রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপিনেতা লাভলু মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিককে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসুচি পালন করেছেন উপজেলাবাসীর ব্যানারে বিক্ষুব্ধ হাজারো মানুষ। বুধবার(২৩এপ্রিল) দুপুরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারের বাসভবন এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে। বিক্ষোভ শেষে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তায় শুয়ে পড়লে বদরগঞ্জ-রংপুর গামী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিকল্প সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, বহিষ্কৃত বিএনপিনেতা হুমায়ুন কবীর মানিক, ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম মুন্না, সাবেক ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম, সাবেক শ্রমিকদল নেতা আবুজার গিফারী কারেন্ট মন্টু ও নিহত লাভলু মিয়ার মেয়ে লাকী বেগম। সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, লাভলু হত্যাকা-ের ১৮দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মূল আসামী মানিক চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এবিষয়ে বার বার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা নাকি মানিক চেয়ারম্যানকে খুঁজে পাচ্ছেনা। অথচ মানিক চেয়ারম্যান সবসময় ইউপি মেম্বারদের সাথে যোগাযোগ করছে এবং দিক নির্দেশনা দিচ্ছে। এমনকি সে ভিডিও কন্ফারেন্স করে শফিকুল মেম্বারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সে ঘন্টার পর ঘন্টা ভিডিও কন্ফারেন্সে বক্তব্য রাখল অথচ পুলিশ তাকে খুঁজে পেলনা। তিনি পুলিশের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, অবিলম্বে মানিক চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তখন কি হবে তা’ একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। মানববন্ধন শেষে শহিদুল হক মানিককে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য- এসএসসি পরীক্ষার কারণে পূর্ব ঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশ স্থগিত করার পাশাপাশি ২৭ এপ্রিলের হরতাল কর্মসুচি প্রত্যাহার করা হয়।