বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছাড়া যাকাত ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা পরিচালনা করা সম্ভব না। কেবলমাত্র পূর্ণাঙ্গ ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমেই সঠিক ভাবে যাকাতের হক আদায় করা সম্ভব। যাদের যাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে তাদের নিয়ম যেনে যাকাত দিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে‘অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় যাকাতের ভূমিকা, প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন ও রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের ওলামা বিভাগের পরিচলক মাওলানা রুহুল আমিন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: জাহিদুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরী আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের রাজশাহী মহানগরী সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন ম-ল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানুষের জন্য একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে যদি সৎ লোকের নেতৃত্বকে ক্ষমতায় আনা যায় তাহলে তারাই যাকাত ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
তিনি বলেন, সমাজে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তাহলেই কাল কিয়ামতে আমরা সফল হবো। আর যদি আমাদের চেষ্টায় ত্রুটি থাকে তাহলে কাল কিয়ামতে আমরা ধরা খাবো। কুরআনের জন্য এই রোজার মাসের এত গুরুত্ব। কুরআন না থাকলে রোজার কোন গুরুত্ব থাকতো না। কুরআনের মধ্যে সকল বিধি বিধানের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই কুরআনের বিধান মোতাবেক আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে হবে। যাকাতের মাধ্যমে সকল শ্রেণির খারাপ মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে আসাও একটা বড় কাজ।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি চালু না হলে এদেশে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে না। যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হলে ইসলামী রাষ্ট্র ছাড়া সম্ভব না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সঠিক নিয়মে যাকাত প্রদান করার জন্য জামায়াতের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে ড. কেরামত আলী বলেন, আজকে ইসলামী রাষ্ট্র নেই। তাই যাকাত ব্যবস্থা চালু করতে হলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রয়োজন। তিনি বলেন, সংগঠনের সমাজকল্যাণ তহবিলের যাকাতের টাকা দিয়ে সমাজের দুস্থ ও বেকার লোকজনকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।