বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

১৬ বছর বঞ্চিতদের এবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বইমেলয় স্টল বরাদ্দের দাবি

খবরপত্র ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৪
গত ১৯ নভেম্বর সকাল ১১ ঘটিকায় রাজধানীর শাহজাদপুরের একটি মিলনায়তনে ‘লেখক-প্রকাশক অধিকার সংরক্ষণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ‘লেখক-প্রকাশক সমন্বয় পরিষদ’

আওয়ামী সরকারের আমলে বিগত প্রায় ১৬ বছরে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বঞ্চিত প্রকাশনাগুলোর স্টল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত প্রকাশকরা। গত ১৯ নভেম্বর সকাল ১১ ঘটিকায় রাজধানীর শাহজাদপুরের একটি মিলনায়তনে ‘লেখক-প্রকাশক অধিকার সংরক্ষণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি ওঠে। উক্ত সভায় ‘লেখক-প্রকাশক সমন্বয় পরিষদ’ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সভায় এ বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রকাশকরা বলেন, অমর একুশে বইমেলার শর্তাবলী শিথিল করতে হবে। বিগত প্রায় ১৬ বছরে যেসব প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে, বিশেষ করে জাতীয় গ্রন্থমেলায় স্টল বরাদ্দ পাননি, তাদের স্টল বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘ এ সময়ে যারা বহু বছর স্টল পায়নি তারা এখন প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পাওয়ার মতো সক্ষমতায় পৌঁছে গেছে। সেসব প্রকাশনীগুলোকে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা।
উক্ত সভার আয়োজক ড. মোস্তফা মনোয়ার বলেন, ‘বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলা একাডেমি থেকে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক লেখকদের বই প্রকাশিত হয়েছে। এতে অনেক গুণী লেখকরা বঞ্চিত হয়েছেন। অবিলম্বে বঞ্চিত এসব লেখকদের বই প্রকাশের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু লেখককে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক প্রদান করা হলেও এতে অন্যান্য অনেক যোগ্য লেখক অবমূল্যায়িত হয়েছেন। এ ধরনের বৈষম্য দূর করে যোগ্য ও বরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে তিনি বৈষম্যের শিকার সকল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রন্থমেলার স্টল বরাদ্দের দাবিসহ বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশে সর্বজনীন বইমেলা আয়োজনের আহ্বান জানান।
গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের এএমডি মাহমুদুল হাসান জানান, ‘গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স ২০১৮ সাল থেকে বাংলা একাডেমির বইমেলায় স্টল বরাদ্দের জন্য আবেদন করে আসছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, স্টল পাওয়ায় জন্য যেসব কন্ডিশন আছে, তা পূরণ করা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো স্টল পায়নি। উপরন্তু আমাদের বইকে মানহীন বই বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। অথচ গোটা দেশে লাখো পাঠক আছে আমাদের।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় বইমেলায় অংশ নেওয়ার বা অংশগ্রহণের সুযোগ প্রত্যেকের। কিন্তু গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সসহ আরও কিছু রিনাউন্ড প্রতিষ্ঠানকে একাডেমি কর্তৃপক্ষ অন্যায় ও অন্যায্যভাবে বঞ্চিত করে আসছে। এতে বাংলা গার্ডিয়ানসহ বঞ্চিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং রেপ্যুটেশন লস করেছে। এবারের আসন্ন বইমেলায় বাংলা একাডেমি তাদের পূর্বের এই দায় এবং ফ্যাসিস্ট আচরণ কীভাবে শোধ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। দ্বিতীয় স্বাধীনতা তথা অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা বাংলা একাডেমির থেকে ন্যায্য আচরণ ও অধিকার প্রত্যাশা করি।’
বুক পয়েন্ট প্রকাশনীর কর্ণধার মুসা খান বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলা একাডেমিসহ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বিভিন্ন বইমেলায় রাজনৈতিকভাবে স্টল বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। অনেকের প্রকাশনা না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ইসলামী ঘরানার কোনো প্রকাশনীকে স্টল দেয়া হয়নি। এমনকি যেসব ইসলামী ঘরানার প্রকাশনীগুলো স্টল বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছে, তাদেরকে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। সকল ধরনের বৈষম্য দূর করে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রকাশনীগুলোকে স্টল বরাদ্দের জন্য বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
উক্ত সভায় লেখক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসির হেলাল, ইব্রাহীম মণ্ডল, ড. আবু হানিফ খান, আলী আহমাদ মাবরুর, নাসিমুল বারী, সালমান রিয়াজ, ইয়াসিন মাহমুদ, অহিদ সালিম প্রমুখ। প্রকাশক ও প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুক পয়েন্ট প্রকাশনীর মুসা খান, প্রফেসরস পাবলিকেন্সের ফাহাদ হোসেন, আহসান পাবলিকেশন্সের গোলাম কিবরিয়া, বিন্দু প্রকাশনের আব্দুল জব্বার, পরিলেখ প্রকাশনীর শাহাদাত সরকার, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের মাহমুদুল হাসান, মুনলাইট প্রকাশনীর আহসান হাবীব, কৈশোর প্রকাশনীর আহসান হাবীব, প্রচ্ছদ পাবলিকেশন্সের শাহমুন নাকীব ফারাবী, ইনভেলাপ প্রকাশনীর হাসনাইন ইকবাল, বিআইআইটি’র ড. আব্দুল আজিজ ও লোকমান, বাংলা সাহিত্য পরিষদের তৌহিদুর রহমান, আত্মপ্রকাশনের আফসার নিজাম, দেশজ প্রকাশনের মনিরুল ইসলাম, পিদিম প্রকাশনের অহিদুজ্জামান প্রমুখ।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com