ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবেই আজকের এই খাল খনন কর্মসূচির বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার কারণে এলাকার বহু খাল ভরাট হয়ে গেছে, ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে পরিকল্পিতভাবে খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষি জমিতে সঠিক সময়ে পানি পৌঁছায় এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খালগুলো সচল হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বিল ডাকাতিয়া আগামীতে আশার আলো দেখতে চলেছে। বিল ডাকাতিয়ার দুঃখ বলে পরিচিত ভদ্রা নদী খনন কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে তলিয়ে থাকা বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য ডুমুরিয়ার পার্শ্ববর্তী গুটু দিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে চলা ভদ্রা নদীটি পুনরায় খনন কাজ চলছে। খনন কাজ পরিচালনা করতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নদীর চরে গড়ে ওঠা বসতি, মৎস্য ঘের, ব্যক্তি মালিকানা জমিতে গাছ গাছালির ক্ষতি করে খনন করা মাটি উঁচু করে রাখার কারণে মালিকপক্ষের সাথে নদী খনন কমিটির বাগ বিতান্ড সৃষ্টি হচ্ছে। তার কারণে মাঝে মাঝে কাজ বন্ধ হয়ে পড়ছে। বিশাল উঁচু মাটির স্তুপের কারণে ঘের মালিকপক্ষের মৎস্য চাষের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে জমির মালিকপক্ষ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছে। অন্যদিকে, নদী খনন কর্তৃপক্ষ বলছে প্রচুর পরিমাণে মাটি মালিকপক্ষের জমির উপরে না রাখলে রাখার কোন জায়গা নাই। তারা আরো বলছে নদী খনন করলে উপকৃত হবে বিল ডাকাতিয়ার জমির মালিক পাশাপাশি গুটুদিয়া ইউনিয়নের জনগণ। নদী খনন করে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না করলে ডুমুরিয়া উপজেলার কয়েকটি অঞ্চল প্রতি বছর মৎস্য চাষ ও সবজি চাষ বিঘ্নিত হয় যার কারণে শত শত কোটি টাকা কৃষি খাতে লোকসান হয়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় কাজের গতি অনেক দ্রুত। গুডুদিয়া ইউনিয়ন বাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও সকলে চাইছে নদীটা খনন করে এলাকার জলব্ধতা নিরসন হোক। মৎস্য ব্যবসায়ী আতাউর রহমান জানায়, নদী খননের ফলে ব্যক্তিগত আমার ঘেরগুলো অনেক বেশি পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে তারপরও আমি বলব নদী খনন খুবই জরুরী। শোলমারী নদী থেকে কাজ শুরু হয়ে ভদ্রা নদী হয়ে ডুমুরিয়া বাজারের উপর দিয়ে বিল ডাকাতিয়া যেয়ে শেষ হবে কাজ। কাজের গতি দ্রুত তারপরও বর্ষা মৌসুমের আগে শেষ করতে না পারলে বিপাকে পড়ে যাবে এলাকাবাসী। ইতিমধ্যে কাজ পরিদর্শন করে এসেছে এলাকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি। এদিকে, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নে কৃষি উন্নয়ন ও নদী ভাঙন রোধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্প দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক জনাব আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বারাকপুর-দিঘলিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় কামারগাতি খালের ১ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরপর তিনি মোমিনপুর এলাকায় আতাই নদীর ভাঙন রোধে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (ঔওঈঅ) সহযোগিতায় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৪৯১ মিটার দীর্ঘ নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের ফলক উন্মোচন করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই উন্নয়নমূলক কাজগুলো শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য, খুলনাঞ্চলে ময়ূর নদী, ভদ্রা ও সালতা নদী এবং দিঘলিয়ার কামারগাতি খাল খনন প্রকল্পগুলো উল্লেখযোগ্য। ময়ূর নদী খননে ৪ বছরে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা এবং ভদ্রা ও সালতা নদী পুনর্খননে ৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রায় ৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ময়ূর নদীর নতুন খনন কাজ শুরু হয়েছে, যা শেষের পথে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com