ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের Logo ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার Logo সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত Logo দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আগে রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী Logo নরসিংদীতে জনপ্রিয় মালয়েশিয়ার রুটি চানাই Logo সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ, তিন মাসে আয় ১৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার Logo ম্যাকগ্রার রেকর্ড ভেঙে স্টার্কের ইতিহাস, নিলেন ৪৫০ উইকেট Logo সিসি ক্যামেরা নাকি আইপি ক্যামেরা, নিরাপত্তায় কোনটি সেরা?

উলিপুরে প্রায় তিন বছর আগে ভেঙে গেছে ব্রীজ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের কাকজী পাড়া এলাকার বুড়ি তিস্তা খালের উপর ব্রীজটি ভেঙে পরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পরে, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ছোট একটি কাঁঠের সাঁকো করা হয়। সেই কাঁঠের সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাকজীপাড়া, আমভন্দ্র পাড়া, চাকরি ঘুঘুরাম পান্ডলসহ ৭টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করছেন। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।সামান্য অসতর্ক হলেই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে সাঁকোটি হয়ে উঠেছে পারাপারের একমাত্র ভরসা। গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের এই ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার পর বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় লোকজন কাঠের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী,ব্যবসায়ী নারী শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই কাঁঠের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্ক হলেই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে যাতায়াত করছে এলাকাবাসী। বর্তমানে সাঁকোটি হয়ে উঠেছে পারাপারের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়রা আরো জানান,ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করলেও ব্রীজ সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর। বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠে। স্থানীয় সাইফুল রহমান বলেন, ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই কাঠের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে দেখা যাচ্ছে। পান্ডুল ইউনিয়নের আমভন্দ্র পাড়া এলাকার আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, ব্রীজটি দিয়ে শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষেরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ব্রীজটি সচল থাকাকালে সহজেই এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হতো। বর্তমানে ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-েও ব্যহত হচ্ছ। স্থানীয় শিক্ষার্থী মো.হিরা মিয়া, মোছা. হাফিজা, জুয়েল মিয়া সহ অনেকেই জানায় আমরা প্রতিদিন স্কুল যাতায়াত করতে ভয় লাগে। ভয়ে ভয়ে সেতু পার হতে হয়। বৃষ্টির সময় আসলে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কাকজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমার স্কুলের শিক্ষাথীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজটি পারপার করছে। শুধু শিক্ষাথীরাই নয় বড় গাড়ী না আসায় শিক্ষকরাও অনেক কষ্ট করে আসেন। বৃষ্টি দিন আসলে পায়ে হেটে স্কুলে আসতে হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ব্রীজ দেয়া দরকার। ব্যাবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, কাঁঠের সেতু দিয়ে বড় ধরনের গাড়ী চলাচল না করায় আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারছিনা যদি বড় গাড়ী নিয়ে কাকজী পাড়া গেলে প্রায় ১ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।এতে সময় বেশি লাগে। পান্ডুল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জয়নাল আবেদীন মালদার বলেন, কাঁঠের সাঁকোটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করে দেয়া হয়েছে। নতুন ব্রীজ চেয়ে ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বরাবর আবেদন করেছি। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও মোঃ ফিজানুর রহমান বলেন কাকজী পাড়ার ব্রীজটির বিষয়টি জানি। আমাদের ৫০ ফিট ব্রীজ পর্যন্ত বরাদ্দ আছে। ওখানে লাগবে ৭০ ফিট ব্রীজ যদি ৭০ ফিটের বরাদ্দ পাওয়া যায় তাহলে ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের

উলিপুরে প্রায় তিন বছর আগে ভেঙে গেছে ব্রীজ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় ০৮:১৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের কাকজী পাড়া এলাকার বুড়ি তিস্তা খালের উপর ব্রীজটি ভেঙে পরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পরে, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ছোট একটি কাঁঠের সাঁকো করা হয়। সেই কাঁঠের সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাকজীপাড়া, আমভন্দ্র পাড়া, চাকরি ঘুঘুরাম পান্ডলসহ ৭টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করছেন। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।সামান্য অসতর্ক হলেই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে সাঁকোটি হয়ে উঠেছে পারাপারের একমাত্র ভরসা। গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের এই ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার পর বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় লোকজন কাঠের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী,ব্যবসায়ী নারী শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই কাঁঠের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্ক হলেই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে যাতায়াত করছে এলাকাবাসী। বর্তমানে সাঁকোটি হয়ে উঠেছে পারাপারের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়রা আরো জানান,ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করলেও ব্রীজ সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর। বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠে। স্থানীয় সাইফুল রহমান বলেন, ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই কাঠের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে দেখা যাচ্ছে। পান্ডুল ইউনিয়নের আমভন্দ্র পাড়া এলাকার আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, ব্রীজটি দিয়ে শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষেরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ব্রীজটি সচল থাকাকালে সহজেই এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হতো। বর্তমানে ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-েও ব্যহত হচ্ছ। স্থানীয় শিক্ষার্থী মো.হিরা মিয়া, মোছা. হাফিজা, জুয়েল মিয়া সহ অনেকেই জানায় আমরা প্রতিদিন স্কুল যাতায়াত করতে ভয় লাগে। ভয়ে ভয়ে সেতু পার হতে হয়। বৃষ্টির সময় আসলে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কাকজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমার স্কুলের শিক্ষাথীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজটি পারপার করছে। শুধু শিক্ষাথীরাই নয় বড় গাড়ী না আসায় শিক্ষকরাও অনেক কষ্ট করে আসেন। বৃষ্টি দিন আসলে পায়ে হেটে স্কুলে আসতে হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ব্রীজ দেয়া দরকার। ব্যাবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, কাঁঠের সেতু দিয়ে বড় ধরনের গাড়ী চলাচল না করায় আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারছিনা যদি বড় গাড়ী নিয়ে কাকজী পাড়া গেলে প্রায় ১ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।এতে সময় বেশি লাগে। পান্ডুল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জয়নাল আবেদীন মালদার বলেন, কাঁঠের সাঁকোটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করে দেয়া হয়েছে। নতুন ব্রীজ চেয়ে ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বরাবর আবেদন করেছি। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও মোঃ ফিজানুর রহমান বলেন কাকজী পাড়ার ব্রীজটির বিষয়টি জানি। আমাদের ৫০ ফিট ব্রীজ পর্যন্ত বরাদ্দ আছে। ওখানে লাগবে ৭০ ফিট ব্রীজ যদি ৭০ ফিটের বরাদ্দ পাওয়া যায় তাহলে ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হবে।